২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইরাক ও সিরিয়ায় দ্রুত শক্তি হারাচ্ছে আইএস


যখন ইউরোপীয় সরকারগুলো ইসলামিক স্টেটের ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসী হুমকি রোধে কঠোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন জঙ্গী দলটি ইরাক ও সিরিয়ার রণাঙ্গনে দ্রুত শক্তি হারাচ্ছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

বৃহস্পতিবার জঙ্গীরা সর্বশেষ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সেদিন রুশ সমর্থনপুষ্ট সিরীয় সরকারী সৈন্যরা কয়েক সপ্তাহের অভিযানের পর ঐতিহাসিক পালমিরা শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছে। আর উত্তর ইরাকে মার্কিন বিমান হামলার সহায়তা নিয়ে সরকারী বাহিনী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দখল থেকে কয়েকটি গ্রাম ছিনিয়ে নেয়। এসব গ্রামে আইএসের অবস্থান আশপাশের একটি মার্কিন ঘাঁটির প্রতি হুমকির সৃষ্টি করেছিল।

এগুলো হলো উভয় দেশের এমন অনেক ফ্রন্টের মাত্র দুটি, যেখানে জঙ্গীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের পিছু হটিয়ে দেয়া হচ্ছে। কোথাও জঙ্গীরা আক্রমণ চালাতে পারছে না। তারা প্রায় নয় মাসের মধ্যে কোন সফল অভিযানে লিপ্ত হতে পারেনি। তাদের নেতারা প্রতি তিন দিনে একজন করে মার্কিন বিমান হামলায় মারা যাচ্ছে এবং এতে তাদের আক্রমণ চালানোর সামর্থ্য হারিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানান।

রণাঙ্গনের কমান্ডাররা আর কোন ভীতিকর শক্তিশালী শত্রুর কথা বলেন না। তারা বলেন, জঙ্গী যোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা দিন কয়েকের মধ্যেই ভেঙ্গে পড়ে এবং জঙ্গীরা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখামাত্রই পালিয়ে যায়। কমান্ডাররা বলেন, তারা লড়াই করে না। তারা কেবল গাড়ি বোমা পাঠায় এবং এরপর পালিয়ে যায়। ইরাকের সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর কমান্ডার লে. জে. আবদুল গনি আল আসাদি বলেন, আর আমরা যখন তাদের ঘিরে ফেলি তখন হয় তারা আত্মসমর্পণ করে, নয়ত নিজেদের বেসামরিক লোকজনের মধ্যে লুকিয়ে ফেলে। তিনি আনবার প্রদেশের হিত শহর দখলের সর্বশেষ ইরাকী অভিযান দেখাশোনা করছেন। তিনি বলেন, তাদের নৈতিক মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে। আমরা তাদের যোগাযোগের যন্ত্রপাতিতেই তাদের কথাবার্তা শুনতে পাই। তাদের নেতারা তাদের লড়াই করতে আকুতি জানাচ্ছেন, কিন্তু তাদের জবাব হলো এটি হারার লড়াই। তারা নির্দেশ মানতে অস্বীকার করছে এবং পালিয়ে যাচ্ছে। দলটি এখনও বিরাট ভূখ- নিয়ন্ত্রণ করছে। এটি আক্রমণ শুরু করার সময় যেমন ভয়াবহ ছিল, এর পরাজয়কালেও তেমনি ভয়াবহ প্রমাণিত হতে পারে।

বেলজিয়াম, তুরস্ক ও ফ্রান্সে চালানো হামলাগুলো ইউরোপে এরই মধ্যে অনুপ্রবেশ করা জঙ্গী নেটওয়ার্কগুলোর সম্ভাব্য ব্যাপক তৎপরতার আভাসমাত্র হতে পারে। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা এ আশঙ্কা করছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরাক ও সিরিয়াতেও আত্মঘাতী বোমা ও চোরাগোপ্তা হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এসব হামলায় জঙ্গীরা ভূখ- দলখ না করলেও সেগুলো অন্যথায় তাদের লাগালের বাইরে থাকা লোকজনের জন্য প্রাণঘাতী ছিল। কিন্তু মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, ১৮ মাসেরও বেশি সময় পর সামরিক অভিযান গতি পেয়েছে বলে তারা মনে করেন। সামরিক অভিযান বিষয়ক মার্কিন মুখপাত্র কর্নেল স্টিভ ওয়ারেন বলেন, সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কার্যপদ্ধতি পরিপক্বতা লাভ করে এবং আমরা আরও কর্মক্ষম হয়ে উঠছি।

আমরা তাদের চিহ্নিত করতে আরও সমর্থ হয়ে ওঠেছি। যখনই তারা চলাচলের চেষ্টা করে, তখনই আমরা তাদের খুঁজে বের করে নির্মূল করে নেই। তিনি বলেন, তারা চলাচল করতে পারছে না, দীর্ঘদিন ধরে কোন যুদ্ধই জয় করতে পারেনি এবং আমরা তাদের নেতাদের ওপর আঘাত করে যাওয়ায় তারা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অসুবিধায় পড়েছে। কেবল মার্কিন নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টাই জোরদার হচ্ছে না। সিরীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক পালমিরা শহরে প্রবেশের পথ সুগম করতে রুশ বিমানবাহিনী এক বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রায় এক বছর আগে ইসলামিক স্টেট সর্বশেষ বড় ধরনের হামলায় শহরটি দখল করেছিল। রুশ বিমান হামলার সমর্থনপুষ্ট সিরীয় বাহিনী আলেপ্পোর পূর্বে ইসলামিক স্টেটের শক্তিশালী ঘাঁটি আল-বারের চারদিকে কিছু এলাকা দখল করেছে। তারা রাকা প্রদেশের উপকণ্ঠে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও কিছু অগ্রগতি অর্জন করেছে। মার্কিন সমর্থিত বাহিনীর আগেই সিরীয় বাহিনীর রাকা পৌঁছার সম্ভাবনা না দেখা গেলেও তা ধারণার অতীত নয়। মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা বলেন।