২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সম্প্রীতির বাংলাদেশের প্রত্যাশায় শুরু স্বাধীনতা উৎসব


সম্প্রীতির বাংলাদেশের প্রত্যাশায় শুরু স্বাধীনতা উৎসব

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গানে গানে বলা হলো মাতৃভূমির জন্য প্রাণ দেয়া শহীদদের কথা। সুরে সুরে উচ্চারিত হলো একাত্তরের গেরিলাদের কথা। কবিতার উচ্চারণে ওঠে এলো বীরত্বগাথা সেই গর্বিত ইতিহাস। নৃত্যশিল্পীর নাচের ছন্দে প্রকাশিত হলো বাঙালির হার না মানা আত্মত্যাগের অধ্যায়। বক্তাদের বক্তৃতায় বারংবার প্রতিধ্বনিত হলো একাত্তরের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বদেশ গড়ার প্রত্যয়। সব মিলিয়ে সম্প্রীতিময় বাংলাদেশের প্রত্যাশায় শুরু হলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের স্বাধীনতা উৎসব। সকল অশুভ দূরে সরিয়ে কল্যাণময় বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিন দিনের এ উৎসবের সূচনা হয় বৃহস্পতিবার। এ বছর উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ‘সার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে।’

বসন্ত বিকেলে একগুচ্ছ বর্ণিল বেলুন উড়িয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ সামাদ, গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিম-লীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজিনা ওয়ালি লীনা প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে আনিসুজ্জামান বলেন, এ আয়োজনে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সেই সব শহীদদের, যাদের জীবনের বিনিময়ে এসেছিল স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য একইসঙ্গে গৌরব ও বেদনার। একদিকে রয়েছে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার গৌরব আর অন্যদিকে জীবন ও সম্ভ্রমের মূল্য দেয়ার বেদনা। এ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে, বুদ্ধিজীবীদের নির্বোধ বলা হচ্ছে। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আত্মত্যাগ ও ঐক্যবদ্ধতার ইতিহাস না ভুলে সেই চেতনায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও তা অর্জিত হয়নি। সম্প্রীতির পথ ধরে সেই কাক্সিক্ষত দেশ গড়াই হবে আমাদের লক্ষ্য।

উদ্বোধনের আগে মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের স্মরণ করে মিনারের বেদিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন অতিথিরা। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পালন করা হয় এক মিনিটের নীরবতা। এরপর প্রাণের গান জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের শিল্পীরা। এছাড়াও াঁরা গেয়ে শোনান ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন কবি তারিক সুজাত। ‘নোঙর তোলো তোলো’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যালোকের শিল্পীরা।

স্বাগত বক্তব্যে হাসান আরিফ বলেন, শহীদদের স্মরণ করেই আমরা খুঁজে পাই চলার পথে প্রেরণার উৎসব। কারণ দেশপ্রেম ছাড়া কোন সৃজন হয় না। তিনি আরও বলেন, তিন দিনের এ উৎসবের মাধ্যমে আমরা নাট্যকর্মী তনু হত্যার বিচার চাই। দ্রুত বিচার আইনের আওতায় দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতির অন্যতম ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রকে কৌশলে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সকল অপশক্তিকে দূর করে বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

শহীদ মিনারের পাশাপাশি ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবরেও একযোগে শুরু হয়েছে এ উৎসব। এখানকার আয়োজনে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ছায়ানট, গীত শতদল ও ভিন্নধারা। একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন তানজিনা তমা, সর্দার রহমতউল্লাহ ও আরিফুর। দলীয় আবৃত্তি করে কণ্ঠশীলন, বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমি ও সংবৃতা। একক আবৃত্তি করেন শিরীন ইসলাম, মমু মাহিনুর ও হাম্মদ সোহাদ। নৃত্য পরিবেশন করে অংগিকাম ও নৃত্যজন। পথনাটক পরিবেশন করে ইউনিভার্সেল থিয়েটার ও সাত্ত্বিক নাট্যসম্প্রদায়।

ভিন্ন আঙ্গিকে রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট ॥ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের কালজয়ী সৃষ্টি রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট। ঢাকার মঞ্চে আগেও বহুবার নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে। আবারও হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে। তবে এবার ঘটনাটি একটু ভিন্ন। কারণ আর দশজন স্বাভাবিক মানুষ নয়, শারীরিকভাবে নানা প্রতিবন্ধকতার আড়ালে থাকা মানুষগুলো মঞ্চে তুলে আনছেন রোমিও এ্যান্ড জুলিয়েট।

শেক্সপিয়রের জন্মের চার শ’ পূর্তি উপলক্ষে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘শেক্সপিয়র লিভস’ শীর্ষক আয়োজনের অংশ হিসেবে আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ মঞ্চস্থ হবে ‘আ ডিফারেন্ট রোমিও-জুলিয়েট’। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় ঢাকা থিয়েটার ও লন্ডনের গ্রে আই থিয়েটার নাটকটি মঞ্চস্থ করছে। সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) বাংলাদেশ, ব্র্যাক, বাংলাদেশ রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ ফর ডেভেলপমেন্ট, গবর্নেন্স এ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট (ব্রিজ) এ্যান্ড গ্রাম থিয়েটারের ১৬ জন প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পী এ নাটকে অভিনয় করছেন। যৌথভাবে যার নির্দেশনা দিচ্ছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও যুক্তরাজ্যের গ্রে আই থিয়েটারের জেনি সিইলী। শেক্সপিয়রের মূল ভাবনাকে সামনে রেখে বাংলা সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে নাটকটিতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় হয়ে গেল এর চূড়ান্ত রিহার্সেল।

শিল্পকলা একাডেমির স্বাধীনতা অনুষ্ঠানমালা ॥ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হলো তিন দিনের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানমালা। এর অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিবেশন করে নাটক ‘রাজারবাগ ’৭১।’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার থেকে খুলনার চুকনগরে গণহত্যার স্মরণে শুরু হবে দুই দিনের আর্টক্যাম্প। এতে অংশ নেবেন ১৬ জন প্রবীণ ও নবীন চিত্রশিল্পী। চুকনগরের বধ্যভূমির সেই ভয়াল হত্যাযজ্ঞ ওঠে আসবে শিল্পীদের তুলির আঁচড়ে। যেসকল চিত্রশিল্পী চুকনগরে বসে ছবি আঁকবেন তারা হলেনÑ আবদুল মান্নান, কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়, নাসিম আহমেদ নাদভী, নাইমা হক, নাসরিন বেগম, দুলাল চন্দ্র গাইন, নজরুল ইসলাম আঘ্রানী, ইব্রাহিম, সমর মজুমদার, কামাল উদ্দিন, মোঃ আলগুপ্তগীন, আজমীর, তাহমিনা হাফিজ লিসা, মোঃ তরিকত ইসলাম, বুবলী বর্ণা ও উত্তম কুমার। দুই দিনই আর্টক্যাম্প চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। তিন দিনের এ আয়োজনে কী কী থাকছে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানান একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসনে চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এই আয়োজনের সঙ্গে আরও থাকছে আলোক প্রজ্বলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক প্রদর্শনী। তবে সেই আয়োজনগুলো হবে ঢাকাতেই। তিনদিনের এই অনুষ্ঠানমালা শুরু হয়েছে গতকাল সন্ধ্যায়। আজ একই সঙ্গে চুকনগর বধ্যভূমি এবং শিল্পকলা একাডেমির নন্দনমঞ্চে সন্ধ্যায় আলোক প্রজ্বলন করা হবে। এরপর নন্দনমঞ্চে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২৬ মার্চ চুকনগরে আর্ট ক্যাম্পের পাশাপাশি ঢাকার নন্দনমঞ্চে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিন জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিবেশন করবে নাটক ‘টার্গেট প্লাটুন’।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সংবর্ধনা ॥ এবার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীদের সংবর্ধনা দিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। মহান স্বাধীনতা দিবস-২০১৬ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গুণী শিল্পীদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান।

রাবিতে ছয় দিনব্যাপী চারুকলা প্রদর্শনী শুরু শনিবার ॥ রাবি সংবাদদাতা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদভুক্ত তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের ৪শ’ শিল্পকর্ম নিয়ে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ছয় দিনব্যাপী চারুকলা প্রদর্শনী। এদিন বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ভবনের সামনে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক হাসান আজিজুল হক।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

শেষ হলো সুলতান মেলা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াইল থেকে জানান, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯১তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নড়াইলে সাতদিনব্যাপী সুলতান মেলা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে সুলতান মঞ্চে চিত্রশিল্পী আব্দুল মান্নানকে সুলতান স্বর্ণপদক প্রদান করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: