১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঠাকুরগাঁও বাস টার্মিনাল ॥ একযুগেও চালু হয়নি


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ২৩ মার্চ ॥ নির্মিত হওয়ার একযুগেও পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হয়নি ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। সেখানে সবধরনের সুব্যবস্থা থাকলেও রোদ-বৃষ্টিতে কষ্ট করে যাত্রীদের রাস্তার উপরেই বাসে ওঠা-নামা করতে হচ্ছে। ফলে পরিত্যক্ত এ টার্মিনালটি এখন মাদকসেবীসহ নানা অপকর্মের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

জেলার একমাত্র কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটিতে বসার ব্যবস্থা, ক্যান্টিন, টয়লেট ও নামাজের সুব্যবস্থাসহ রয়েছে সবধরনের সুবিধা। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও সঠিক সিদ্ধান্তহীনতার কারণে দীর্ঘ ১২ বছরেও টার্মিনালটি চালু না হওয়ায় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দু’একটি নষ্ট যানবাহন টার্মিনালের ভেতরে ফেলে রাখা ছাড়া আর কোন কাজেই আসছে না টার্মিনালটি। বহিরাগতদের প্রবেশে এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

আর যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে রাস্তা থেকেই বাসে উঠে যাচ্ছেন গন্তব্যস্থলে। অপরদিকে ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় যত্রতত্র সড়কে রাখা হচ্ছে ট্রাক। তাই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়া শহরের ভেতরে ঢাকাগামী বাস যত্রতত্র পার্কিংয়ে যানজট লেগেই থাকে।

যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টার্মিনালটি ব্যবহার না করায় ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। মালিক সমিতির নির্দেশেই বাইরে কাউন্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। টার্মিনালের ভেতরে যাত্রীদের সুবিধা থাকলেও তা এখন পরিত্যক্ত।

অপরদিকে যানবাহন চালকরা জানান, আমাদের সুবিধার জন্যই রাস্তার পার্শ্বে গাড়ি পার্কিং করে যাত্রী ওঠানামা করছি এতেই আমাদের সুবিধা বেশি।

জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি দানেশ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার জানান, জেলার চার উপজেলা উল্টো পার্শ্বে অবস্থান করায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তবুও আমরা চিন্তা করছি কিভাবে টার্মিনালটি ব্যবহার করা যায়।

আর জেলা মোটর পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন জানান, ইতোমধ্যে টার্মিনালটি ব্যবহারের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দ্রুত টার্মিনালটি চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিলেন নেতারা।

এ বিষয়ে নবনির্বাচিত পৌরসভার মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন জানান, কয়েক দফা শ্রমিক ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে টার্মিনালটি চালু করার বিষয় নিয়ে। কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আবার এ বিষয়ে বৈঠক করে টার্মিনালটি চালু করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার অধীনে ২০০৩ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে প্রায় ৫ বিঘা জমির উপর এলজিইডির তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত হওয়ার পর থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল।