২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

শ্রাবণ্য হে..


ক্রিকেটের মৌসুম চললেই শ্রাবণ্যের প্রসঙ্গও চলে। জিটিভির ‘ক্রিকেট ম্যানিয়া’, ‘ক্রিকেট এক্সট্টা’, ‘ক্রিকেট হাইলাইটস’-এ নিয়মিত তিনি। মডেলিং করছেন ফাঁকে ফাঁকে, নাটকও। চটপটে এই মেয়েটিকে নিয়ে লিখেছেন মাহবুবুর রহমান সজীব

লেখা যাবে না প্রেমের কথা, অনুরোধ শ্রাবণ্যের। একাধিক প্রেম এসেছে জীবনে। একটার পর একটা। বিরহে আটকে থাকেন নি কখনও। এগিয়ে চলেছেন প্রেমের গালিচা ধরে। মনের মানুষ আছে আজও। ‘মানুষ হয়েছি, প্রেম তো করবই!’ এমনটাই ভাবেন তিনি। ‘কে করেনি প্রেম? যে বলবে করিনি। সে তো মিথ্যুক! সুন্দরী মেয়ে, সে জীবনে প্রেম না করে থাকবে; এটা অসম্ভব ব্যাপার।’

ইথার ছুঁয়ে ভেসে আসছেন শ্রাবণ্য, শব্দ হয়ে। সুন্দরী তিনি। নিজেও মানেন। পূর্ণ আত্মবিশ্বাস এ ব্যাপারে। ভাল মানুষ হিসেবে দশে সাত দিতে চান নিজেকে। বাকিটাও দিতে পারতে চান। ‘অতিরিক্ত আবেগ’ আর ‘হঠাৎ রেগে যাওয়া’ স্বভাবটা কেড়ে নিয়েছে ওই তিন নম্বর। ‘রাগলেন তো হারলেন’, এই প্রাচীন কথাটায় আস্থা আছে তার। চেষ্টা করছেন রাগটাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে।

রংপুরের অদূরেই কুড়িগ্রাম। সেখানকার মাটি-জল-হাওয়া গায়ে মেখেই এই ক্রিকেটপ্রেমীর যাত্রা আয়ুরেখা ধরে। মেয়েবেলা থেকেই চঞ্চল তিনি, অস্থির স্বভাবের। পড়াশোনায় প্রথম হতেই হতো প্রতিবারই। বাসায় কোন ছাড় দেয়া হতো না এ ব্যাপারে। বাবা-মার সব কথা শুনতেন তিনি, লক্ষী মেয়ের মতো। গান, নাচ, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা, উপস্থিত অভিনয়- এসবেও ছিলেন সরব।

একটা কিছু শুরু করলে নাকি শেষ করতেই হবে, স্বভাবটা এমনই শ্রাবণ্যর। পড়াশোনার দিক থেকে বাবা-মার স্বপ্ন তো পূরণ করেই ফেলেছেন, এখন হাঁটছেন নিজের স্বপ্ন পানে। সেই প্রথম ম্যাগাজিনে কাজ করার সুযোগ পাওয়া পর থেকেই হাঁটা শুরু, গুটিগুটি পায়ে। ফেলে আসা পথের মাঝে ফ্যাশন হাউজের সঙ্গে কাজ করেছেন, বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন, নাটকেও নাম লিখিয়েছেন। তার ধারণা, লেখালেখি শুরু করলেও নাকি ফাটিয়ে ফেলবেন! ‘অনেকেই জানে না যে, আমি খুব ভাল লেখক। বাবা বলেন, যদি কখনও লেখালেখিটা সিরিয়াসলি শুরু করি, আমি অনেক নাম করতে পারব।’ জানালেন তিনি, ঠোঁটের কোণে একগাল হাসি সমেত।

সঞ্চালনায় অভিষিক্ত হন চ্যানেল ২৪-এর ‘লাইফস্টাইল ২৪’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। অবশ্য, অডিশনের বাধা পেরুতে হয়েছে সেজন্য। তখন ২০১২। আরও পরে ডাক আসে জিটিভি থেকে। ক্রিকেট বিষয়ক কিছু প্রশ্ন করা হয়। শ্রাবণ্য জানতেন ওসব ঠিকঠাক। ক্রিকেট যে তার প্রিয় খেলা! ছোটবেলায় খেলেছেন প্রচুর। উইকেটের পেছনে থাকতেন। ব্যাটিংও করতেন। ব্যাপক আগ্রহে পড়াশোনাও করতেন ক্রিকেট নিয়ে। খোঁজখবর রাখতেন নিয়মিত। ক্রিকেট বিষয়ক প্রশ্ন তো তাই তার কাছে ডাল-ভাত! প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেকে উৎরে সুযোগ করে নেন ‘ক্রিকেট ম্যানিয়া’ সঞ্চালনার। ব্যস। এক অনুষ্ঠানেই নজরে চলে আসেন সবার। বাড়তে থাকে ভক্তের তালিকা, দিনকে দিন।

শ্রাবণ্যর দিনটা শুরু হয় খুব সকালে। সাতটা কিংবা আটটায়। শেষ হয় মধ্যরাতে। এই শুরু আর শেষের মাঝখানের সময়গুলো হেলায় নয়, খুব ব্যস্ততায়ই কাটাতে হয়। এতই ব্যস্ততা যে, নাটকেও পর্যন্ত নিয়মিত হওয়ার সুযোগ হয় না। গত ঈদে চারটা নাটক করেছেন। আগামী ঈদেও করবেন বেশ ক’টা। কথা হয়েছে বিভিন্ন পরিচালকদের সঙ্গে।

গতানুগতিক নাচ-গান আর মারামারিতে ভরপুর বাণিজ্যিক সিনেমা তার ব্যক্তিত্বের সাথে যায়না। এমনটাই মনে করেন শ্রাবণ্য। তাই, প্রচুর প্রস্তাব আসা সত্ত্বেও এখনও বড় পর্দায় অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। হবে না যে আর, তাও নয়। হবে। সেক্ষেত্রে ভাল স্ক্রিপ্ট আর পছন্দের পরিচালকদের কাউকে পেতে হবে। ডাকবেন কি তারা শ্রাবণ্যকে? অপেক্ষায়।