২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নারীর ক্ষমতায়নে পুরুষের সহযোগ


মেধা নম্রতা

জেন্ডার সমতা হলো নারী-পুরুষের সমতা, সম-অধিকার ও সম-মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং কর্ম ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্মানিত সম্পর্ক। পরিবার ও রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রের উন্নয়নে নারী- পুরুষের পারস্পরিক এই সম্পর্ক বিশেষ প্রয়োজন। সমাজের নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়েদের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে পারিবারিক সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে যে সমস্যা দেখা দেয় তা সমদৃষ্টিতে মূল্যায়নের প্রবণতাকে বোঝায় জেন্ডার সমতা বলা যেতে পারে। এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয় বন্ধুত্ব, পেশাদারিত্বে ও যৌথ দায়িত্ববোধের সুসমন্বয়ে। জেন্ডার সমতার স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমেই পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে যে কোন কঠিন সমস্যা ‘দশের লাঠি, একের বোঝা’ বাস্তবধর্মী এই রূপকটি প্রমাণ করা সম্ভব।

বাংলাদেশের বিরাজমান দারিদ্র্য বিমোচন ও সার্বিক উন্নয়নে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী। এমন নয় যে বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে না। ফসলের ক্ষেত থেকে ইট ভাঙ্গা, মাটি কাটা, মাটি বওয়ার মতো কঠিন কাজগুলোও নারীরা সমানে করে যাচ্ছে। ক্রমশ তৃণমূল পর্যায় থেকে উচ্চপর্যায়ের সকল ক্ষেত্রে আজকাল নারীরা পুরুষের সহকর্মী থেকে সহমর্মি সহযোগী হিসেবে পাশাপাশি কাজ করছে। ঘরে বাইরে, শিক্ষা, সামরিক, নৌ, বিমান, সরকারী, বেসরকারী থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীর কাজের প্রচুর প্রশংসা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরেও বাংলাদেশের নারীদের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, নারী কি সত্যিকারভাবে পরিবার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে? পারলে তা দেশের মোট নারীদের কত শতাংশ পারছে? বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার ইতোমধ্যে সামাজিক চাপের কারণে নারীদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ করতে বাধ্য হয়েছে। নারী নির্যাতন বন্ধে ক্ষীণ সাফল্য এলেও তা ব্যাপকভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছেÑ সেই ধরনের একটি রাষ্ট্র যেখানে নারীদের ওপর সর্বাধিক শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করা হয়। এই দেশে চরম দারিদ্র্যের কারণে মেয়েশিশুদের পাচার অবিরাম চলছেই। গৃহশ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার জন্য কোন আইন নেই। গৃহকর্মীদের এখনও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। পোশাকশিল্পে কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারটি আগের মতোই ঝুলে রয়েছে। পোশাকশিল্পে দুর্ঘটনায় নিহত কর্মীর বেশিরভাগই নারী। নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দেশ বিদেশের আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্ক চলেই যাচ্ছে। কিন্তু সুরাহা হচ্ছে না তেমন কিছুই। এ রকম নানা অসুবিধার মোকাবেলা করেও বাংলাদেশের নারীরা জাতিসংঘের সহস্রাব্দের লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন,শ্রমের মূল্যায়ন, কাজের প্রতি সম্মান স্বীকৃতি এখনও দেয়া হচ্ছে না। এখনও বেশিরভাগ মানুষ মনে করে নারীরা কি এমন কাজ করছে যে তাদের গণ্য করতে হবে? বরং সংসার, স্বামী, সন্তান, শ্বশুর শাশুড়ির সেবা না করে চাকরি করে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরছে। বাংলাদেশে এই রকম ধারণার ধারক নারী-পুরুষের অভাব নেই। গার্মেন্টস দুর্ঘটনায় নিহত কর্মীর বেশিরভাগই নারী।

এই দুর্ঘটনাগুলো নিরাপদ ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে দুনিয়াব্যাপী আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় তুলেছে। কম নেই। তাই এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তাদের কাজের স্বীকৃতি আদায় করা। ২০০০ সালে বিশ্ব নেতাদের গৃহীত এমডিজির ৮টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে একটি অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন। নারীর ক্ষমতায়নে ও নারী শ্রমের মর্যাদা দিয়ে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দিলে রাষ্ট্রীয় উন্নতিতে নারীর কর্মদক্ষতা প্রতিষ্ঠা পাবে। ঘরে বাইরে কর্মী নারীরা সমীহ পাবে। তাই নারীর কর্মের স্বীকৃতি অর্জনের অধিকার আদায়ের জন্য নারীকে আরও অগ্রগামী ও কৌশল পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নে এবং সমতা সৃষ্টিতে নারীর পাশাপাশি পুরুষদেরও সহযোগী সমর্থক ও বন্ধু হিসেবে নিয়ে আগামীর পথ চলতে হবে।

ছবি : হৃদয়

ছবিতে : বরনের স্বাধীনতার পোশাকে কাজল ও সামি