২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শ্যালা নদীতে অবশেষে স্থায়ীভাবে নৌযান চলাচল বন্ধ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুন্দরবনের শ্যালা নদী দিয়ে স্থায়ীভাবে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বুধবার নদী রক্ষায় গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে নৌপথটি বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বন্দর ব্যবহারকারী নৌযানকে কেবলমাত্র মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। তবে এখন শ্যালা নদীতে অবস্থানকারী জাহাজ গুলোকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

১৯ মার্চ সুন্দরবনের শেলা নদীতে এক হাজার ২৩৫ টন কয়লা নিয়ে সি হর্স-১ নামে একটি কোস্টার ডুবে যায়। তবে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর একই নদীতে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ডুবলে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধর দাবি ওঠে।

গত বছরের ২৭ অক্টোবর সুন্দরবনের জয়মনির ঘোলে একই নদীতে ডুবে যায় কয়লা-বোঝাই আরেকটি লাইটার জাহাজ ‘এমভি জিয়া-রাজ ২৭’। নৌযানটি দীর্ঘ পাঁচ মাসেও উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। এতে সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত ১৯ মার্চ সি হর্স-১ আগে থেকে নিমজ্জিত এমভি জিয়া-রাজ ২৭-এর ধাক্কা লেগেছিল বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ফার্নেস তেলবাহী সাউদার্ন স্টার-৭ ডুবিতে সুন্দরবনের সব থেকে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়। ওই সময়ে দেশে-বিদেশে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধর নির্দেশনা দাবি করে সরকারের কাছে। যদিও সরকার ওই সময় মংলা-ঘষিয়াখালি চ্যানেল চালু হওয়া পর্যন্ত শ্যালা ব্যবহার অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিল।

নদী রক্ষা টাস্কফোর্সের বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ও পরে কয়লাবাহী জাহাজ দুর্ঘটনায় পরিবেশগত কিছু হুমকি দেখা দিয়েছে, এতে জাতি উদ্বিগ্ন। বর্তমানে ১২ ফুট ড্রাফটের (গভীরতা) জাহাজ মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল দিয়ে চলাচল করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার চেয়ে বেশি গভীরতার জাহাজ শেলা নদী দিয়ে চলত। ভারত-বাংলাদেশ প্রোটকল রুটে ১২ ফুটের বেশি গভীরতার কয়েকটি জাহাজ আটকে আছে জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, বুধবারই সেগুলো শ্যালা নদী দিয়ে পার করিয়ে দেয়া হবে। এরপর আর কোন জাহাজ শ্যালা নদী দিয়ে চলাচল করবে না। এটি আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি।

জানা যায়, সুন্দরবন রক্ষায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথ খননের পরও বিকল্প নৌপথটি পুরোপুরি সচল হয়নি। দীর্ঘ ১৯ মাস খনন কাজ অব্যাহত থাকলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত ফয়লাহাট স্লুইসগেট, সরকারী খালের মুখে শত শত অবৈধ বাঁধ ও হাজার হাজার পরিবেশবিনাশী চিংড়ি ঘেরের কারণে অস্বাভাবিক হারে দ্রুত পলি জমায় বিকল্প নৌপথটি শতভাগ সচল হচ্ছে না। সঙ্গত কারণে সুন্দরবনের মধ্যদিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চালানো বন্ধ করতে বেগ পেতে হচ্ছিল।

বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নদ-নদীর নাব্যতা এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ অব্যাহত রাখা সংক্রান্ত টাস্কফোর্স এর ৩১তম সভা বুধবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আদি বুড়িগঙ্গা নদীকে বাঁচাতে সবধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নদী তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জরিপ কাজ চলবে ও অপদখলীয় উদ্ধারকৃত জায়গায় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে। আদি বুড়িগঙ্গা রক্ষার সার্বিক তদারকির কাজ করবে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদীর ‘সীমানা চিহ্নিতকরণ পিলার’ সঠিক স্থানে স্থাপনের যে সমস্ত অসামঞ্জস্য রয়েছে সেগুলো দূর করে নতুন পিলার প্রতিস্থাপন করা হবে। বৈঠকে বলা হয় ৩৫ ভাগ পিলার সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া বলা হয়, পাবনা জেলার বড়াল নদীর উপর নির্মিত ৩টি রাস্তা অপসারণ করা হয়েছে। সেখানে ব্রিজ তৈরি ও নদীতীরে বনায়ন করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণরোধে হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরে সরকারী উদ্যোগ জোরদার করা হবে।। আগামী ৩১ মার্চের পর হাজারীবাগে কোন কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের কমোডর এম জাকিউর রহমান ভূঁইয়া ও ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খান উপস্থিত ছিলেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০১০ ও বন আইন অনুযায়ী, সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ। জাতিসংঘের রামসার কনভেনশন অনুযায়ী, সুন্দরবন আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি জলাভূমি। ওই কনভেনশনে বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে স্বাক্ষর করে। এর শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ সুন্দরবনের জন্য ক্ষতিকর কোন ধরনের তৎপরতা চালাবে না।