২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৯ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

গুলি ও সহিংসতায় মঠবাড়িয়ায় ৬ জনসহ নিহত ১২


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ প্রথম দফা ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে ছয়জন নিহত হয়। এছাড়া কক্সবাজারে দুইজন এবং সিরাজগঞ্জ, ঝালকাঠি, নেত্রকোনা ও পটুয়াখালীতে একজন করে নিহত হয়। মঙ্গলবার ভোট গণনা এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় এসব নিহতের ঘটনা ঘটে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ধানিচাপা ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন শাহাদাত হোসেন (৩০), সোহেল রানা (২৫), বেল্লাল হোসেন (৩০), সোলায়মান (২০) ও কামরুল মৃধা (২৫)। একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী মোতাহার হোসেন বলেন, ইউনিয়নের সাপা ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ওই কেন্দ্রের আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোপন সূত্রে খবর পান যে তিনি পরাজিত হচ্ছেন। এ খবর শোনার পর তার সমর্থকরা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের অনেক বোঝানোর পরও তারা সেøাগান দিতে থাকেন এবং ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাতে ভোট গণনার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকরা ওই কেন্দ্র অবরোধ করে রাখেন। এ সময় তারা জোর করে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার ॥ টেকনাফের সাবরাং ইউপি এলাকায় পৃথক সংঘর্ষে দুই পক্ষের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টায় শাহপরী দ্বীপে এবং রাত সাড়ে দশটায় সাবরাং এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল গফুর (৩৫) আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত বিদ্রোহী চেয়ারম্যান নূর হোসেনের ছোট ভাই। অপর নিহত ব্যক্তি হলেন মোঃ শফিক (২২)। শাহপরী দ্বীপের মাঝেরপাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে তিনি।

সিরাজগঞ্জ ॥ রায়গঞ্জে ইউপি নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় মঙ্গলবার রাতে নওনাই বেওয়া (৬৫) নামে এক মহিলা নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি ধানগড়া ইউনিয়নের জয়েনপুর গ্রামে। নির্বাচনে বিজয়ী মেম্বার নওয়াব আলী ও পরাজিত মেম্বার প্রার্থী সামিদুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বচসা ও পরে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে সামিদুলের সমর্থকরা নওয়াব আলীর বাড়িতে হামলা করলে ওই মহিলা লাঠির আঘাতে মারা যান।

ঝালকাঠি ॥ সদর উপজেলার ৩নং নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড কালিয়ান্দার কেন্দ্রে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে আবুল কাশেম সিকদার (৬০) নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। বেলা একটায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম তালা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সদস্য প্রার্থী চুন্নু সিকদারের ভাই। ইউপি সদস্য প্রার্থী সজিব হোসেন (ফুটবল) তার কর্মীসমর্থকদের নিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করতে এলে চুন্নু সিকদারের কর্মীসমর্থকরা বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এতে আবুল কাশেম নিহত হয় এবং অন্যরা আহত হয়।

নেত্রকোনা ॥ খালিয়াজুরি উপজেলার সদর ইউনিয়নের আদাউড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। তার নাম গোলাম কাউছার ওরফে কাউছার মিয়া (৩২)। তিনি সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম আবু ইছহাকের ছোট ভাই। নিহতের অপর ভাই আরিফুল ইসলাম ফালাক দাবি করেন, ভোট গণনার সময় পুলিশের গুলিতে কাউছার নিহত হন। রাত পৌনে নয়টায় নির্বাচনী দায়িত্বে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের জনকণ্ঠকে একজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন।

বাউফল ॥ কালিশুরী ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত হুমায়ুন মল্লিক (৬০) মঙ্গলবার দুপুর দুটায় মারা গেছেন। সোমবার সকালে ঘোড়া মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রহমান সরদারের সমর্থকরা নৌকার সমর্থক হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করে। ওই দিনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। নিহত হুমায়ুন মল্লিক ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সোহেল মল্লিকের বাবা।

এছাড়া বেশ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে দিনভর বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটে। হামলা-পাল্টাহামলা, সংঘর্ষ, গুলি, বোমা বিস্ফোরণ, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর, প্রকাশ্যে ভোট প্রদান এবং অগ্নিসংযোগ ছাড়াও সাতক্ষীরায় দুইজন গুলিবিদ্ধ এবং কোন কোন কেন্দ্রে নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই নির্বাচন। সহিংসতার কারণে সাতক্ষীরায় ১৩ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। তালার কুমিরা ইউনিয়নের ভাগবাহ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ভোট জালিয়াতির সময় পুলিশের গুলিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস ও তার ছোটভাই রুহুল আমিন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। বগুড়ার শিবগঞ্জের পিরব ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কার্যালয়ে বিএনপি সমর্থকরা হামলা চালিয়ে প্রাইভেটকার ভাংচুর করেছে। বাউফলে ব্যালটভর্তি বাক্স পুকুরে ফেলে দেয়ায় তিন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। নৌকা মার্কাসহ সাত চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল ইসলামের দোকানে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পানির পাম্পসহ বিভিন্ন মাল লুট করে নিয়ে গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হোসেনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়াকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য প্রার্থীর মধ্যে দু’পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়। ভোলায় সংর্ঘষ, গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ, ব্যালটবাক্স ছিনতাই এবং সাত কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।