১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শিশুপুত্রকে গলা কেটে হত্যা করলো বাবা


নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ ॥ জেলার পাকুন্দিয়ায় হত্যার তিনদিন পর মেঝেতে পুঁতে রাখা ইমরান মিয়া (৩) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে গভীর রাতে ঘুমন্ত শিশুপুত্রকে ধারালো কাচি দিয়ে গলাকেটে হত্যার অভিযোগে পুলিশ নেশাখোর পাষণ্ড বাবা আবুল কাশেমকে আটক করেছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের জুনিয়াইল গ্রামের সুলতান উদ্দিনের ছেলে রিকশাচালক আবুল কাশেমের সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকায় স্ত্রী পারভীন আক্তারের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না।

তাদের সংসারে ৫ বছরের একটি মেয়ে ও ইমরান মিয়া (৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে। এদিকে নেশাখোর স্বামী থেকে দূরে থাকতে কয়েক মাস আগে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টে চাকরি নেয়। সপ্তাহখানেক আগে বাবা শিশুপুত্র ইমরানকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে বাবা আবুল কাশেম ঘুমন্ত শিশুপুত্রকে ধারালো কাচি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে বাড়ির পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের মেঝেতে পুঁতে রাখে।

এক পর্যায়ে স্ত্রী ও পরিবারের লোকজনের চাপের মুখে শনিবার সকালে শিশুপুত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করে পাষণ্ড বাবা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেঝেতে পুঁতে রাখা নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। স্থানীয়রা জানায়, সংসারে অভাব অনটন লেগে থাকায় নেশাখোর স্বামীকে ছেড়ে স্ত্রী কয়েক মাস আগে সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় চলে যায়। এ ক্ষোভ থেকেই হয়তো হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

পাকুন্দিয়া থানার আহুতিয়া তদন্তের কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভাবের তাড়না ও পারিবারিক কলহের কারণেই নিজ হাতে শিশুপুত্রকে গলাকেটে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আটক নেশাখোর বাবা আবুল কাশেম। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: