১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মাটি ও মানুষের শিল্পী সুলতানের জন্মজয়ন্তী পালন


সাজেদ রহমান, যশোর/ রিফাত-বিন-ত্বহা, নড়াইল ॥ শিশু, বৃক্ষ, মানুষ, প্রকৃতি- সবকিছুর প্রতিই তাঁর অফুরন্ত ভালবাসা। শুধু রং-তুলির স্পর্শে এর মধ্যে তিনি সৌন্দর্য অন্বেষণ করেননি, বাস্তবেও প্রমাণ দিয়েছেন ভালবাসার। তাই ঢাকার ফুটপাথ থেকে দুর্লভ নাগালঙ্গম বৃক্ষনিধন হতে দেখে তাঁর চোখ প্লাবিত হয়েছিল। বলতেন, এ তো একটি বৃক্ষের নিঃশেষ নয়, গোটা জীবনের পরিসমাপ্তি। সারা জীবনের সমস্ত সঞ্চয় তিনি ব্যয় করেন শিশুদের কল্যাণে নির্দ্বধায়। সেই মহান মানুষটি হলেন শিল্পী এসএম সুলতান। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯১তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইলে ৭ দিনব্যাপী সুলতান মেলা শেষ হলো বৃহস্পতিবার।

শিল্পী জন্মেছিলেন সবুজ স্নিগ্ধতায় ছাওয়া নড়াইলের উপকণ্ঠে। ১৯২৩ সালের ১০ আগস্ট। পিতা ছিলেন সামান্য রাজমিস্ত্রি। সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবনের আবহ তাই শিল্পী পেয়েছিলেন শৈশবেই। স্কুলে পড়ার সময় ডঃ শ্যামা প্রসাদের বর্ক্তৃতাদানরত ছবি এঁকে প্রশংসা পেয়েছিলেন। ১৯৩৮ সালে কলকাতা যান। ৪১-এ ভর্তি হন কলকাতা আর্ট স্কুলে। ৪শ’ প্রতিযোগীর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অঙ্কনে প্রথম স্থান অধিকার করেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাঁধাধরা গ-ি তাঁর কাছে ছিল আকর্ষণহীন। ’৪৩-এ সেখান থেকে পলায়ন। সারা ভারত পরিভ্রমণ। আর এ সময় অজ¯্র ছবি আঁকার কাজও চলে। ’৪৪-এ সিমলায় একক চিত্র প্রদর্শনী। দ্বিতীয় একক চিত্রপ্রদর্শনীও সেখানে ’৪৬ সালে। লাহোর ও করাচীতে একক চিত্রপ্রদর্শনী, ’৪৭ ও ’৪৮ এবং ’৪৯-এ। করাচীতে ‘ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ৪৫টি দেশের শিল্পীরা চিত্রপ্রদর্শনীতে অংশ নেন। এর মধ্যে শিল্পী সুলতানের ছবি শ্রেষ্ঠ হিসেবে পুরস্কৃত। কিন্তু একদিন সেখানে ৪শ’ ছবি রেখে আবার পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়া। ১৯৫০ সালে লন্ডন গমন। সেখানে ৪টি একক চিত্রপ্রদর্শনীর ব্যবস্থা। এশিয়ার একমাত্র ‘কনটেস্পোয়ারি মাস্টার’ উপাধিতে ভূষিত আর্ট গ্যালারি এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক।