১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আবারও ব্যর্থ মাহমুদুল্লাহ!


আবারও ব্যর্থ মাহমুদুল্লাহ!

মোঃ মামুন রশীদ ॥ অগ্নিঝরা মার্চ, অশ্রুঝরা মার্চ! বাংলাদেশ নামের দেশটি বিশ্ব মানচিত্রে ঠাঁই করে নেয়ার পেছনে এই মার্চ খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মার্চেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ২৫ মার্চ পাক হানাদারদের বর্বরোচিত গণহত্যার জবাব দিতে। বারেবারেই মাসটি ঘটনাবহুল হয়ে এসেছে। বর্তমানে ক্রিকেট সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেটে দেশের মানুষ হাসেন, ক্রিকেটে কাঁদেন এবং এই ক্রিকেট নিয়েই মেতে থাকেন। ক্রিকেটআবেগী এই জাতি সবচেয়ে বড় কষ্টটা পেয়েছিল ২০১২ সালের ২২ মার্চ। প্রথমবারের মতো কোন বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল হিসেবে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলে দল। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ রানে পরাজয়ের আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছিল। সেবার শেষ ৬ বলে ৯ রান নিতে পারেননি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কষ্টটা এখনও কুরে কুরে খায় পুরো বাংলাদেশকে। বিবাগী স্মৃতি হয়ে ফিরে ফিরে এসে হৃদয়ে তীব্র আঘাত হানে বার বার। তবে সেই ম্যাচটির পরই ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পরাশক্তি হয়ে ওঠার ঘোষণা দেয়া হয়ে গিয়েছিল। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন অন্যতম শক্তিধর দল বাংলাদেশ। এবার ২৩ মার্চ, মিরপুরের পর ব্যাঙ্গালুরু! ভারতের বিপক্ষে টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ-২ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১ রানে হারের আক্ষেপ সঙ্গী হলো। কাকতালীয়ভাবে ঠিক ৪ বছর ১ দিন পর আবারও সেই মাহমুদুল্লাহই ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু বিশ্বসেরা টি২০ দলের বিপক্ষে এমন একটি ম্যাচ ঘোষণা করে দিয়েছে শীঘ্রই এ ফরমেটেও অপ্রতিরোধ্য টাইগারে পরিণত হতে চলেছে বাংলাদেশ দল।

অবশ্য এমন পরাজয়ে দলের কাউকে দোষারোপ করছেন না অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি পরিষ্কার কণ্ঠে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমি কাউকে দায়ী করছি না। ম্যাচের ভাগ্য আমাদের পক্ষেও আসতে পারত।’ ভারতের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে জয়ের এমন মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া হওয়াকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথকেও প্রলম্বিত করল বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু এমনটা মানতে নারাজ মাশরাফি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই ফিরে আসতে হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট তো এখানেই থেমে যেতে পারে না। আমাদের এ অবস্থা থেকে এগিয়ে যেতে হবে।’ ক্রিকেটাররাও ম্যাচশেষে কেঁদেছেন। বিশ্বসেরা টি২০ দলকে হারিয়ে দিতে পারলে নিশ্চিতভাবেই দল দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যেত এ ফরমেটে। চার বছর আগে ২ রানের আক্ষেপটা আবারও শূল হয়ে বিঁধেছে ক্রিকেটারদের এবং বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের বুকে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালের শেষ ওভারে ৬ বলে ৯ রান নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। সেটি ওয়ানডে ক্রিকেট। এশিয়া কাপ রানার্সআপ হওয়ার পর থেকেই বাংরাদেশ দল ওয়ানডে ক্রিকেটে ভীতিকর দলে পরিণত হয়েছে। সেটার সুফল হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা দলটি ২০১৫ সালটা কাটিয়েছে অপ্রতিরোধ্য দল হিসেবে। ওয়ানডে ক্রিকেটে এখন বিশ্বের ৭ নম্বর দলে পরিণত হয়েছে টাইগাররা। শোককে শক্তিতে পরিণত করা যায় এবার টি২০ এশিয়া কাপে মাহমুদুল্লাহ প্রমাণ করেছেন। চলতি মাসেরই শুরুতে (২ মার্চ) শেষ ওভারের ট্র্যাজেডিতে এবার বিজয়ী বীর হিসেবেই দলকে জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছেন মাহমুদুল্লাহ। যন্ত্রণাটা তার ভেতরেও ছিল। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ২০১২ সালে যা পারেননি সেটা এবার ঘুচিয়ে নির্ভার হয়ে গেছেন। কিন্তু আবারও মাহমুদুল্লাহকে ঘিরে ধরল সেই আক্ষেপটা। আরও বড় যন্ত্রণার। মিডলঅর্ডারে অত্যন্ত কার্যকরী এবং আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠা মাহমুদুল্লাহ এদিন নিজেকে সেভাবে মেলেও ধরতে পারেননি। তবে দলকে ঠিকই জায়গামতো নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম বলেই ছিলেন তিনি মোকাবেলায়। একটি রান নিয়ে অপরপ্রান্তে গিয়েছিলেন। এবার তার সঙ্গী স্বীকৃত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। ২ চার হাঁকিয়ে দল যখন নিশ্চিত বিজয় দেখছে তখনই তিনি আবারও তুলে হাঁকাতে গিয়ে আউট! মাহমুদুল্লাহ স্ট্রাইকে আসলেন। ২ বলে ২ রান অনেকখানিই নির্ভার একটি সমীকরণ। কিন্তু প্রথম থেকেই এদিন সুস্থির থাকা মাহমুদুল্লাহ সবচেয়ে অস্থির হলেন এই বলটিতেই। একইভাবে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে তিনিও ক্যাচ আউট। শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের পরাজয়।

ম্যাচ শুরুর আগে ভারতের সাবেক ক্রিকেট তারকারা বিশ্লেষণে বলেছিলেন, ‘এশিয়া কাপে দুইবার বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছে ভারত। কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই করতে পারেনি। এবারও জিততে পারবে না বাংলাদেশ। সহজেই জয় তুলে নেবে ভারত!’ বিশ্বসেরা টি২০ দল এবং নিজেদের মাঠ, গ্যালারি ভর্তি সমর্থন। সবকিছুকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল বাংলাদেশ দল। বোলিংয়ের সময় এবং পরবর্তীতে ব্যাটিংয়ের সময়। বিশ্ব ক্রিকেট এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্নায়ু টানটান ম্যাচটি দেখেছে যা উপহার দিয়েছে টাইগাররা। তাই ঘোষণা হয়ে গেছে টি২০ ক্রিকেটে ভবিষ্যতের পরাশক্তি বাংলাদেশ। ২০১২ এশিয়া কাপ থেকে অগ্রযাত্রাটা শুরু হয়েছিল ওয়ানডে ক্রিকেটে, এবার ২০১৬ এশিয়া কাপ দিয়ে টি২০ ফরমেটে সেই পরাশক্তি হয়ে ওঠার ঘোষণা দেয়া হয়ে গেল। এখন শুধু অপেক্ষার পালা। কারণ এবার এশিয়া কাপের আগেও বাংলাদেশ দলকে টি২০ ফরমেটে আন্ডারডগ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু সময় বদলে গেছে। এগিয়ে আসছে টাইগাররা। ভারতকে হারিয়ে দেয়া যায়নি, কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটে ‘মোড়লদের’ মোক্ষম জবাব দেয়া হয়ে গেছে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: