২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সুপ্রীমকোর্ট বারের নির্বাচন আজ ও কাল


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ থেকে শুরু হচ্ছে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৬-১৭ সালের দু’দিনব্যাপী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সমমনা আইনজীবীদের সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা প্যানেল) ও বিএনপি-জামায়াত সমর্থক আইনজীবীদের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ ছাড়াও কয়েকটি পদে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীও।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও ঢাকা আইনজীবী সমিতি (ঢাকা বার) নির্বাচনের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে সুপ্রীমকোর্ট বারেও জয় পেতে ঐক্যবদ্ধ সরকার সমর্থকরা। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলের সৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থক প্যানেল।

সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪ পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৭ সম্পাদকীয় ও ৭ নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে। সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল ছড়া আলাদা চারজন প্রার্থীসহ মোট ৩২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এ নির্বাচনে। এবার সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মোট ৫ হাজার ২৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যালেন থেকে সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হুসেন হুমায়ূন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন হচ্ছেন সাবেক মোঃ তাহেরুল ইসলাম ও সুরাইয়া বেগম, সম্পাদক পদে মোঃ আজহার উল্লাহ ভূইয়া, কোষাধ্যক্ষ পদে মোঃ রমজান আলী শিকদার, সহ-সম্পাদক পদে দুজন হচ্ছেন একেএম রবিউল হাসান সুমন ও শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ নির্বাচন করছেন।

এ ছাড়া এ প্যানেল থেকে সদস্যপদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন কুমার দেবুল দে, খান মুহাম্মদ শামিম আজিজ, মোঃ আজিজ মিয়া মিন্টু, মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব, মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, নাসরিন সিদ্দিকা লিনা ও সাহানা পারভিন।

বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল থেকে সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ও মোঃ গোলাম মোস্তফা। সম্পাদক পদে এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন কোষাধ্যক্ষ পদে নাসরিন আক্তার, সহ-সম্পাদক পদে দুজন মোঃ শহিদুজ্জামান ও মোঃ ইউসুফ আলী।

এ ছাড়া এই প্যানেল থেকে সদস্যপদে যারা নির্বাচন করছেন তারা হলেন মমতাজ বেগম বিউটি, মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ নাসির উদ্দিন খান সম্রাট, নাসির উদ্দিন আহমেদ অসিম, নাসরিন ফেরদৌস, রেজাউল করিম ও এস কে তাহসিন আলী।

এ ছাড়া চার সতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন সভাপতি পদে, ইউনুস আলী আকন্দ, সম্পাদক পদে খন্দকার মোঃ খুরশিদ আলম ও মোঃ আবুল কালাম আজাদ এবং সহ-সম্পাদক পদে ফেরদৌসী। নির্বাচনে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) নির্বাচন সংক্রান্ত সাব-কমিটির আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ। তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি নিবার্চন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন।

২০১০ সাল থেকে সুপ্রীমকোর্ট বারের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপিপন্থীরা। তাই এবার আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা পরিবর্তনের স্লোগান সামনে নিয়ে আসছেন। এই পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদী সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘প্যানেলে নিয়ে আমরা আশাবাদী। এর এক নম্বর কারণ হলো সবার মধ্যেই এখন সাধারণ একটা স্লোগান ‘চেঞ্জ’। যেমন সেক্রেটারি তিন-চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। আবার প্রার্থী হয়েছেন। এসব কারণে পরিবর্তনের স্লোগান আসছে। বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে একটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়েছে। যদিও তা প্রমাণ হবে নির্বাচনের সময়। গতবারের চেয়ে ইনশা আল্লাহ এবার অনেক ভাল বলে মনে হয়।’

সরকারপন্থীরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, ঢাকা আইনজীবী সমিতি ও আয়কর আইনজীবী সমিতির নির্বাচন থেকে। যার প্রমাণ মিলে সিনিয়র এই আইনজীবীর কথায়।

ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, এসব নির্বাচন থেকে আমরা উজ্জীবিত হয়েছি। বার কাউন্সিলের পর ঢাকা বার, তারপর ইনকাম ট্যাক্স বারে সাফল্য। ইনকাম ট্যাক্স বারে ছয়-সাত বছর পর সাদা প্যানেল অত্যন্ত ভাল করেছে। এটা আশাতীত। সব মিলিয়ে কিন্তু আমরা ইতিবাচক দিকেই যাচ্ছি। আশা করি আমাদের আইনজীবী ভোটার আছেন তারাও ইতিবাচক দিকটা উপলব্ধি করে সেভাবে কাজ করবেন।

অন্যদিকে নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন মনে করছেন তারা এবারও পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হবেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পরাজয়ে নিজেদের দুর্বলতার কথা স্বীকার করলেও সুপ্রীমকোর্টে প্রেক্ষাপট ভিন্ন বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের এই উপদেষ্টা।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বার কাউন্সিল ও ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে আমরা হেরেছি ঠিক। সেটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। আমাদের নিজস্ব দুর্বলতার কারণও এখানে থাকতে পারে। সেই দুর্বলতাটা এখন সুপ্রীমকোর্ট বারে নেই। ফুল প্যানেলে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বলেই জানান নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: