মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৬ আশ্বিন ১৪২৪, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

সংবিধান রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দরকার ॥ সাজেদা চৌধুরী

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৬

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর, ২২ মার্চ ॥ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ মাসুদ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শেষে সম্মেলনের মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই ঘোষণা দেন। ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে বেলা ১২টার দিকে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার, পল্লী­উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, আবদুর রহমান এমপি, সহ-সম্পাদক সাইফুল আহাদ সেলিম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার প্রমুখ।

সম্মেলনের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্যে আশরাফুল ইসলাম বলেন, তৃণমূলের সম্মেলন সঠিক সময়ে হলে নেতৃত্বে বিকাশ হয়। জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৩ বছর পরে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফরিদপুরের সম্মেলন আজ ১১বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সঠিক সময়ে সম্মেলন হলে এতদিন এই জেলায় ৩/৪ বার সম্মেলন হতো, ফলে নেতৃত্বের বিকাশ হতো। আমি আশা করব তৃণমূলের বিভিন্ন কমিটিতে যারা আছেন তারা সঠিক সময়ে যাতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সে ব্যাপারে চেষ্টা করে।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ। তিনি আমাদের সবার থেকে বেশি জানেন এবং বোঝেন। তার কাছে আমাদের থেকে আরও বেশি খবর আছে। সেই হিসেবে তিনি আমাকে একটি প্রস্তাব আপনাদের সামনে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, নেত্রী আমাকে একটি কঠিন দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার স্বার্থে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত আমাদের মানতে হবে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী সবার সাথে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সৈয়দ আশরাফ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সম্মেলনে আবেগপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেন, দল গঠনের জন্য আমাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আওয়ামী লীগ আজকের এই অবস্থানে ছিল না। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আওয়ামী লীগের হাল ধরার কেউ ছিল না। জাতির জনক আমাদের শিখিয়েছে সব সময় সত্য কথা বলতে হবে। দল পুনর্গঠনের সময় অনেকে বলল, বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়া যাবে না। কিন্তু আমি বললাম, বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেয়া যাবে না। অন্যরা বলল, তুমি জেদ করো না। কিন্তু আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল ছিলাম।

তিনি বলেন, দল গঠনের পর ৩/৪টি মিটিং করার পর আমাকে জেলে নিয়ে গেল। ১ বছর জেল খেটেছি। কেউ দেখতে যায়নি। শুধুমাত্র আমার পরিবার আমার পাশে ছিল। স্বামী আমাকে সব সময় সাহস যুগিয়েছে। কয়েকজনের প্রচেষ্টায় ১ বছর পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় দলকে সংগঠিত করার জন্য ঘুরেছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কাউকে আমি ভয় পায় নাই। আমাদের সংকল্প ছিল দলকে সংগঠিত করার।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পটভূমি বর্ণনা করে সাজেদা চৌধুরী বলেন, আমি সেই সময় চিন্তা করলাম বঙ্গবন্ধুর পরিবারের কে জীবিত আছে। পরে দেখলাম বঙ্গবন্ধুর জীবিত দুই কন্যা ইন্দিরা গান্ধীর আশ্রয়ে আছে। পরে আমি দিল্লী চলে গেলাম তাদের আনতে কিন্তু গান্ধী তাদের আমার সাথে দিলেন না। বললেন, এখনও সময় হয় নাই। ওদের দেশে ফিরিয়ে আনতে গান্ধী সময় চাইলেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শেখ হাসিনাসহ তারা দুই বোন ২ বছর কেঁদেছে। আজকে আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তার নেতৃত্বে আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সেই ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের ভিতর লড়াই-ফ্যাসাদ করলে জয় হয় না। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জয়লাভ করা যায়।

সাজেদা চৌধুরী বলেন, এই দেশের সংবিধান আমরা তৈরি করেছি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংবিধান তৈরি করেছি। সংবিধানে আমারও স্বাক্ষর আছে। সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষরদানকারী হিসেবে আমারও নাম আছে। মানুষ চিরদিন বাঁচে না। আমি থাকব না। বাংলাদেশের মানুষ থাকবে। বাংলাদেশ থাকবে, সংবিধান থাকবে। আসুন আমরা দেশকে গড়ে তুলি। এই সংবিধানকে রক্ষা করি। এই সংবিধানকে রক্ষা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নেই।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী­ উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ফরিদপুরে আগে আওয়ামী লীগের কোন নাম গন্ধ ছিল না। দলের কোন পর্যায়ের নেতা এখানে আসতে সাহস পেতেন না। বর্তমানে এই জেলায় দলের অবস্থা অনেক ভাল। একদিনে এই অবস্থা হয়নি। দলের সকল নেতাকর্মীর চেষ্টায় দল আজ এই অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৬

২৩/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



শীর্ষ সংবাদ: