২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মিয়ামিতে সেরেনার চ্যালেঞ্জ


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্যারিয়ারের বাজে সময় কাটছে সেরেনা উইলিয়ামসের। শেষ তিন টুর্নামেন্টে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান এই তারকা। তারপরও হতাশ নন আমেরিকান। বরং চলমান মিয়ামি ওপেনেই স্বরূপে ফিরতে চান তিনি। এ বিষয়ে সেরেনা উইলিয়ামস বলেন, ‘এটা এমন এক টুর্নামেন্ট যার সঙ্গে সঙ্গেই বেড়ে উঠেছি আমি। এটা আমার ঘর। এখানে সবকিছুই যেন আমার পক্ষে কাজ করে।’ গত মৌসুমে কোর্টে কেবল সেরেনারই ঝলক দেখেছে টেনিস বিশ্ব। মৌসুমের প্রথম তিনটিতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে স্টেফি গ্রাফের ২২ গ্র্যান্ডসøাম জয়ের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিলেন আমেরিকান টেনিসের এই জীবন্ত কিংবদন্তি। কিন্তু ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালেই থেমে যায় তার জয়রথ। ইতালিয়ান তারকা রবার্টা ভিঞ্চির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। এরপর আরও দুটি টুর্নামেন্ট খেলেছেন ২১ গ্র্যান্ডসøামজয়ী এই টেনিস তারকা। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার। দুটির ফাইনালে উঠলেও শিরোপার দেখা পাননি তিনি। চলতি বছরের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জার্মানির এ্যাঞ্জেলিক কারবারের কাছে হার মানেন সেরেনা। এরপর গত সপ্তাহে ইন্ডিয়ান ওয়েলসের ফাইনালে ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। এ্যাঞ্জেলিক কারবারের পর ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কার বিপক্ষে টানা দুটি ফাইনালে হেরে গেলেও আশা ছাড়েননি সেরেনা। বরং মিয়ামি ওপেনের কোর্টে নামার আগে ইতিবাচক মনোভাব বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছি এবং এই মুহূর্তে খুবই ভাল আছি। আমি এটা সবসময়ই চালিয়ে যেতে চাই। কখনই থেমে থাকতে পছন্দ নয় আমার। প্রকৃতপক্ষে এটাই আমার স্বভাব। আমার ক্যারিয়ারের এই মুহূর্তে এসে হতাশার কিছুই নেয় বরং সবসময়ই প্রাণচঞ্চল থাকার চেষ্টা করি।’

গত দুই মৌসুমে চোটের সঙ্গে লড়াই করেছেন ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কা। পায়ের চোটের কারণে টেনিস কোর্টে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিলেন তিনি। তবে ২৮ বছর বয়সী বেলারুশ সুন্দরী যেন আবারও স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিএনপি পরিবাস ওপেনে শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলে ফাইনালে সেরেনা উইরিয়ামসকেও উড়িয়ে দেন তিনি। আর ভিক্টোরিয়ার কাছে সেই পরাজয়টাই যেন সেরেনাকে আরও তেতিয়ে দিচ্ছে। এ বিষয়ে বর্তমান টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা সেরেনা উইলিয়ামস বলেন, ‘এটা হয়তো সকলেই জানেন যে আমি অন্য যে কোন কিছুর চেয়েই পরাজয়টাকে সবসময়ই ঘৃণা করি। আর কেউ যদি ভাল করে তার কাছ থেকে মোটিভেট হই। আজারেঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ হলেও এটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বন্ধুসুলভ কিন্তু চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে, সে খুবই ভাল খেলেছে। প্রকৃতপক্ষে সে সবসময়ই একজন ভাল খেলোয়াড়।’

বয়সে চৌত্রিশকেও ছাড়িয়ে গেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। কিন্তু মানসিক আর শারীরিক দিক দিয়ে সেরেনা যেন এখনও ষোড়শী তারকা। শেষ তিন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে না পারলেও এখন পর্যন্ত সেরেনাকেই সেরা মানছেন বর্তমান টেনিসের অন্য তারকারা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাজয়ী জার্মানির এ্যাঞ্জেলিক কারবার সেরেনার প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখনও সে সেরা খেলোয়াড়। টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা এবং এখনও সে চ্যাম্পিয়ন।’ স্পেনের তরুণ প্রতিভাবান টেনিস তারকা কার্র্লা সুয়ারেজ নাভারো সেরেনার প্রশংসা করে বলেন, যে কোন টুর্নামেন্টে সেই ফেবারিট হিসেবে খেলতে নামে। আসলে সে তো মেশিন কিংবা রোবট নয় যে সব টুর্নামেন্টেই জিতবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: