২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

প্রথম শ্রেণীর বগুড়া পৌরসভায় সড়কে চলতে হয় নাক চেপে


সমুদ্র হক ॥ প্রথম শ্রেণীর বগুড়া পৌরসভার প্রধান সড়ক কবি নজরুল ইসলাম রোডের ড্রেনের এতই বেহাল অবস্থা যে দুর্গন্ধে পথচারী, রিক্সা ও মোটরগাড়ির আরোহীদের চলতে হয় নাক চেপে। দোকানিরা গন্ধ সয়ে অসুখ-বিসুখ বাঁধিয়ে ফেলছেন। বদ্ধ হওয়া ড্রেনের পানি ও বর্জ্য জঞ্জাল উপচে উঠে রাস্তার অর্ধেক নোংরা করে ফেলে। মাঝে মধ্যেই এই অবস্থা হয়ে কয়েক সপ্তাহ জনচলাচলে যারপরনেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই নোংরা বর্জ্যরে মধ্যে কেউ পিছলে পড়লে তার কী যে অবর্ণনীয় অবস্থা হয় তা বলতে হয় না।

নগরীর প্রধান সড়কের এই অবস্থা হলে বাকি সড়ক ও ফিডার রোডগুলোর কি অবস্থা তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। ড্রেনের বর্জ্যে পচা নোংরা এই পৌরসভাকেই সিটি কর্পোরেশনের দাবি তোলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলাবলি করে; যে নগরী প্রথম শ্রেণীর পৌরসভার মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না তা সিটি কর্পোরেশন হলে প্রবাদের ‘ওই’ কথার মতো হবে। আরেকদিকে সিটিবাসীর করের বোঝা বেড়ে যাবে।

দেশের প্রাচীন এই পৌরসভার জন্ম হয় ১৮৭৬ সালে। দেড় বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে শুরু এই পৌরসভা গত শতকের পঞ্চাশের দশকে ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত হয়। ১৯৮১ সালে প্রথম শ্রেণীর মর্যাদা পায়। ২ হাজার ৪ সালে তৎকালীন জামায়াত সমর্থিত বিএনপি সরকার কলমের এক খোঁচায় আয়তন প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে ৬৯ দশমিক ৬৭ বর্গকিলোমিটারে পরিণত করে। আয়তন বেড়ে যাওয়ায় দুটি ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে পৌরসভার মধ্যে চলে আসে। বর্তমানে পৌর এলাকার যে পথঘাট ও ডেনেজ ব্যবস্থা তা পৌরবাসীর বড় ভোগান্তি হয়ে আছে। ড্রেন উপচে পড়লে সাধারণের ভোগান্তি দেখার পরও পৌরপিতার নীরব থাকা আরেক রহস্য হয়ে আছে।

পৌরসভা বর্ধিত হওয়ার পর বর্তমানে পাকা রাস্তার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪শ’ ৩৬ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার। হেরিংবন্ড (ইট বিছানো) রাস্তা ৮৮ দশমিক ৮৪ কিলোমিটার। বগুড়া প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হওয়ার পর আজও কাঁচা রাস্তার অস্তিত্ব বিদ্যমান ২শ’ ৮৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার।

শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা থেকে কবি নজরুল ইসলাম সড়ক (যা প্রধান সড়ক) উত্তরে মাটিডালি পর্যন্ত ও দক্ষিণে শেরপুর রোড হয়ে বনানী পর্যন্ত চওড়া হয়ে জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এত লম্বা এই সড়কে যতটা গভীরের ও দৈর্ঘ্য প্রস্থের ড্রেন থাকার কথা তা নেই। সামান্য যে অংশে একটু বড় ড্রেন আছে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। পৌর এলাকার বাকি যে মূল পাকা সড়ক আছে তার ড্রেন এতই অপরিসর ও ছোট যে হরহামেশাই বর্জ্যরে নোংরা পানিতে শহরকে দূষিত করে ফেলে। দিনের পর দিন প্রধান ও অন্যান্য সড়কে জনদুর্ভোগের এই অবস্থা হয়ে থাকে। কোন প্রতিকার নেই। বিশেষ করে সাতমাথার কাছেই উত্তরে কবি নজরুল ইসলাম সড়ক ও দক্ষিণে গোহাইল রোডে সামান্য বৃষ্টি হলেই ড্রেনের ময়লা পানি ও বৃষ্টির পানিতে পৌরবাসীকে যারপরনেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রধান সড়কের দোকানিরা ক্যেতাদের সুবিধার্থে নিজেরাই বাঁশ ও কাঠ দিয়ে ছোট্ট পুলের মতো বানিয়ে নোংরা বর্জ্য ও পানির ওপর পেতে দিয়েছে ফুটপাথ পর্যন্ত।

খোঁঁজখবর করে জানা যায় রাস্তা চওড়া করার সময় ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়নি। ভারি বৃষ্টির পর কি ভাবে এই পানি নদীতে গিয়ে পড়বে তার কোন রেগুলেটর নেই। ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং করার কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। পৌর সূত্রের কথা; বর্তমানে ময়লা পরিবহনের ট্রাক আছে ৭টি। ভ্যানগাড়ি ১শ’ ২টি। পরিচ্ছন্ন কর্মী ৫শ’ ২৪ জন। প্রতিমাসে মোট অঙ্কের একটি বরাদ্দ থাকে ডাম্পিং ও ড্রেনেজ পরিষ্কার কাজে। তারা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করছে। ড্রেনেজের ব্যাপক সংস্কারে যে বরাদ্দ থাকা দরকার তা নেই। এই অবস্থায় শীঘ্রই জন ভোগান্তির কোন অবসান নেই।