মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

আঠারো দিন বাকি পহেলা বৈশাখের, ইলিশের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৬
আঠারো দিন বাকি পহেলা বৈশাখের, ইলিশের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে মাছের বাজারে ক্রেতাদের চোখ এখন ইলিশের দিকে। নগরীতে যেন পান্তা-ইলিশের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। দরদামের পাশাপাশি হিসেব মতো হয়ে গেলে বাজারের ব্যাগে ঢুকে যাচ্ছে আস্ত ইলিশ। তবে বাঙালীর সর্বজনীন প্রিয় উৎসব বাংলা নববর্ষের আগে বাজারে এই মাছের সরবরাহ নেই বললেই চলে। কারণ অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর এখন নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ইতোমধ্যে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে ইলিশের দাম বেড়ে গেছে। সাইজভেদে মণপ্রতি ইলিশের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ইলিশ মাছের দাম।

এদিকে, সাপ্তাহিক বাজার করতে এসে ক্রেতারা ঢুঁ মারছেন ইলিশ মাছের দোকানগুলোতে। দাম এত বেশি যে, এ নিয়ে তির্যক মন্তব্যও করছেন ক্রেতারা। কেউ বলছেন, বৈশাখ আসছে তাই দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মাছের দাম নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য রয়েছে কারও কারও।

জানতে চাইলে কাপ্তান বাজারের ইলিশ মাছের ক্রেতা জয়দেব সাহা জনকণ্ঠকে বলেন, দ্যাখেন বৈশাখ আসতে আরও ১৮ দিন বাকি, অথচ ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। পান্তা-ইলিশ এবার আর খাওয়া যাবে না। তবে বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কম কিন্তু চাহিদা বেশি। তাই অন্য সময়ের চেয়ে মাছের দাম বেশি।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এখন জাটকা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ডিম রক্ষায় গত ১ মার্চ থেকে

আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তমের ১৫০ কিলোমিটার, ভোলার তেঁতুলিয়া নদী ও চরইলিশা থেকে চরপিয়ালের ৯০ কিলোমিটার, চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এবং ভেদরগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের মতলব পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকা মাছের অভয়াশ্রম বলে চিহ্নিত ও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে।

এসব নদীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তৎপরতা থাকলেও বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা এলাকায় তা নেই বললেই চলে। ফলে মেঘনার এই অঞ্চলে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ জাটকা ধরা চলছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়া তালতলী ও বাবুগঞ্জের বিভিন্ন স্পট থেকে সড়কপথে যশোর, ফরিদপুর ও রাজধানীতে জাটকা পাচার হচ্ছে। প্রশাসনের শিথিলতার কারণে চলমান অভিযান ফলপ্রসূ হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই সব জাটকা এখন রাজধানীর বাজারগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বৈশাখ সামনে রেখে এসব জাটকা মাছও বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

জানা গেছে, চাহিদা বাড়ায় জাতভেদ হিসেব-নিকেশ না করেই বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে ইলিশ মাছ। আধাকেজি ওজনের প্রতিপিস ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হলে সামনে সঙ্কট আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাঁচাবাজারে বেড়েছে পামওয়েলের দাম ॥ নিত্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ করেই বাড়ছে ভোজ্যতেল পাম অয়েলের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দাম লিটারে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এছাড়া মসুর ডাল ও রসুনের জন্য এখনও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি লিটার পাম অয়েল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৫৮ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। আর সুপার পাম অয়েল ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা দরে কিনতে পেরেছিলেন ক্রেতারা।

প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৬

২৬/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: