২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আর্জেন্টিনার মধুর প্রতিশোধ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শিরোপার হাহাকার আর্জেন্টিনার কবে ঘুচবে কে জানে! সেই ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর আর কোন আন্তর্জাতিক ট্রফির স্বাদ পায়নি ফুটবলপাগল দেশটি। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ ও ২০১৫ কোপা আমেরিকায় লিওনেল মেসির দলের সুযোগ এসেছিল বন্ধ্যত্ব ঘোচানোর। কিন্তু বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে ও মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত লড়াইয়ে চিলির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার।

গত দুই বছরের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে দিয়াগো ম্যারাডোনার দেশের। বিশ্বকাপের পর প্রীতি ফুটবল ম্যাচে জার্মানিকে উড়িয়ে দিয়ে ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দেয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবার চিলিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিয়েছে জেরার্ডো মার্টিনোর দল। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের ম্যাচে চিলিকে তাদেরই মাঠে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।

বাছাইপর্বে রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য ছন্দে ছুটতে থাকা ইকুয়েডর টানা চার জয়ের পর অবশেষে ধাক্কা খেয়েছে। নিজেদের মাঠে প্যারাগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে তারা। একই ব্যবধানে অমীমাংসিত থাকে পেরু-ভেনিজুয়েলা ম্যাচও। আরেক ম্যাচে কলম্বিয়া ৩-২ গোলে হারিয়েছে বলিভিয়াকে। চিলিকে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার চার নম্বরে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। পাঁচ ম্যাচ শেষে তাদের ভা-ারে জমা ৮ পয়েন্ট। ১৩ পয়েন্ট নিয়ে যথারীতি শীর্ষে ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে চার দল সরাসরি ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। বিশ্বকাপের টিকেট পেতে পঞ্চম দলটিকে খেলতে হবে প্লে অফ ম্যাচ।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বার্সিলোনার হয়ে স্প্যানিশ লা লিগার ম্যাচ খেলার সময় হাঁটুতে চোট পান মেসি। যে কারণে বাছাইপর্বের প্রথম চার ম্যাচেই খেলতে পারেননি তিনি। ভুগতেও হয় তার দেশকে। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলে ফিরে দলের জয়সূচক গোলেও অবদান রাখেন অধিনায়ক মেসি। গত বছরের জুলাইয়ে সান্টিয়াগোর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার মানতে হয়েছিল মেসিদের। সেই মাঠেই এবার চিলিদের হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়েছে তারা। ঘরের মাঠে অবশ্য শুরুতে এগিয়ে যায় চিলিই। ম্যাচের ১১ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করে কোপা স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ফেলিপে গুটিয়েরেজ। এ সময় আরও একটি ব্যর্থতার শঙ্কা জেগে বসেছিল আর্জেন্টাইন ভক্তদের। কিন্তু ২০ মিনিটে এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার বাঁক খাওয়ানো দুর্দান্ত শটে সমতা আসার পর ঘুরে যায় ম্যাচের চেহারা। ২৫ মিনিটে আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। বক্সের মধ্যে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের কাছ থেকে বল কেড়ে গ্যাব্রিয়েল মেরকাডোকে বল দেন মেসি। সুযোগটা কাজে লাগাতে ভুল হয়নি আর্জেন্টাইন রাইটব্যাকের। প্রথমার্ধেই ম্যাচের তিন গোল হয়। বিরতির পর একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে খেলেও গোল পরিশোধে ব্যর্থ হয় চিলি। শেষ ৪৫ মিনিট আর্জেন্টিনা অনেকটাই ছন্নছাড়া হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে মেসিও তাই বলেন, প্রথমার্ধে ভালই খেলেছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। তবে দলের টিম স্পিরিটে খুশি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এ প্রসঙ্গে ফিফা সেরা তারকা বলেন, চিলি সহজ প্রতিপক্ষ ছিল না। কিন্তু ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো যোগ্যতা আমাদের ছিল। মেসি আরও বলেন, বলিভিয়ার বিপক্ষে আমাদের আরেকটি কঠিন ম্যাচ আছে। নিজেদের মাঠে আমরা পয়েন্ট হারাতে পারি না।

ম্যাচটি মোটেও ভাল যায়নি চিলি গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ক্লাউডিও ব্রাভোর। এদিন তিনি দেশের জার্সি গায়ে শততম ম্যাচ খেলার গৌরব অর্জন করেন। কিন্তু ক্লাব সতীর্থ মেসির আর্জেন্টিনার কাছে হেরে মাইলফলক স্পর্শ স্মরণীয় করতে পারেননি ৩২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: