২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আজ স্মরণীয় কিছু করতে চান সাকিব


স্পোর্টস রিপোর্টার, ব্যাঙ্গালুরু থেকে ॥ দুটি ম্যাচ হেরে গেছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বলতে গেলে শেষ হয়ে গেছে। এখন সামনে রয়েছে দুটি ম্যাচ। আজ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার পর ২৬ মার্চ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দল এখন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়েই চিন্তা করছে। এ ম্যাচটিতে মনে রাখার মতোই কিছু করে দেখাতে চায়। সেই কথাটি বের হয়েছে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের মুখ থেকেই। মঙ্গলবার দলের অনুশীলন না থাকলেও ব্যাঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন সাকিব। সেখানেই এমন কথা জানান। তার বলা কথাগুলোর সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

* ভারত ও বাংলাদেশ ম্যাচ যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব-

সাকিব আল হাসান ॥ আমার কাছে মনে হয় না, কোন খেলোয়াড় এগুলো নিয়ে চিন্তা করে। এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, নিউজ, মানুষের মুখে শোনা কথা। আমি কখনই অনুভব করি না, কোন খেলোয়াড় এভাবে চিন্তা করে কোন একটি ম্যাচ নিয়ে। আমি নিশ্চিত ভারতীয় দলেরও কেউ এটা নিয়ে এভাবে চিন্তা করে।

* দুটি ম্যাচ হারের পর দলের মানসিক অবস্থা, ভাবনা-

সাকিব ॥ সত্যি কথা বলতে কালকের (আজকের) ম্যাচ নিয়ে এখনও টিম মিটিং হয়নি। এখনও কেউ এগুলো নিয়ে চিন্তা করেনি। হয় তো যার যার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেটা করতে হবে, যেইসব ভুলগুলো আমরা করেছি ওটাতো অবশ্যই ঠিক করার চেষ্টা করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় এটাই একমাত্র উপায়, ম্যাচে ভাল খেলার। এটা ঠিক করতে পারলে আমার মনে হয় আমাদের আরও ভাল পারফর্মেন্স হওয়া সম্ভব।

* সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা-

সাকিব ॥ এখানে সবাই ম্যাচুরড। এখানে উৎসাহিত করার কোন কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। সবচেয়ে বড় উৎসাহের জায়গা আপনি আপনার দেশের জন্য খেলছেন। আপনার মাঠে নামা মানে দেশের জন্য কিছু একটা করার সুযোগ। একজন খেলোয়াড় সেভাবেই চেষ্টা করবে।

* বোলিং লাইনআপে কোন পরিবর্তন আসা-

সাকিব ॥ আমরা খুব একটা যে ভুল করেছি (অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে), সেটা বলা যাবে না। আমরা ছোট ছোট কিছু মিসটেক করেছি। আমরা যদি এগুলো ঠিক করতে পারি তাহলে ভাল একটি সাইড হয়ে মাঠে খেলতে পারব। খুব বেশি আসলে চিন্তা করাটা ভুল হবে। এখানে যদি ১৭০-১৮০ হয়, সেটা হলে খেলাটা অন্য রকম হতে পারত। আমার কাছে মনে হয় ওভার অল আমাদের বোলিংটা ভালই ছিল। ফিল্ডিংয়ে আমরা যে ধরনের অবস্থা করে আসছি, এতদিন সেটা করতে পারেনি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় এত চিন্তার কিছু নেই। আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে ৬ ওভারের ব্যাটিংটা। এটা যদি উন্নতি করতে পারি। আমরা অনেক ভাল সাইড হব কালকের (আজকের) ম্যাচে।

* ভ্রমণ ক্লান্তি ম্যাচে প্রভাব পড়া-

সাকিব ॥ সত্যি কথা বলতে, প্রস্তুতি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেই আমাদের নেয়া হয়ে গেছে। খুব বেশি একটা প্রস্তুতি নেয়ার দরকার ছিল না। হয় তো উইকেটে সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য যে প্রস্তুতিটা প্রয়োজন ছিল সেটা আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যচের আগে ২ দিন সুযোগ ছিল। সেটা আমরা কাজে লাগাতে পারছি বলে মনে হয়। উইকেটগুলো খুব একটা ভিন্ন হয় না। আমাদের জন্য বলব না এটা খুব একটা সমস্যার বিষয়। ভ্রমণ শুধু আমরাই করছি এমনটা তো নয়। সব দেশই ভ্রমণ করছে। এটা নিয়ে অন্যরকম কিছু চিন্তা করার কারণ আমি দেখি না।

* তিন নম্বরে ব্যাটিং-

সাকিব ॥ সবচেয়ে বড় কথা দল আমার কাছে কি চাচ্ছে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ বেশি। আমাকে যদি কেউ অপশন দেয়, আমি তিন নাম্বারেই ব্যাটিং করব। টিমের পরিস্থিতি, টিমের চাহিদা অনুযায়ী যেভাবে করা দরকার আমি সেভাবে ব্যাটিং করছি। যদি টিম ম্যানেজম্যান্ট মনে করে আমার তিনে ব্যাটিং করা দলের জন্য ভাল হবে আমি তার জন্য প্রস্তুত আছি। ব্যক্তিগত মতামত জানতে চাইলে, আমি বলব আমি তিনে ব্যাটিং করতে পছন্দ করব। যেহেতু টিমের প্রয়োজনে খেলছি, যেখানে খেলাবে সেখানে খেলতেই প্রস্তুত আছি।

* সেমিফাইনালে ওঠা সম্ভব-

সাকিব ॥ গাণিতিকভাবে সম্ভব। আমরা সবাই জানি এখন বাস্তবতা কি। খুবই কঠিন। তার থেকে বড় কথা হচ্ছে, আমরা কালকের (আজকের) ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করছি। এরপরই আমরা আমাদের পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করব। হয় তো নির্দিষ্ট একটি টার্গেট দলগুলোর থাকেই। তবে আমার মনে হয় এই সব ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি দলই একটি করে ম্যাচ নিয়ে চিন্তা করে। সবাই ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করে।

* ক্রিকেটারদের শারীরিক আগ্রাসন-

সাকিব ॥ মাঠে আবেগ খুব একটা প্রভাব ফেলে বলে মনে হয় না। আমরা আগে থেকে অনেক আগ্রাসী। আমাদের খেলার ধরনটা পরিবর্তন হয়েছে। আগে থেকে অনেক ইতিবাচক চিন্তা করছি আমরা। আগ্রাসী খেলতেও পছন্দ করি। বিশেষ করে আমাদের কিছু তরুণ ক্রিকেটার আছে, ওরা শটস খেলতে পছন্দ করে, আক্রমণ করতে পছন্দ করে। বোলিংয়েও। সেইসব দিক থেকে আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ চেঞ্জ হয়েছে। এটা আমাদের ক্রিকেটর জন্যই অনেক ভাল। বোলিংয়ের কথা যদি বলি। ফিল্ডিং দেখে আগ্রাসনটা বোঝা যায়। বেশিরভাগ ম্যাচেই হয়ে আসছে আমরা শুরুতে সাফল্য পাই। তখন বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা ইতিবাচক থাকছে। গত ম্যাচে ৫-৬ ওভার আমরা উইকেট পাইনি। বডি ল্যাঙ্গুয়েজটা সবার একটু ভিন্ন হয়ে উঠেছিল।

* ২০০৭ সালের পর টি২০ বিশ্বকাপে কোন টেস্ট দলের সঙ্গে জিততে না পারা-

সাকিব ॥ বড় ইভেন্টে বিশেষ করে টি২০তে আমরা কখনই ভাল পারফর্মেন্স করিনি। এই বিষয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হয়ে আসছে। অবশ্যই এটা আমাদের সুযোগ কিছু প্রমাণ করার। দুটি ম্যাচ আমরা করতে পারেনি। অবশ্যই চেষ্টা থাকবে পরের দুটি ম্যাচে এমন কিছু করি যেটা মনে রাখার মতো হয়।