২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাগেরহাটে স্বাধীনতা দিবসে কাদঁলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী


বাগেরহাটে স্বাধীনতা দিবসে কাদঁলেন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ শনিবার বেলা সোয়া ১০টার দিকে বাগেরহাট স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত তিন এমপির সামনে জেলা প্রশাসকের কাছে ‘বিনা অপরাধে’ ছেলে ও জামাতাকে কারাদন্ড দেয়ার কথা বলে তাদের মুক্তির জন্য কাদঁলেন মুক্তিযোদ্ধা বাহার আলীর বিধবা স্ত্রী রেহেনা বেগম। এসময় জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাংগীর আলম তদন্তপূর্বক ব্যবস্থার নেয়ার আশ্বাস দেন। সরকারী পরিত্যাক্ত জমিতে কুঁড়েঘর তুলে বসবাসের অপরাধে শুক্রবার বিকালে ভূমিহীন রেহানার কিশোর ছেলে দুলাল ও জামাতা আসলামকে ৭ দিনের কারাদন্ড দেন ভ্র্যাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট (সহকারী কমিশনার ভুমি) তাসনিম ফারহানা।

মুক্তিযোদ্ধা বাহার আলীর স্ত্রী রেহেনা বেগম জানান, বাগেরহাট সদর উপজেলার বরুইপাড়া ইউনিয়নের লাউপালা এলাকায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে সরকারী পরিত্যাক্ত জমিতে ৩০-৩৫ টি ভুমিহীন পরিবার বসাবস করছেন। ৭ বছর আগে তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা বাহার আলী মারা যান। শুক্রবার জামাই আসলাম বেড়াতে আসলে ছেলের সাথে বসত করা কুঁড়ে ঘরটি সংস্কার করছিল তার ছেলে। এসময় সহকারী কমিশনার ভুমি (সদর) তাসনিম ফারহানার নেতৃত্বে পুলিশ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বাহার আলীর ছেলে দুলাল শেখ (১৫) ও জামাতা আসলামকে (২৫) আটক করে নিয়ে আসে ভুমি অফিসে। এসময় অনেক কান্নাকাটি করলেও কোন ফল হয়নি। পরে সন্ধায় সরকারী জমিতে ঘর তৈরীর অভিযোগে ভ্র্যাম্যমান আদালত বসিয়ে এই দুইজনকে ৭ দিনের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

রেহেনা বেগম আরও বলেন, ওই জমিতে আরও ৩১/৩২ টি ছিন্নমূল পরিবার বসত ঘর থাকলেও তাদের ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে কেবলমাত্র আমার কিশোর ছেলে ও জামাইকে ধরে জেলে পাঠিয়েছে আয়ুব কাজী ও তার ভাই আইনজীবী শহীদুল্লাহর ষড়যন্ত্রে। সরকারী পরিত্যাক্ত এই সম্পত্তির পাশে ওই আয়ুব কাজী সম্প্রতি কয়েক কাঠা জমি কিনেছে। নায়েবের সাথে যোগসাজশে তারাই আমার সন্তান ও জামাতাকে জেল দিয়েছে। যখন পুলিশ আমার ছেলে ও জামাইকে ধরে তখন আয়ুব কাজীর ঘরে এসিল্যান্ড অফিসের পিয়ন, তহশীলদার ও আইনজীবী শহীদুল্লাহ ছিল। কয়েকদিন আগেও বহুল আলোচিত এই আইনজীবী শহীদুল্লাহ কারাগারে ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগেও আয়ুব কাজী একাধিকবার লোহার রড় দিয়ে পিটিয়ে তার ছেলে দুলালের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে কান্নায় ভেঙ্গেপড়েন অসহায় রেহেনা বেগম। তিনি তার ছেলে ও জামাইয়ের মুক্তি এবং ষড়যন্ত্রকারীদের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।

তবে আয়ুব কাজী ও তার ভাই আইনজীবী শহীদুল্লাহ এ অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করেছেন।

এবিষয়ে জানতে বাগেরহাট সদর সহকারী কমিশনার ভুমি কর্মকর্তা তাসনিম ফারহানার মুঠোফোনে বার বার ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমার ‘নলেজে’ নাই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: