১৩ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ব্যর্থ ইউরোপীয় গোয়েন্দারা


সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে তথ্যবিনিময় এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ হলো ব্রাসেলসে হামলার একদিন পর হামলাকারীদের বুধবার শনাক্ত করা। এর একদিন আগে মঙ্গলবার তারা বেলজিয়ামের রাজধানীতে রক্তক্ষয়ী হামলা চালায়। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হামলাকারীদের একজন ইব্রাহিম আল-বাকরাউয়িকে গত বছর নেদারল্যান্ডসে ফেরত পাঠানো হয়েছিল জানিয়ে তুরস্ক বলেছে, ফেরত পাঠানো ওই ব্যক্তি জঙ্গী।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান বুধবার আঙ্কারায় এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, বিষয়টি বেলজিয়াম ও ডাচ্ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা তুর্কি সতর্কতাকে আমলে নেয়নি। এখন এটি পরিষ্কার যে, জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সন্ত্রাসীরা জাতীয় গ-ি পেরিয়ে সীমান্তজুড়ে সক্রিয় সহযোগিতা করছে। এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইউরোপের জন্য ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইউরোপীয় দেশগুলোও কি একই তৎপরতা চালাতে সক্ষম। তবে তাদের মনোভাব আশাব্যঞ্জক নয়। প্যান-ইউরোপিয়ান গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বুধবার ফের বিভিন্ন দেশের মধ্যে তথ্য কার্যকরভাবে বিনিময়ের আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখানে জাতীয় গর্ববোধ ও আমলাতান্ত্রিকতা মৌলিক বাধা।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এমনকি দেশের মধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্যবিনিময় করে না। ফ্রান্সেই শুধু এমন ৩৩টি গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। ফ্রান্সের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান সমন্বয়ক জ্যঁ মারি দেলারুয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর স্বভাব এটি নয় কি তথ্য নিজেদের মধ্যে রাখা। তথ্যই শক্তি। কিন্তু গোয়েন্দাদের শুধু শত্রু আছে, কোন বন্ধু নেই। আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা সম্ভবত মঙ্গলবারের হামলা প্রতিরোধে সহায়ক হতো। এরদোগান বলেছেন, বাকরাউয়িকে সিরীয় সীমান্ত সংলগ্ন তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপ থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি বেলজিয়ামের নাগরিক হওয়ায় তার বিষয়ে বেলজীয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়। এ তথ্য পেয়ে দুই দেশের গোয়েন্দারা কি করেছিল এবং এ বিষয়ে তারা ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে তথ্যবিনিময় করেছিল কিনা, তা স্পষ্ট নয়। এটি এখন নিশ্চিত যে, আন্তঃইউরোপীয় সহযোগিতার অভাবে শুধু ব্রাসেলসেরই ব্যাপক ক্ষতি হয়নি, গত বছরের নবেম্বরের প্যারিস হামলাও প্রতিহত করা যায়নি। প্যারিস হামলার ষড়যন্ত্রকারীরা ইউরোপের ভেতরে দ্রুত যাতায়াত করতে পারত। তাই তারা বেলজিয়ামে বসে পরিকল্পনা করে ফ্রান্সে গিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম হয়। এরপর এক হামলাকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অবাধে চলাচলের সুবিধা নিয়ে আবারও সীমান্ত পার হওয়ার সুযোগ পায়। প্যারিস হামলার পর দেলারুয়ে বলেছিলেন, আমরা ইইউয়ের সঙ্গে সংহতির শিকার।

আমাদের মনে হয় ইইউতে সহযোগিতা থাকা উচিত। অন্য দেশগুলো আমাদের কি দিয়েছে, আমরা তার ওপর নির্ভর করি এবং আমি মনে করি না, বেলজিয়াম আমাদের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছে। ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা এলিয়াঁ জুইলেট বলেছেন, বড় শিক্ষা হলো সীমানা পুনর্স্থাপন এবং ভাল সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা। এক্ষেত্রে আমাদের বেলজিয়ামের সঙ্গে একটি স্থায়ী লিয়াজোঁ প্রয়োজন। প্যারিস হামলার সময় ভাবা হয়েছিল, এর সঙ্গে জড়িত চক্র খুব বড় নয়। কিন্তু মঙ্গলবারের হামলা সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। প্যারিস হামলার মূলহোতা আবদুল হামিদ আবাউদ ছিলেন বেলজিয়ামের নাগরিক। প্যারিস হামলার পাঁচ দিন পর তিনি পুলিশের গুলিতে মারা যান। বেলজিয়ামের গোয়েন্দা তথ্যমতে, ছোট এ দেশটি থেকেই প্রায় ৫০০ মুসলিম আইএসের পক্ষে লড়াই করতে সিরিয়া ও ইরাকে গেছে। এদের অনেকে লড়াইয়ে মারা গেছে। অনেকে এখন লড়ছে। আবার অনেকে প্রশিক্ষিত হয়ে ফিরে এসেছে। বেলজীয় কর্তৃপক্ষের ধারণা- আবাউদের মতো প্রায় ১০০ জন আইএসের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে বেলজিয়াম ফিরে এসেছে। তারাই এখন পুরো ইউরোপকে অস্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জন্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্রাসেলসকেই বেছে নিচ্ছে তারা। গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ইউরোপে সন্ত্রাস দমন সমন্বয়কারী রয়েছে। তবে ফরাসী পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে এ তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল বলে অভিহিত করা হয়েছে । নিউইয়র্ক টাইমস।