মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৮ আশ্বিন ১৪২৪, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

হ্যাটট্রিক হারে বাংলাদেশের বিদায়

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

জাহিদুল আলম জয় ॥ হাতছোঁয়া দূরত্বে এসেও স্পর্শ করা গেল না জয়টাকে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, উত্তেজনাপূর্ণ ও রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে মাত্র ১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। গোটা ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলা টাইগারদের এ যেন তীরে এসে তরী ডোবানো। অপ্রত্যাশিত এ হারের জন্য দুই ‘ভাইরা’ মুশফিক-মাহমুদুল্লাহর কা-জ্ঞানহীনতাকেই দুষছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

বুধবার রাতে ব্যাঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সুপার টেনের দুই নম্বর গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য ১৪৭ রানের টার্গেট পায় লাল-সবুজের দেশ। টস জিতে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ভারত জড়ো করে ১৪৬ রান। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ করতে সক্ষম হয় ১৪৫ রান। এর ফলে তিন ম্যাচে দুই জয়ে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা জোরালো করল ধোনির ভারত। আর টানা তিন হারে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। ২৬ মার্চ কলকাতায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলবেন মাশরাফি, সাকিব, মাহমুদুল্লাহরা।

কাক্সিক্ষত জয়ের লক্ষ্যে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে আসেন দুই টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ মিথুন। ইনিংসের প্রথম বলেই আশিস নেহরাকে চার হাঁকিয়ে শুভ ইঙ্গিত দেন পেটের পীড়া ও জ্বর কাটিয়ে ফেরা তামিম। তিন নম্বর ওভারের দ্বিতীয় বলে প্রথম আঘাত পায় টাইগাররা। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে পা-িয়ার দুর্দান্ত ক্যাচে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন মিথুন। এরপর দুরন্ত তামিমের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হন আরেক ভরসার প্রতীক সাব্বির রহমান। দু’জনে চেষ্টা করতে থাকেন দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে। পঞ্চম ওভারের চতুর্থ বলে ‘নতুন জীবন’ পান তামিম। অশ্বিনের বলে সুইপ করতে গেলে ক্যাচ উঠে যায়। কিন্তু সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন ভারতীয় পেসার জাসপ্রিট বুমরা। এ সময় তামিমের রান ছিল ১৫। জীবন পাওয়ার পর তামিমের পাশাপাশি বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন সাব্বিরও। তবে নবজীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি চট্টলার তারকা। অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে রবীন্দ্র জাদেজা ধোনির হাতে স্টাম্পিং করিয়ে তামিমকে সাজঘরে ফেরান। দলীয় রান তখন ৫৫। অর্থাৎ দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম-সাব্বির করেন ৪৪ রান। বিদায়বেলায় তামিম পাঁচ চারের সাহায্যে ৩২ বলে করেন ৩৫ রান। এর পর উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গী হন সাকিব আল হাসান। ধারাবাহিক পারফরমার সাব্বির সেট হওয়ার পরও উইকেট একপ্রকার বিসর্জন দিয়ে আসেন! ১০ম ওভারে রায়নার বলে ফের ধোনির হাতে স্টাম্পিং হন সাব্বির। বিদায়ক্ষণে তিনি করেন ১৫ বলে ২৬ রান। তিন চার ও এক ছক্কায় সাব্বির এ রান করেন। এর পর চমক দেখিয়ে পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করতে আসেন দলনায়ক মাশরাফি। ছক্কা হাঁকিয়ে ভাল কিছুর ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। কিন্তু টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দলীয় ৮৭রানে ইনিংসের ১২ নম্বর ওভারের প্রথম বলে জাদেজা বোল্ড করেন মাশরাফিকে। দলীয় ৯৫ রানে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সাকিবকে সাজঘরে পাঠিয়ে ভারতকে ম্যাচে ফেরান পা-িয়া। দুই ছক্কায় ১৫ বলে সাকিব করেন ২২ রান। পাঁচ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন মাহমুদুল্লাহ ও সৌম্য সরকার। শেষ ওভারে পা-িয়ার দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে চার হাঁকিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান মুশফিক। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম বলে মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ দু’জনই অহেতুক আউট হয়ে দলকে ডোবান। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ২ রান। ১ রান করলেও ‘টাই’। কিন্তু পা-িয়ার বলে রান নিতে পারেননি শুভাগত। ‘বাই’ রান নিতে গিয়ে রানআউট হন মুস্তাফিজুর। ফলে ১ রানে হেরে কান্নাভেজা বিদায় হয় মাশরাফিদের। পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা দুই ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না টাইগারদের। এ লক্ষ্যে আসরে প্রথমবারের মতো টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন দলনায়ক মাশরাফি। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দেন বোলাররা। পুরো ম্যাচেই দারুণ ছন্দময় বোলিং করেন সাকিব, মাশরাফি, মাহমুদুল্লাহরা। সেই সঙ্গে টাইগারদের ফিল্ডিংও ছিল দৃষ্টিনন্দন। ব্যাটসম্যানরা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারলে জয়ের ভাল সম্ভাবনা আছে ‘টিম বাংলাদেশের’। প্রথম ছয় ওভার অর্থাৎ পাওয়ার প্লেতে শক্তিশালী ভারতকে বাংলাদেশী বোলাররা আটকে রাখেন ৪২ রানে। তুলে নেন রোহিত শর্মার উইকেটও। ১০ ওভার শেষেও ভারতের সংগ্রহকে খুব একটা মজবুত হতে দেননি মাশরাফি, শুভাগত, সাকিবরা। প্রথম ৬০ বল থেকে ভারত করতে পারে ২ উইকেটে ৫৯ রান। এর পর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ৪৫ রানের মধ্যে দুই ওপেনার বিদায় নিলেও মিডল অর্ডারে দুই ড্যাশিং ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়নার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াই করার পুঁজি পায় টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫০ রান করেন কোহলি-রায়না। এর পর দলীয় ৯৫ রানে শুভাগত হোমের বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন কোহলি (২৪)। দলীয় ১১২ রানে পর পর দুই বলে রায়না ও হারদিক পা-িয়াকে আউট করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোটাই বাংলাদেশের অধীনে এনে দেন পেসার আল-আমিন হোসেন। কোহলি ও রায়না বিদায় নেয়ার পর ভারতের আর কোন ব্যাটসম্যানই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। টাইগার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভারতের সংগ্রহশালায় জড়ো হয় ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান। ভারতের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন রায়না। এছাড়া কোহলি ২৪, শিখর ধাওয়ান ২৩ ও রোহিত শর্মা করেন ১৮ রান। বাংলাদেশের পক্ষে আল-আমিন হোসেন ৩৭ রানে ২টি ও মুস্তাফিজুর রহমান ৩৪ রানে ২ টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া শুভাগত ২৪ রানে ১, সাকিব আল হাসান ২৩ রানে ১ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ৪ রানে ১ উইকেট লাভ করেন।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

২৪/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: