মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

শ্রীনগর ও সিরাজদিখানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা॥ আহত হচ্ছে কর্মীরা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬, ০৬:০৪ পি. এম.

স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর ও ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় বাঁধা দিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতা কর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের বিবন্দী বাজারে এঘটনা ঘটে। তন্তর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীদের হামলায় জখম হয়েছে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর এক কর্মী। হাসাড়া ইউনিয়নেও অওয়ামী লীগর প্রার্থীর লোকজনের হামলায় আহত হয়েছে দুই কর্মী। পৃথক এ হামলায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়া সিরাজদিখানে নির্বাচনী পরবর্তী সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ৫ ব্যক্তি। প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা যায়, কুকুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ প্রার্থী আঃ কাদির লিটনের কর্মী যুবলীগ নেতা আমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এসময় বিদ্রোহী প্রার্থী বাবুল হোসেন বাবুকে এক সমর্থকের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এসময় হ্যান্ড মাইকে ঘোষনা দিয়ে বিবন্দী বাজারে বাবুর ক্যাম্পটি গুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং পর পর কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে। পরে পুলিশ এসে বিদ্রেহিী প্রার্থী বাবুকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমিনউদ্দিন গ্রুপ পাচলদিয়া গ্রামে গিয়ে তান্ডব চালায়। অপরদিকে তন্তর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বুধবার রাত ৮টার দিকে বাড়ীতে ফেরার পথে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আলী আকবরের কর্মী রুহুল আমীন মোল্লা (৬৫) কে কুপিয়ে জখম করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকির হোসেনের কয়েকজন কর্মী। রুহুল আমীনকে প্রথমে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় ১০ জনকে আসামী করে শ্রীনগর থানায় মামলা হয়েছে। হাসাঁড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহসান হাবীবের লোকজন বুধবার দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী সোলায়মানের দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ এসে কুকুটিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরিস্থিথি এখনশান্তও রয়েছে। মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের রাজনগর ও ছোট মধ্যনগর গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালে বিজয়ী ও পরাজিত দুই মেম্বার প্রার্থী গ্রুপের মধ্যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ৫ জন টেঁটা ও জুইতা বিদ্ধ হয়েছে। এ সময় বিজয়ী মেম্বার সমর্থক আফজাল হোসেনের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। টেঁটাবিদ্ধ আফজাল হোসেন (৩৫), হালিমা বেগম (৪৫), রিয়াজুল ইসলাম (২৫)-কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও আমির হোসেন (২৮)-কে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নে রাজনগর ও ছোট মধ্যনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়ী ইউপি সদস্য মো. আফজাল ও পরাজিত ইউপি সদস্য শাহআলী সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষে বাধে। এ সময় শাহআলী সমর্থকদের হামলায় রাজনগর গ্রামের হালিমা বেগম(৪৫), রিয়াজুল(২৫), আমির হোসেন(২৮) টেঁটাবিদ্ধ হয়। পরে শাহআলী গ্রুপ পাশ্ববর্তী ছোট মধ্যনগর গ্রামে হামলা চালায়। এ সময় ওই গ্রামের আফজাল হোসেনকে(৩৫) টেঁটাবিদ্ধ করে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের দিন কেন্দ্রের বাইরের সহিংসতায় সাড়ে ৪ শ’ আসামী করে মামলা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬, ০৬:০৪ পি. এম.

২৪/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



শীর্ষ সংবাদ: