১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ধারা সৃষ্টির আশঙ্কা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্যাকিং ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ধারার আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা চেম্বার জানায়, রিজার্ভ হ্যাকিং ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে বহুমুখী প্রভাব ফেলতে পারে। এতে বলা হয়, এ ঘটনার ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, ক্রেডিট রেটিং ব্যবস্থায় বাংলাদেশের স্থান অবনমন, এক্সচেঞ্জ রেটের ক্ষেত্রে টাকার মূল্যমানের অবনমন এবং সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে নিম্নমুখী ধারার আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্যাকিং ঘটনার কারণে বাংলাদেশী মুদ্রার মূল্যমানের অবনমন, রফতানি বাণিজ্যে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রবণতা বাড়তে পারে বলে মনে করে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্যে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আমাদের আমদানি নির্ভর অর্থনীতির রফতানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

অপরদিকে রিজার্ভ হ্যাকিং ঘটনায় রেমিটেন্স প্রবাহ এবং সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতিতে স্থানীয় বেসরকারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির উদ্যোগসহ অন্য বিষয়গুলো সাময়িক বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে এ ঘটনার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ডিসিসিআই আশা করে, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি নিয়োগ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্যাকিং ঘটনায় জড়িতদের অতি দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে। সামনের দিনগুলোতে দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যুগোপোযোগী তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করে ডিসিসিআই।

সুইফটের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চোরেরা কিভাবে ফেডারেল রিজার্ভের এ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিল তা নিয়ে একটি তদন্তের দাবি করেছেন মার্কিন এক কংগ্রেস সদস্য। বার্তা সংস্থা রয়টার জানাচ্ছে, মঙ্গলবার নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে একটি চিঠি দিয়ে এ দাবি জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক দলীয় কংগ্রেস সদস্যা ক্যারোলিন ম্যালোনি।

চিঠিতে মিজ ম্যালোনি লিখেছেন, দুর্বৃত্তরা কিভাবে ব্যাংকের নিরাপত্তা সুরক্ষা পাশ কাটাতে পারল একটা বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে সেটা আমাদের জানা দরকার। এর মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো হ্যাকার ও সাইবার অপরাধীদের ঠেকানোর জন্য এমন একটি মানদ- ঠিক করতে পারবে যাতে করে নিউইয়র্ক ফেডের এ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ হাতিয়ে নেবার মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে। তিনি বলেন, তিনি ফেডারেল রিজার্ভে একটি একান্ত বৈঠক চান যেখানে ব্যাংক কর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হবে বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিতে সুইফট মেসেজিং নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করা ঠিক হচ্ছে কি না। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, বেলজিয়াম ভিত্তিক সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকম্যুনিকেশন) মূলত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ স্থানান্তরের জন্য একটি বার্তা বিনিময় মাধ্যম। বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য এই বার্তা বিনিময় ব্যবস্থাকে নিরাপদ বলেই মনে করা হয়। কিন্তু ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ হাতিয়ে নেবার ঘটনার পর এই সুইফটের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।