মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ আগস্ট ২০১৭, ৬ ভাদ্র ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দায়িত্বশীলতা জরুরী

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

সরকারী অফিসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তাতে স্বাগত জানানোর মতো উপাদান রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই ব্যাপক প্রসারের স্বর্ণযুগে দেশের নাগরিকরা তার সুবিধা গ্রহণ করবেন না- এটা ভাবা যায় না। কিন্তু তা গ্রহণের ক্ষেত্রে সীমারেখা কী হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা থাকাও দরকার। যদিও দায়িত্বশীল নাগরিকদের আচরণও দায়িত্বশীলই হবে- এমন প্রত্যাশা স্বাভাবিক। তারপরও বিষয়টি স্পর্শকাতর বলে এ সংক্রান্ত বিধিমালা থাকলে সুবিধা হয়। দেরিতে হলেও সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা জারি করায় সরকারী চাকুরেদের মতপ্রকাশের ব্যাপারটি সহজ হলো। উল্লেখ্য, আট শতাধিক সরকারী অফিসে দাফতরিক কাজে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার হচ্ছে। নির্দেশিকায় বলা হয়- জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছাড়াও আর ১০টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে রবিবার এ নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ‘সরকারী প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৬’ নামে নির্দেশিকাটি ওয়েবসাইটে আপলোড হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসকারী আদিবাসী, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক বা হেয় প্রতিপন্নমূলক কনটেন্ট প্রকাশ করা যাবে না। কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং লিঙ্গবৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোন কনটেন্ট প্রকাশ করা যাবে না বলেও নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কনটেন্ট প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে এতে।

সরকারী প্রতিষ্ঠানকে তিন মাসে একবার নিজ দফতরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অগ্রগতি ও কার্যকারিতা পর্যালোচনা করার কথা জানিয়ে নির্দেশিকায় বলা হয়, বছর শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবহারকারীকে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার বা স্বীকৃতির ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। সেরা পোস্ট, সেরা কমেন্ট, সেরা পেজ, সেরা নাগরিক সমস্যা উপস্থাপক, সেরা সমাধান এবং সেরা প্রচারকে বিবেচনায় নিয়ে পুরস্কার দেয়া যেতে পারে বলেও নির্দেশনায় বলা হয়েছে। বিষয়টি সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যথাযথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

কোন কার্যালয়ের কর্মপরিকল্পনা ও অপারেশন সিস্টেম সম্পর্কে গোপনীয় তথ্যাবলী ফেসবুক বন্ধুসংখ্যা সীমা অনুযায়ী পাঁচ হাজার ব্যক্তির গোচরে আনা কতটা সমীচীন, সে প্রশ্ন থেকে যায়। প্রতিটি কার্যালয়েরই নিজস্ব চাকরি বিধিমালা বর্তমান। তার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লঘু মন্তব্য করেন এবং বিতর্ক উস্কে দিতে পছন্দ করেন। সরকারী হোক বা বেসরকারী হোক- কোন সংস্থার জন্যই চটুল মন্তব্য ও বিতর্কিত অভিমত কোন উপকারে আসে না। তাছাড়া বয়স অনুযায়ী একজন নাগরিক তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া জানান। যা সকল সময়ে সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা পাবে এমন কোন কথা নেই। সরকারী অফিসগুলোর জন্য প্রদত্ত নির্দেশিকাটি দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা অনুসরণ করলে বরং অনলাইনে অহেতুক ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। তাতে সাইবার অপরাধের মাত্রা কমে আসবে। সরকারী প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক সম্পৃক্তিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হোক- এটাই প্রত্যাশা।

প্রকাশিত : ২৪ মার্চ ২০১৬

২৪/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: