২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কলাপাড়ায় শত শত খাল ভরাট ॥ কৃষিতে সেচ সঙ্কট


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২৪ মার্চ ॥ কলাপাড়ার উপকূলীয় জনপদে খাল দখলের মহোৎসব চলছে। ফলে মিঠা পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে কৃষিকাজে ভয়াবহ সমস্যা। সেচের পানির অভাবে কৃষক আমন আবাদ ছাড়া বোরো কিংবা রবিশস্যের আবাদ করতে পারছেন না। খাল ভরাট ও দখল বন্ধে উপজেলার কৃষক সংগঠন থেকে শুরু করে কৃষকরা ব্যক্তি পর্যায়ে বহু দেনদরবার করলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। বরং খাল দখল ও ভরাট চলছে সমান তালে। যেভাবে পারছে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের কিংবা পুকুর করছে, কেউবা আবার খাল কাগজপত্রে চাষযোগ্য জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত নিয়ে কৃষিকাজের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। কৃষক এখন পড়েছেন মহাসমস্যায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় কৃষকের এ সমস্যা দেখার যেন কেউ নেই। অনেক কৃষকের রবিশস্যসহ বোরোর আবাদ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যে যেভাবে পারছে খাল দখল করে নিচ্ছে। কলাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী স্লুইস খালটিতে গলা সমান পানি রয়েছে। কিন্তু দুদিকে অসংখ্য স্থাপনা তোলা হয়েছে। শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত খালগুলোর একই দশা। কবি নজরুল ইসলাম খালটিতে এখনও কোমর থেকে বুক সমান পানি রয়েছে। অথচ বহু বছর আগে এটিকে চাষযোগ্য কৃষি জমি দেখিয়ে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। নীলগঞ্জের সর্বত্র সবজি চাষের আলাদা সুখ্যাতি রয়েছে। পূর্ব আমিরাবাদ গ্রামের কৃষক সরোয়ার জানান, তাদের মাঠের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খালটিতে অন্তত অর্ধশত বাঁধ দেয়া হয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন কায়দায় থানখোলার খাল, বরকতিয়ার খাল, লক্ষ্মীর খাল, কুয়াকাটার খাল, কচ্ছপখালীর খাল, খাজুরার কলইয়ার খাল, মিশ্রিপাড়ার খাল, চর ধুলাসার খাল, অনন্তপাড়া খাল, হলদিবাড়িয়ার খাল, নাওভাঙ্গা খাল, কাছকাটা খাল, আলীগঞ্জ খাল, সাপুড়িয়ার খাল, গোলবুনিয়ার খাল, কালির খাল, লেমুপাড়ার খাল, খেচাইপাড়া খাল, ফাফরুর খাল, মুলাম খাল, মনোহরপুর খাল, মাছুয়াখালী-মাদারবুনিয়ার খাল, ক্যাবলার খাল, জমির হাওলাদারের খাল, ডাক্তারের খাল, মাছুয়াখালী খাল, নিশানবাড়িয়ার খাল, ব্যবাজিয়ার খাল, বাইনতলা খাল, গইয়াতলার খাল, টুঙ্গিবাড়িয়ার খাল, নীলগঞ্জ খাল, কুমিরমারা খাল, ফজুয়ার খাল, ইটবাড়িয়ার খাল, ডিমাপাড়া খাল, দারোগার খাল, নাচনাপাড়া খাল, চুঙ্গাপাশা খাল, জালিয়ার খাল, কাছিমখালী খাল, লোন্দা খাল, চালিতাবুনিয়া খাল, ধোলাইখাল, পাটুয়া শাখা খালসহ অন্তত তিনশ’ খাল দখল ও ভরাট চলছে। এভাবে কৃষকের কৃষিকাজে ব্যবহারের শত শত খাল দখল চলছে ফ্রি-স্টাইলে। অবস্থা এমন হয়েছে যে এসব খাল দখল ও ভরাটে এখনই কৃষিকাজে ভয়াবহ বিপর্যয় শুরু হয়েছে। কৃষক মৈত্রী কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি আলাউদ্দিন সিকদার জানান, তারা কেন্দ্র থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ে খাল দখল ও ভরাট বন্ধে বিভিন্নভাবে মানববন্ধন, প্রতিবাদ-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। কিন্তু দখল ভরাট বন্ধ হচ্ছে না। ফলে কৃষিকাজে ব্যবহারের পানির তীব্র সঙ্কট শুরু হয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ উপজেলা প্রশাসনের সকলের বক্তব্য এক, উদ্ধারে এবং ভরাট বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবেন কিংবা নিচ্ছেন। তবে কৃষকের দাবি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে খালের মধ্যে দেয়া বাঁধ কেটে দেয়ার জন্য গণমুখী ব্যবস্থা নেয়া হোক। নইলে কৃষিকাজ বন্ধের শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিইডি এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসূত্র দাবি করেছে তারা ফি বছর ১০/১২টি খাল পুনর্খনন করছেন।

বান্দরবান পৌর এলাকায় ১০ দিন পানি সরবরাহ বন্ধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, থেকে জানান, বান্দরবানের পৌর এলাকায় গত ১০ দিন ধরে পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার কারণে বিশুদ্ধ পানি চরম সঙ্কটে পড়েছে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, বান্দরবান পৌর পানি বিতরণ কেন্দ্রে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণ দেখিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ। গত ১০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত যান্ত্রিক সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল। ফলে বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে পৌর এলাকায়। আরও জানা গেছে, বান্দরবান শহরের মেম্বারপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, ইসলামপুর, লাঙ্গিপাড়া, বাসস্টেশন, নিউগুলশান, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটাসহ বিভিন্ন পাড়ার লক্ষাধিক মানুষ তীব্র পানি সঙ্কটে ভুগছে।

জানা গেছে, বান্দরবান পৌর এলাকার লোকসংখ্যা ৬৫ হাজার। পৌর এলাকায় ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪৫ গ্যালন পানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে ৯ লাখ ৫৬ হাজার গ্যালন পানি সরবরাহ করে থাকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। জেলা শহরের বনরূপা পাড়ার মোঃ সোহেল জানান, সারাদিন পরিশ্রম করে বাসায় এসে পানির অভাবে গোসল করাতো দূরে থাক, পান করার পানি পর্যন্ত পায়না।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মঞ্জেল হোসেন বলেন, কয়েকটি মোটর নষ্ট হয়ে পড়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ আছে, দু-একদিনের মধ্যে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।