মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ আগস্ট ২০১৭, ৯ ভাদ্র ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এডিপির কাঠামোয় পরিবর্তন

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬
  • উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন য় ৫ এপ্রিল এনইসিতে উঠছে সংশোধিত এডিপির খসড়া

হামিদ উজ-জামান মামুন ॥ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত পরিবর্তনের জন্য শক্তিশালী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ কমিটি তিন মাসের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত সুপারিশমালা প্রণয়ন করবে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এডিপি বাস্তবায়নে গতিশীলতা আনয়নে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, কাঠামোগত ববং পদ্ধতিগত পবির্তন সংক্রান্ত পর্যালোচনায় সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

এডিপি বাস্তবায়নের করুন চিত্র বিরাজ করায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আগামী ৫ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান জনকণ্ঠকে বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে অবস্থা খুব ভাল নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন জরুরী। এসব বিবেচনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আদেশ জারির জন্য ইআরডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যতদূর জানি ইআরডি এখনও আদেশ জারি করতে পারেনি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যে কমিটি গঠন করা হচ্ছে সেটির সভাপতি করা হবে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে। এই কমিটির সদস্য থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ এবং বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ যেমন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুত বিভাগ, সেতু বিভাগ ও রেলপথ বিভাগের সচিবরা।

বৈঠক সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে মুখ্য সচিব আবুল কামাল আজাদ বলেছেন, প্রকল্প প্রণয়ন পর্যায়ে যথাযথ প্রস্তুতির অভাব এবং মানসম্মত প্রকল্প দলিল তৈরিতে ব্যর্থতার কারণে প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন প্রায়শই বিলম্বিত হয়। এজন্য মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/ সংস্থাসমূহের পরিকল্পনা উইং শক্তিশালীকরণ, প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটিতে প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপনের পূর্বে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ পর্যায়ে নিবির পরীক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণে পরিকল্পনা কমিশন কাজ করছে। ইআরডি এবং পরিকল্পনা কমিশনের প্রস্তাব একত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিববৃন্দের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রকল্প বাস্তববায়নে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরী বলে মত দেন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজীকরণের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য অর্থ সংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজের ভিন্নতার বিষয়টি বিবেচনা করে সেক্টর বা প্রকল্পের প্রকৃতিভিত্তিক প্রস্তুতিমূলক কাজের শ্রেণীবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বৈঠকে বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আকার বিগত ছয় বছরে তিন গুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি বরাদ্দও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পরিকল্পনা প্রণয়নে ভবিষ্যতমুখিতা (ফরোয়ার্ড লুকিং) এবং নীতি ও পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের গৃহীত উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নের এক দুই বছর আগে পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রস্তুতি গ্রহণের আবশ্যকতার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জনবল এবং সক্ষমতার ঘাটিত দূরকরণে বিদ্যমান জনবলের প্রশিক্ষণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

ওই সভায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং সেতু বিভাগের সচিব মতামত দেন সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণসমূহ দুটি পর্যায়ে তথা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিবেচনা এবং মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে বরাদ্দকৃত বাজেটের একটি অংশ প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক কাজে ব্যয় করা, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) বা টেকনিক্যাল প্রজেক্ট প্রোপোজাল (টিপিপি) অনুমোদনের পূর্বে অর্থ বরাদ্দ, পণ্য/পূর্ত/সেবা ক্রয়ের কন্ট্রাক্টের উপর লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার বিধান বা রীতি পুনরায় পরীক্ষা করা, প্রজেক্ট রেডিনেস চেকলিস্ট প্রণয়ন ও তা বাধ্যতামূলক করা এবং সংশোধিত এডিপি জানুয়ারি মাসের মধ্যে চূড়ান্তকরণ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। চলতি অর্থবছরের মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ৯৭ হাজার কোটি টাকা থেকে নামিয়ে আনা হচ্ছে ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। এতে কমে যাচ্ছে মূল এডিপির সাড়ে ৯ শতাংশ। বাদ যাচ্ছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) খসড়া চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই খসড়া আরএডিপি চূড়ান্ত অনুমোদনের আগামী ৫ এপ্রিল অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির আকার ৯৭ হাজার কোটি টাকা ছিল। যা প্রায় সাড়ে নয় শতাংশ কমিয়ে সংশোধিত এডিপির আকার দাঁড়াচ্ছে ৮৮ হাজার কোটি টাকা করার সুপারিশ করে অর্থ বিভাগ। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নিজস্ব তহবিল অংশে ৩ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা করা হচ্ছে। বিদেশী সাহায্য প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

২৪/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: