১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

এ বার ওয়াঘার এ পারেও আফ্রিদির মন্তব্য নিয়ে ঝড়


এ বার ওয়াঘার এ পারেও আফ্রিদির মন্তব্য নিয়ে ঝড়

অনলাইন ডেস্ক ॥ তাঁর এক মন্তব্যে ঝড় উঠেছিল ওয়াঘার ও পারে। এ বার তাঁর আর এক মন্তব্যে ঝড় উঠল ওয়াঘার এ পারে। ভারতে বিতর্ক যেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদিকে ছায়ার মতো অনুসরণ করছে।

মঙ্গলবার পাক সমর্থকে ভরা মোহালির গ্যালারি দেখে টসের পর আফ্রিদি মাঠে দাঁড়িয়েই বলেন, ‘‘প্রচুর মানুষ এসেছেন আমাদের সমর্থন করতে। এমনকী কাশ্মীর থেকেও অনেকে এসেছেন। কলকাতার মানুষকেও আমি ধন্যবাদ দিতে চাই। তাঁরাও আমাদের সমর্থন করেছেন।’’

মঙ্গলবার আফ্রিদির মুখ থেকে এই কথা শোনার পরই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। ক্ষোভ উগড়ে দেন ভারতীয় বোর্ড সচিব ও বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিচারে আফ্রিদির এই মন্তব্য একদমই ঠিক নয়। খেলোয়াড়দের এই সব থেকে দূরে থাকা উচিত। এই কারণেই পাকিস্তানেও ওর সমালোচনা হয়েছে।’’ আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লও বলে দেন, ‘‘এই ভাবে অযথা কাশ্মীরকে টেনে আনতে গেল কেন আফ্রিদি, জানি না। এই মন্তব্য করা ওর মোটেও উচিত হয়নি।’’

বিস্তর টালবাহানার পর বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে পা রাখার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে আফ্রিদি বলেছিলেন, ‘‘পাকিস্তানের চেয়ে ভারতে আমরা অনেক বেশি ভালবাসা পেয়েছি।’’ সেই মন্তব্য নিয়ে পাকিস্তানে কম আগুন জ্বলেনি। মামলা পর্যন্ত হয়েছে আফ্রিদির নামে। ক্ষোভে ফেটে পড়েন জাভেদ মিয়াঁদাদ। অবশ্য ইমরান খানের মতো কিংবদন্তিকেও পাশে পেয়েছেন পাক অধিনায়ক। সে বার বোর্ডের টুইটার হ্যান্ডলে বিবৃতি দিয়ে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিতে হয়েছিল আফ্রিদিকে।

এ বার আবার একটা অসাবধানী মন্তব্য। যা ফের বিতর্ক সৃষ্টি করল। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রথম মন্তব্যটা করে আফ্রিদি দেশে যা বিতর্ক তৈরি করেছিলেন, তারই ড্যামেজ কন্ট্রোল করলেন পরের মন্তব্যটা করে। চণ্ডীগড়ে থাকা পাকিস্তান শিবিরে অবশ্য ভারতীয় বোর্ডের প্রতিক্রিয়ার কথা বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পৌঁছয়নি। খবরটা দিতেই এক কর্তা বেশ বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘‘এ রকম একটা দুঃসময়ে এই ধরণের অনর্থক বিতর্ক তৈরির কোনও মানে হয় না।’’ দলের মিডিয়া ম্যানেজার আগা আকবর সাফ জানিয়ে দেন, ‘‘এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’’

মঙ্গলবার মোহালির গ্যালারিতে পাকিস্তানের সমর্থকদের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো। কাশ্মীর থেকে বেশ কিছু মানুষ এসেছিলেন আফ্রিদিদের হয়ে গলা ফাটাতে। চণ্ডীগড়ে এমনিতেই বহু কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করেন। তাঁদের অনেকেই এসেছিলেন। এমনকী গ্যালারিতে পোস্টারও দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল, ‘উই আর হিয়ার ফর আফ্রিদি, ফ্রম কাশ্মীর উইথ লাভ’। এক মহিলার হাতে দেখা যায় সেই পোস্টার। ‘বুম বুম আফ্রিদি’ লেখা পোস্টারও দেখা গিয়েছিল সে দিনের গ্যালারিতে। শার্জিল খানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সময় গ্যালারিতে দেখা যায়, ‘তেন্ডুলকর ইজ ব্যাক, কোহলি’ লেখা পোস্টারও। মুখে পাকিস্তানি পতাকা আঁকা তরুণদেরও প্রচুর দেখা গিয়েছিল।

স্থানীয় মিডিয়া সূত্রের খবর, আফ্রিদির তুতো ভাই মুস্তাক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওয়াঘা পেরিয়ে মোহালিতে খেলা দেখতে এসেছিলেন মঙ্গলবার। সুদূর শিকাগো থেকে পাকিস্তানের এক সমর্থক মহম্মদ বশির, যাঁকে ‘শিকাগো চাচা’ বলে ডাকা হয়, তিনিও এসেছিলেন। ওয়েইস সেলিম নামের এক কাশ্মীরি তাঁর ২৫জন বন্ধুর সঙ্গে কাশ্মীর থেকে এসেছিলেন বলে খবর। তাঁরা শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেও পাকিস্তানের হয়ে গলা ফাটাতে আসবেন বলে জানিয়ে গিয়েছেন। সুদূর ইয়র্কশায়ার থেকে আসা দুই পাক সমর্থক ইশরার ও সাহজিরা হায়দারকেও সে দিন খুঁজে পাওয়া যায় গ্যালারিতে। গ্যালারির এই চেহারা দেখে বোঝার উপায় ছিল না ম্যাচটা ভারতের পঞ্জাবে হচ্ছে, না পাকিস্তানের পঞ্জাবে।

এই দৃশ্য দেখেই আফ্রিদি বোধহয় একটু বেশিই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন! তখন আর কী করে জানবেন, এ জন্য তাঁকে ফের বিতর্কের চোরাবালিতে পড়তে হবে?

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা