২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

রূপগঞ্জে কৃষকের জমি ভরাট ॥ সংঘর্ষে আহত ১৫


নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ২৪ মার্চ ॥ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্থানীয় কৃষকদের জমি না কিনে জোরপূর্বক বালু ভরাট করে জবরদখল করার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা আশালয় ও ঢাকা ভিলেজ নামে দুটি আবাসন প্রকল্পের সাইট অফিসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন। বিক্ষুব্ধরা আবাসন প্রকল্পের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত সন্ত্রাসীরাও পাল্টা হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিতলগঞ্জ এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

জানা গেছে, কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই প্রায় আট বছর পূর্বে পিতলগঞ্জ এলাকায় ঢাকা ভিলেজ ও আশালয় হাউজিং প্রকল্প নামে দুুটি আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। শুরুতে কৃষকদের বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে জমি ভাড়া নিয়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। পরে আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত স্থানীয় প্রভাবশালীরা কিছু জমি কিনে বালু ভরাট ও জবরদখল শুরু করে। ৫ বিঘা ক্রয় করে ১০ বিঘা বালু ভরাট করে ফেলে। পরে জবরদখল করা জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। এভাবে গত সাত থেকে আট বছরে আবাসন প্রকল্পের কেনা জমির পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের শতাধিক বিঘা জমি বালু ভরাট করে জবরদখল করে রেখেছে আবাসন প্রকল্প দুটি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জমির মালিকদের পক্ষে স্থানীয় জনতা আশালয় ও ঢাকা ভিলেজ আবাসন প্রকল্পে গিয়ে তাদের জবরদখল করা জমি ফেরত চায়। এ সময় উপস্থিত আবাসন প্রকল্পের নিয়োজিত লোকজন কৃষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে আবাসন প্রকল্প দুটিতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শুরু করে। পরে আবাসন প্রকল্পের লোকজনও পাল্টা হামলা চালায়।

সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৯

রূপগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘরসহ আসবাবপত্র ভাংচুর এবং লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবাদ করায় সংখ্যালঘু পরিবারের নারীসহ ৯ জনকে লাঠিপেটা করে আহত করা হয়েছে। বুধবার রাতে উপজেলার পিতলগঞ্জ মনিপাড়া এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতরা জানান, পিতলগঞ্জ মনিপাড়া এলাকার একটি জমি নিয়ে বিমল চন্দ্র দাসের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পিতলগঞ্জ এলাকার সালাউদ্দিনের পূর্ব শত্রুতা চলে আসছিল। সালাউদ্দিনসহ তার লোকজন প্রায় সময়ই সংখ্যালঘু বিমল চন্দ্র দাসসহ তার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। বুধবার ৩ শতাংশের এক টুকরো জমি বিক্রি করেন বিমল চন্দ্র দাসসহ তার পরিবার।

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাত ৯টার দিকে প্রতিপক্ষ সালাউদ্দিন, শাহজাহান, শামীম, আবুলসহ ১০/১২ জনের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিমল চন্দ্র দাসের বাড়িঘরে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় প্রতিবাদ করায় বিমল চন্দ্র দাসসহ, সিতা রানী, দেবী রানী, বীণা রানী, কানুন রানী, সঞ্জীবন, রঞ্জিত, সঞ্জিত ও সুখী রানী দাসকে লাঠিপেটা করে আহত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।