মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২ আশ্বিন ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

জলে স্থলে ও মহাকাশে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬
জলে স্থলে ও মহাকাশে ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতা
  • মোদি-হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুত আমদানি ও ব্যান্ডউইথ রফতানি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ রফতানিকে এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি মাইফলক এবং আন্তঃযোগাযোগে ‘নতুন সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভিন্নরকম আনন্দমুখর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’দেশের সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক উল্লেখ করে বলেন, দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে দু’দেশের মধ্যে যে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছিল তা অটুট রয়েছে এবং তা আরও সুদূরপ্রসারী হচ্ছে। শুধু বস্তুতগত সংযোগই নয়, আমরা দুই দেশের মধ্যে ভার্চুয়াল সংযোগ, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, চিন্তা-চেতনার যোগাযোগসহ সব ধরনের সংযোগ স্থাপন করতে চাই।

জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ঐতিহাসিক এবং জল ও স্থলে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার যে সূচনা হয়েছে তাকে মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দুই দেশ মিলে বিশ্বের সামনে একটি উদাহরণ তৈরি করেছিÑ প্রতিবেশীর সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক রাখতে হয়; আন্তঃনির্ভরশীল পৃথিবী বাস্তবায়নের পথ কোনটা হতে পারে। জল-স্থল-নভঃ সব জায়গায় বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে চলছে আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে কুমিল্লায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সুইচ টিমে এসব কাজের উদ্বোধন করেন।

এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিরাজ করছিল আনন্দঘন পরিবেশ। সকাল সাড়ে ১০টার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অন্যদিকে দিল্লীতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের কর্তা ব্যক্তিদের নিয়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে আগরতলা থেকে সংযুক্ত ছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। অনুষ্ঠানের শুরুতেই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। প্রথমে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বক্তব্য রাখেন। এরপরে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এক অভূতপূর্ব সৌহার্দ্যপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের।

শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের সময় ভিন্নরকম আনন্দমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় দুই দেশে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বার বার করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই আগামীতে দু’দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও উচ্চমাত্রায় এবং পারস্পারিক সহযোগিতার মাধ্যমে সবক্ষেত্রে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে দুই দেশের জনগণের উন্নতি-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ম্যাচের বিষয়টিও স্থান পায়।

নরেন্দ্র মোদি শুরুতে বাংলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান। মোদির বাংলা বক্তব্য উচ্চারণ ও গতিতে খুব বেশি সাবলীল না হলেও তাঁর বক্তব্যে আন্তরিকতা ও আবেগের কোন কমতি ছিল না। বাংলায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতবাসীর তরফ থেকে জানাই অভিনন্দন। আমরা আনন্দিত। এর পর বক্তব্যের বাকি অংশটুকু অবশ্য হিন্দীতেই রাখেন নরেন্দ্র মোদি। মোদির বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও হিন্দীতে হোলি উৎসব উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও সে দেশের জনগণকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত দুই দেশের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গরা করতালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। দুই দেশেরই প্রধানমন্ত্রী স্ব স্ব মাতৃভাষা বাংলা ও হিন্দীতে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ত্রিপুরার প্রধানমন্ত্রী মানিক সরকারের সঙ্গেও আলাদাভাবে কথা বলেন।

উল্লেখ্য, এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে যোগ হলে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত, একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ভারত পেল ১০ ডিজিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত-বাংলাদেশ ৪শ’ কেভি ডবল সার্কিট লাইনটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুত সঞ্চালন শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেন ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুত এবং ব্যান্ডউইথ বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের আরেকটি মাইলফলক রচিত হয়েছে মন্তব্য করে বলেন, ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুত পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের আরেকটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো। তিনি বলেন, আমাদের সহযোগিতার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে আন্তঃযোগাযোগের সম্প্রসারণ। শুধু বস্তুগত সংযোগই নয়, আমরা দুই দেশের মধ্যে ভার্চুয়াল সংযোগ, মানুষে মানুষে যোগাযোগ, চিন্তা-চেতনার যোগাযোগসহ সকল ধরনের যোগাযোগ স্থাপন করতে চাই।

তিনি বলেন, বিদ্যুত আমদানি আমাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। আর বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ পাওয়ার ফলে ত্রিপুরা এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর মধ্যে ডিজিটাল সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং সেখানকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বন্ধনকে সুদৃঢ় করবে। তিনি বলেন, আমরা চাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। এ অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।

আঞ্চলিক আন্তঃসংযোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সড়ক, রেল যোগাযোগ, বিদ্যুত-গ্রিড এবং বিদ্যুত বিপণন খাতে সহযোগিতার জন্য আমরা বিবিআইএন ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় কাজ শুরু করেছি। এর আওতায় ভুটান ও নেপালের জলবিদ্যুত প্রকল্প উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগের জন্য প্রকল্প চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে। তিনি বলেন, যৌথ উদ্যোগে ভারতের সঙ্গে রামপালে কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র ছাড়াও ভুটান ও নেপালে জলবিদ্যুত প্রকল্পের জন্য কাজ চলছে। খুব দ্রুত এ কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। এ অঞ্চলে দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়তে সবার যৌথভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ভারত সরকার এবং ভারতীয় জনগণ যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন, সে কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। সেই থেকে আমাদের মধ্যে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা অটুট রয়েছে। বর্তমানে আরও সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে জ্বালানি খাত নিয়ে আমাদের দুই দেশের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক সৃষ্টি হয়েছে। যেটা এই অঞ্চলে প্রথম এবং আমরা ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি করছি। আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাব বলে আশা করছি। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতকেন্দ্র রামপালে নির্মাণ করা হচ্ছে। যা আমি মনে করি, দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এই অঞ্চলে দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে। এই দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ আমরা একা করতে পারি না। আমাদের যৌথ উদ্যোগ দরকার। এক্ষেত্রে তা আমরা অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে করতে সক্ষম হয়েছি। বরং এখন মনে করি, দুই দেশের মানুষ যারা এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে আছে তাদের জীবনমান যৌথভাবে উন্নত করতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, আমরা চাই দুই দেশেরই উন্নয়ন। এই অঞ্চলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত-বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে। আমি নিশ্চিত, আমাদের জনগণের বৃহৎ কল্যাণ সাধনের জন্য ভবিষ্যতে এ ধরনের আনন্দঘন আরও মুহূর্তের দেখা পাব।

ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, ড. মশিউর রহমান, তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা প্র্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ অংশে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ।

নরেন্দ্র মোদি যা বলেন ॥ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে এ ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে পার্শ্ববর্তী দুটি দেশ কী করে বোঝাপড়ার মাধ্যমে একই পথে এগিয়ে যেতে পারে তার দৃষ্টান্ত হলো আজ। প্রযুক্তির উৎকর্ষে দুটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও একজন মুখ্যমন্ত্রী মিলে কোন কিছুর উদ্বোধন, দুনিয়ায় এমন মুহূর্ত কমই আসে। ভবিষ্যতে দুই দেশের যোগাযোগে নতুন নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এ ঘটনায় আজ আমাদের মধ্যে এমন এক গেটওয়ে খুলছে, যা আমাদের আরও সামনে অগ্রসর হতে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ডিজিটাল বিশ্বের এ গেটওয়ে খুলছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আর ভারত যুক্ত হয়েই চলেছে, কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে সামনে বাড়ছে। বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ ও ভারত যেভাবে জলে, স্থলে এবং ডিজিটাল ওয়াল্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে, সেই সহযোগিতা মহাশূন্যেও সম্প্রসারিত করতে চায়। তিনি বলেন, ভারতের দৃঢ় ইচ্ছা জল, সড়ক ও আকাশপথে ভারত যেমন বাংলাদেশের পাশে ছিল, তেমনি মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পাশেও ভারত থাকতে আগ্রহী।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, বাংলাদেশ ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ প্রদান করায় আমাদের পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো নতুনভাবে ডিজিটাল বিশ্বে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ভারতের দুটি ইন্টারনেট গেটওয়ের একটি পশ্চিমাঞ্চলে এবং অপরটি দক্ষিণাঞ্চলে থাকায় পূর্বাঞ্চলের তরুণ সমাজ ডিজিটাল বিশ্বে প্রবেশের সুযোগ লাভে বঞ্চিত হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের জনগণ সেই সুযোগ করে দিয়েছে, তাই তাদের ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, ত্রিপুরাসহ এ অঞ্চলের জন্য যে ট্রান্সমিশন লাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার ধারণক্ষমতা আমরা প্রথম থেকেই বেশি রেখেছি। আসলে দিনগুলোয় প্রয়োজন হলে আমরা আরও বেশি বিদ্যুত রফতানি করতে পারব। তিনি বলেন, আজকের দুনিয়া কমিউনিকেশনের শক্তিতে চলে। আজকের দিনে সেই শক্তি বাড়ানোর দিন। এজন্য আপনি (শেখ হাসিনা) যে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।

হোলি উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণের শুভ কামনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হোলি রঙের উৎসব। হোলির এই পবিত্র উৎসবের দিনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি এবং বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় ইন্টারনেট ব্যান্ডইউথ রফতানি কার্যক্রমের উদ্বোধন হওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন রঙে রাঙানো হলো। বক্তব্যের শুরুতেই ভাঙ্গা ভাঙ্গা বাংলায় তিনি বলেন, প্রথমে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা একটু দেরি করে জানাচ্ছি। আগামী ২৬ তারিখে আপনাদের জাতীয় দিবস। ভারতের জনগণের তরফ থেকে জানাই অভিনন্দন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ভারত-বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি মহারণের প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। তিনি বলেন, ভারতে হোলি খুবই পবিত্র উৎসব। বাংলাদেশেও কিছু জায়গায় এই উৎসব পালন করা হয়। আজ আরেকটি মহত্বপূর্ণ দিন। তা হলো বাংলাদেশ-ভারতের টি-২০ ক্রিকেট ম্যাচ। আমি দুটি টিমকে অনেক শুভ জানাই। তিনি বলেন, ভারত আর বাংলাদেশ যখন খেলে, তখন খেলার জয়-পরাজয় ছাপিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ খেলার শক্তি সৃষ্টি হয়। বিদ্যুত যেমন শক্তি দেয়, তেমনি আমাদের দুটি টিম আজ বন্ধুত্বপূর্ণ ‘স্পোর্টসশিপের’ জায়গা থেকে খেলবে, আমরা এই শুভ কামনা করি।

বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে ভারতের সহযোগিতার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে সব সময় স্মরণ রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের আগুনঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সেই দুঃখের দিনগুলোতে যেমন ভারত এবং ভারতের জনগণ বাংলাদেশের পাশে থেকেছে, এখন বাংলাদেশ যেমন উন্নতির শিখরে আরোহণ করছে, তখনও ভারত তাদের পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে তার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে আমরা সমগ্র বিশ্বের সামনে অনন্য নজির স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাঙ্গা ভাঙ্গা হিন্দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সে দেশের জনগণকে হোলির শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী ও ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ॥ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুত ও ব্যান্ডউইথ আমদানি-রফতানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানালে মানিক সরকারও শেখ হাসিনাকে আবারও ত্রিপুরায় আসার অনুরোধ জানান।

শুরুতেই ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ রফতানি করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মানিক সরকার বলেন, আপনি সাহায্য না করলে এই ব্যান্ডউইথ আমরা পেতাম না। আসাম ও ত্রিপুরায় ইন্টারনেট ব্যবস্থা অনেক দুর্বল ছিল। এই ব্যান্ডউইথ এ অঞ্চলের মানুষের অনেক কাজে লাগবে। ইন্টারনেট এ অঞ্চলের মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। আপনি আরও বিদ্যুত চেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলুন, আমরা আরও বিদ্যুত দিতে পারব। তিনি ত্রিপুরায় আসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী মানিক সরকারকেও বাংলাদেশে বেড়িয়ে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনারা যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, আশ্রয়-খাবার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আমরা তা ভুলে যাইনি। আমাদের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকবে। আপনাদের প্রয়োজন হলে আরও ব্যান্ডউইথ আমরা দিতে পারব। সময় হলে বাংলাদেশে বেড়াতে আসবেন।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার মহাকরণে সংবাদ সম্মেলনে দুটি প্রকল্পের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, আগামী দিনে ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মধ্যে জলপথে পরিবহনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ কাজ শুরু হয়েছে। তবে এ প্রকল্প শুরু হতে সময় লাগবে। কেননা রাজ্যের নদীগুলোর নাব্য বাড়াতে হবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও জেলা প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য বাহারউদ্দিন বাহার, তাজুল ইসলাম এমপি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কুমিল্লার জনগণের জন্য ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত এনে দিলাম। তবে লক্ষ্য রাখবেন, বিদ্যুতের যেন সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা হয়।

বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুত সঞ্চালন শুরু ॥ দুই প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই ভারত-বাংলাদেশ ৪শ’ কেভি ডবল সার্কিট লাইনটিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুত সঞ্চালন শুরু হয়েছে। এই লাইন দিয়ে ত্রিপুরার পালাটানা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে একশ’ মেগাওয়াট বিদ্যুত আনা হবে। বিদ্যুত আনতে বাংলাদেশ অংশে ২৭.৮ কিলোমিটার এবং ভারত অংশে ২৪ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে ত্রিপুরা থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুত আমদানি শুরু হয়েছে গত ১৬ মার্চ থেকে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমদানি শুরু হলো বুধবার।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

২৪/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ:
রোহিঙ্গাদের জন্য সেফ জোনের প্রস্তাব সারা বিশ্ব গ্রহণ করেছে ॥ বিএনপির আপত্তি কেন? || গন্তব্যে পৌঁছেছে পদ্মা সেতুর সুপার স্ট্রাকচারবাহী ভাসমান ক্রেন || শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বড় পরিবর্তন আসছে, আট সদস্যের কমিটি || আগামী বাজেট হবে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকার ॥ অর্থমন্ত্রী || বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৭২ পয়সা বৃদ্ধির সুপারিশ || মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে পাঠদান চলছে জোড়াতালি দিয়ে || মংডুতে ৩ গণকবরের সন্ধান ॥ দুদিনে এসেছে আরও ২০ হাজার || বৃষ্টিতে ভিজছে শিশুরা, খাবার জোগাড়ে অনেকে নেমেছে ভিক্ষায় || চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নির্মাণে গতি সঞ্চার || আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের খপ্পরে ৫ শ’ তরুণ মেক্সিকো সীমান্তে ||