২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

খুলনার লিনিয়ার পার্ক দেড় বছর ধরে তালাবদ্ধ


স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা মহানগীর ময়ূর নদীর পাড়ে নির্মাণ করা হয়েছে লিনিয়ার পার্শ্ব। কাগজপত্রে দেড় বছর আগে এই পার্কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কেসিসি কর্তৃপক্ষ পার্শ্বটি তাদের সম্পত্তি শাখায় হস্তান্তরও করেছে। কিন্তু পার্শ্বটি অদ্যাবধি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেয়া হয়নি। পার্কের প্রধান গেট তালাবদ্ধ। পাশে খুব ছোট একটি গেট খুলে রাখা হয়েছে। বিনোদন প্রিয় কিছু মানুষ ওই গেট দিয়ে পার্কে ঘুরতে যায়। যে একবার পার্কের অভ্যন্তরে যাচ্ছে দ্বিতীয়বার আর সেখানে যেতে তার মন চায় না। পার্কের ভেতরে সর্বত্র অযতœ আর অসম্পূর্ণ কর্মকা-ের ছড়াছড়ি। অথচ খুলনাবাসীর অনেক আশা ছিল এটি একটি দৃষ্টি নন্দন পার্শ্ব হবে। কিন্তু প্রায় ২২কোটি টাকা ব্যয়ে যে ধরনের পার্শ্ব নির্মিত হয়েছে তাতে খুলনার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

জানা গেছে, খুলনা মহানগরীতে চিত্ত-বিনোদনের তেমন কোন জায়গা না থাকায় গল্লামারী এলাকায় ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্শ্ব নির্মাণের উদ্যোগ নেয় খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) মেয়র থাকাকালে ২০০৯ সালে এই পার্শ্ব তৈরির জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরুর এক পর্যায়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে তালুকদার খালেক পরাজিত হন। এর পর পার্শ্বটির নির্মাণ কাজের গতি শ্লথ হয়ে যায়। প্রথমে লিনিয়র পার্কের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় ১৯ কোটি টাকা এবং পার্কের আয়তন ছিল ২২ একর। পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে প্রায় ২২কোটি টাকা হলেও পার্কের আয়তন ছোট হয়ে ২২ একরের স্থলে ১৪ দশমিক ০০৭ একরে দাঁড়ায়। এ নিয়ে নাগরিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, গল্লামারী এলাকায় ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। এ পার্শ্বটি পৌনে দুই (১.৭৫) কিলোমিটার লম্বা। এর ভেতরে হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে তৈরি রয়েছে। পার্কের প্রবেশদ্বারের বাম পার্শ্বে ৫টি দোকান ঘর, একটি এন্টিপ্লাজা ও অফিস ভবন, পার্কিং চত্বর ও একটি রেস্টুরেন্টের জন্য ঘর তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ভেতরে ৪তলা বিশিষ্ট একটি অবজারভেশন টাওয়ার, বাঘ ও হরিণের রেপ্লিকা, গরুর গাড়ি ও রাখালের ভাস্কর্য, ১০টি আমব্রেলা সেড, ২টি টয়লেট কমপ্লেক্স, একটি সেতু, ২টি পিকনিক শেড, ৮ আইটেমের খেলনা রয়েছে। পার্কের ভেতর নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও ২টি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কাজ চলছে।

সরেজমিন লিনিয়ার পার্শ্ব পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের তালাবদ্ধ গেটে ধুলোর আস্তরণ জমেছে। লোহার তৈরি গ্রিল ও অন্যান্য সামগ্রীতে মরিচা ধরতে শুরু করেছে। পার্কে নির্মিত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, গরুর গাড়িসহ বিভিন্ন রেপ্লিকাগুলো কাঁটাযুক্ত ডালপালা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। অবজারভেশন টাওয়ারে ওঠার পথও কাঁটা দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। শিশুদের দোলনাগুলো ওপরে ঝুলিয়ে আটকে রাখা। দোলনা, সিøপার, জাম্পি প্যাডসহ অন্যান্য খেলনা সামগ্রী ধুলোয় বিবর্ণ হয়ে গেছে। ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পার্কের ভেতরে নির্মিত স্থাপনাগুলোও নষ্ট হতে চলেছে। এছাড়া পার্কের ভেতরে আরেকটি প্রকল্পের কাজ চলায় নির্মাণ সামগ্রী যেখানে-সেখানে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। ব্যবহার না করায় পার্শ্বটিতে আগাছায় ভরে গেছে। কেসিসি সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুন মাসে লিনিয়ার পার্শ্ব নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কিন্তু পার্শ্বটি কিভাবে পরিচালনা হবে এ নিয়ে প্রথম দিকে সিদ্ধান্তহীনতায় ছিল কর্তৃপক্ষ। পরে ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল কেসিসির ১৫তম সাধারণ সভায় বেসরকারী সংস্থার কাছে ইজারা দিয়ে পার্শ্বটি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর ফাইল আর চিঠি চালাচালিতে কেটে গেছে আরও ১০ মাস। কিন্তু পার্শ্বটি চালু হয়নি। তবে কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ও লিনিয়ার পার্শ্ব বাস্তবায়ন প্রকল্পের প্রধান মোঃ লিয়াকত আলী খান বলেন, পার্শ্বটি বর্তমানে খোলাই আছে। লোকজন সেখানে ঘুরতে যাচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় যে কাজ ছিল সেগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। পার্শ্ব এলাকার অন্য প্রকল্পের আওতায় আরও কিছু কাজ চলছে। পার্শ্বটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ইজারা প্রদানের জন্য চেষ্টা চলছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ জামান বলেন, খুলনায় বিনোদনের কোন জায়গা নেই। ময়ূর নদীর তীরে লিনিয়ার পার্কের দিকে তাকিয়ে ছিল নগরবাসী। কিন্তু কেসিসি কর্র্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও অদূরদর্শিতার কারণে পার্শ্বটি নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়নি। পার্শ্বটি খুলনাবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তারপরও যেটা নির্মাণ করা হয়েছে তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়নি। কেসিসির ধীরে চলো নীতির কারণে পার্শ্বটিতে এখনও তালা ঝুলছে। যত দ্রুত সম্ভব নামমাত্র প্রবেশ মূল্যে পার্শ্বটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।