২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কারিগরি কারণে ফোর জি মোবাইল লাইসেন্সের নিলাম হচ্ছে না এ মাসে


ফিরোজ মান্না ॥ চতুর্থ প্রজম্মের (ফোর-জি) মোবাইল সেবার লাইসেন্স নিলাম এ মাসে হচ্ছে না। বিটিআরসি গত বছরের শেষ দিকে ফোর-জি লাইসেন্সের গাইডলাইন তৈরি করেছে। তখন বলা হয়েছিল মার্চ মাসে ফোর-জি লাইসেন্সের নিলাম করা হবে। বিটিআরসির গাইডলাইন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিও পেয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। এরপর থেকে বিটিআরসি ফোর-জি এবং এলটিইর (লং টার্ম এভিলিউশন) কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে ৭০০ মেগাহার্জ তরঙ্গ ও এক হাজার ৮০০ মেগাহার্জ তরঙ্গের ব্যবহারে প্রযুক্তি নিরপেক্ষ নীতিমালাও তৈরি করেছে বিটিআরসি। যাতে একটা তরঙ্গ দিয়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি দুটো নেটওয়ার্কই পরিচালনা করা যায়। এতে ব্যয় সংকোচন হবে। গ্রাহক সুবিধাও বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় গত ডিসেম্বরে বলেন, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ফোর জি সুবিধার নিলাম অনুষ্ঠান করা হবে। এ সরকারের মেয়াদেই ফোর জি মোবাইল সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। আমরা থ্রি জি (তৃতীয় প্রজম্মের) ফোন সেবা বাস্তবায়ন করেছি। থ্রি জি সেবা উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে অল্পদিনের মধ্যে। এক জায়গায় থেমে থাকতে চাই না। তথ্য প্রযুক্তিতে শুধু একটা টার্গেটে খুশি হতে চাই না, তথ্যপ্রযুক্তির সব সেক্টরের উন্নয়ন নিয়েই খুশি হতে চাই। ২০১৬ সালে ফেব্রুয়ারি মার্চে ফোর জির স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেয়া হবে। স্পেকট্রাম বরাদ্দ হলেই এ বছরেই ফোর জি সেবা গ্রাহকদের পৌঁছে দেয়া হবে। গ্রাহকরা থ্রি জির চেয়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। দেশের গ্রামাঞ্চলেও এই সেবার পরিধি বাড়ানো হবে। উদ্দেশ্য গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য কমানো। শহরের মানুষ শুধু প্রযুক্তির সেবা পাবেন আর গ্রামের মানুষ পাবেন না। এমন বৈষম্য রাখা হবে না। দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে এগিয়ে নিতে হলে সারাদেশেই সমভাবে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকার এই উদ্দেশ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। ইন্টারনেট হয়ে যাচ্ছে আমাদের সাধারণ একটি সেবা, ভবিষ্যতের জন্য করতে হবে ইন্টারনেট নিউট্রালিটি বা নেট নিউট্রালিটি পলিসি। একটি স্ট্রং পলিসি করা হবে। যাতে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, ইন্টারনেট যাতে সব মানুষের কাছে সমান থাকে ও কম খরচে সবার কাছে পৌঁছানো হবে।

ফোর-জি নিলামের বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এর আগে বলেন, ফোর-জি নিলামের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে। আমরা ফোর-জি নিলামের জন্য বিটিআরসির গাইডলাইন পেয়েছি। উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে ফোর-জি নিলাম করা হবে। মার্চ মাসে ফোর-জি নিলামের সময় ধরা হয়েছে। দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারা একের পর এক বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অনেক কিছুই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরও অনেক কিছু বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

এদিকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এ মাসে ফোর-জি নিলাম করা সম্ভব হবে না। যদিও আমাদের প্রস্তুতি ছিল ফোর মার্চেই নিলাম করার। ফোর-জি নিলামের সব ধরনের অনুমতি পাওয়া গেছে সরকারের কাছ থেকে। কিন্তু কিছু কারিগরি কারণে এ মাসে করা যাচ্ছে না। তবে দু’-এক মাসের মধ্যে ফোর-জি নিলাম করা হবে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, ২০১৬ সালে তরঙ্গ (স্পেকট্রাম) বরাদ্দ দেয়া হবে। ২০১৩ সালের শেষের দিকে থ্রি-জি প্রযুক্তির সেবা চালু করে দেশের পাঁচটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠান। থ্রি-জি’র অতিরিক্ত কিছু তরঙ্গ নিলামের তারিখ দেয়া ছিল। তবে ট্যাক্সেশন ও অন্যান্য কারণে অপারেটররা অংশ নিতে চায়নি। এখন তারা বলছে আবার অংশ নেবে। আরও উন্নত সেবার জন্য তাদের বাড়তি তরঙ্গ প্রয়োজন। গাইডলাইন ঠিক হয়েছে, দ্রুত থ্রি-জির বাকি তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হবে।

সূত্র জানিয়েছে, এ জন্য ভবিষ্যতে তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে আরও অনেক উন্নয়ন করতে হবে। এখনই মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের মানুষের উন্নয়নই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। সব জায়গায় দুর্নীতি হলেও কম্পিউটার কখনও দুর্নীতি করে না। দেশের প্রতিটি মানুষকে যেন সরকারী সেবা পেতে কষ্ট না হয় সে জন্য গ্রাম পর্যায়ে কম্পিউটার নিয়ে যাওয়া হবে। যখন দেশের সব অফিস তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আসবে দুর্নীতি বহুগুণে কমে যাবে। ধীরে ধীরে সেই কাজটিই করা হচ্ছে। গত ছয় বছর আগে ডিজিটাল বলে তেমন কিছু ছিল না। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করছে। তৈরি করা হয়েছে ডাটা ব্যাংক। এখানে দুই লাখের বেশি সরকারী ডাটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। সবার আগে দরকার সাইবার সিকিউরিটি। এটাও করা হবে। যাতে সাইবার হামলায় কোন তথ্য বিলীন না হয়ে যায়। আর এটা করতে পারলে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ভিত্তিক আরও শক্ত হবে। যদি সাইবার সিকিউরিটি না তৈরি করা যায় তাহলে এগুলোকে রক্ষা করা মুশকিল হবে।