২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দেশে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে। ২০১৪ সালে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনায় জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তি চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তার বয়স ৬৭ বছর। তবে তিনি ভাল আছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও ভাল আছেন। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ডেঙ্গুর মতোই লক্ষণ দেখা দেয়। দিনের বেলায় এডিস মশার কামড়ে এ রোগ ছড়ায়। তবে ডেঙ্গুর মতো এ রোগটি তীব্র ও প্রাণঘাতী নয়। চিকিৎসা না করালেও জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই ভাল হয়ে যায়।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রস্তুতি সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, অধ্যাপক ডাঃ শামসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, মশা থেকে দূরে থাকতে হবে প্রত্যেক গর্ভবতী নারীকে। জিকা ভাইরাসের কারণে তার গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্ক অপরিপক্ব থেকে যেতে পারে এবং শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে ছোট হতে পারে (মাইক্রোসেফালি)। তবে এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য। এই নমুনা বিশ্লেষণের সময় জিকা ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। জিকা ভাইরাস নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যক্তির শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছে পাঠানো হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকা ভাইরাস নিশ্চিত করার পর এ ঘোষণা দেয়া হলো বলে জানান অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে প্রাক-মৌসুম ও বর্ষা মৌসুমপরবর্তী সময়ে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সকল জেলায় তরুণদের সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়ায় কথা জানানো হয়। এছাড়াও জিকা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির নানাদিকসহ সাবধানতার বিষয়গুলো অবগত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ‘জিকা’ নামটি নেয়া হয়েছে উগান্ডার জিকা বন থেকে। ১৯৪৭ সালে বানরের দেহে এই সংক্রামক এজেন্টের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। ১৯৫২ সালে এর নাম দেয়া হয় জিকা ভাইরাস। বর্তমানে এটি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তর আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমাদের দেশেও সতর্ক হওয়া দরকার। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জ্বর, চামড়ায় লাল ফুসকুড়ি, গোড়ালিতে ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া- এসব লক্ষণ দেখা দেয়। এছাড়া পেশী, মাথায়ও ব্যথা হতে পারে। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের ‘মাইক্রোসেফালি’ রোগ হওয়ার কারণ জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মা। কিন্তু তার কোন উপসর্গ আগে থেকে দেখা যাবে না। এই রোগ হলে শিশুদের মস্তিষ্কের গঠন ঠিকমতো হয় না। ফলে শিশুর বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়া, শারীরিক বৃদ্ধি অস্বাভাবিক বা বিলম্বিত হওয়া থেকে শুরু করে অকালে মারা যাওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যায়। এই রোগের চিকিৎসায় এখনও কোন প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে সতর্ক থাকাটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্য এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা বিরল। প্রতিরোধের মূলমন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ। এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। স্বচ্ছ-পরিষ্কার পানিতে এরা ডিম পাড়ে। ময়লা-দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনের পানি এদের পছন্দসই নয়। তাই এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযোগী স্থানগুলোকে পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে মশকনিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একমাত্র সচেতনতা ও প্রতিরোধের মাধ্যমেই এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: