২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদমুক্ত শান্তির দেশ গড়তে সহায়তা দিন


সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদমুক্ত শান্তির দেশ গড়তে সহায়তা দিন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে কটাক্ষ করা, সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদ ও নাশকতাকে শান্তির ধর্ম ইসলাম বরদাশত করে না তা মানুষের কাছে ভালভাবে প্রচারের জন্য দেশের আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে কোন জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসের স্থান নেই। ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, ইসলাম পবিত্র ধর্ম। ইসলাম কখনও বোমাবাজি বা সন্ত্রাস বরদাশত করে না। যারা জঙ্গীবাদী বা সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যুক্ত তাদের কোন ধর্ম নেই, সীমারেখাও নেই। মুষ্টিমেয় কিছু লোকের জন্য আমাদের এত বড় দুর্নাম। এটা সত্যিই কষ্টকর। আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাশকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এগুলো ইসলাম ধর্মে নেই তা ভালভাবে প্রচার করবেন। যারা এসব কর্মকা- করে আমরা চাই আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, সজাগ থাকবেন। বিপথে গিয়ে কেউ যেন ইসলামের বদনাম করতে না পারে সেই সুযোগ কাউকে দেবেন না। আর ধর্ম নিয়ে কটাক্ষও সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সুযোগ নিশ্চিত করবে সরকার।

মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও জাতীয় খতির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইসলামে সন্ত্রাস, বোমাবাজি, নাশকতা ও জঙ্গীবাদের কোন স্থান নেই। কিন্তু এক সময় বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নামে যুদ্ধাপরাধীদের অপকর্মে অর্থায়ন হয়েছে। এছাড়া পবিত্র ধর্ম ইসলামকে কেউ কেউ ক্ষমতায় আসার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করলেও ক্ষমতায় গিয়ে তারা ইসলামের জন্য কিছুই করেনি। আসলে যারা ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে একে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে তারা সত্যিকারের ইসলামে বিশ্বাস করে না। ইসলামকে ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধ সংঘটন, জঙ্গীবাদ সৃষ্টি ও কুৎসা রটনা না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখার জন্য তিনি খতিব-ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের পুরস্কার হিসাবে পবিত্র কোরআন শরিফ তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী চার লাখ ৪৩ হাজার ৬৭০ কোরআন শরিফ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি সবার ধর্ম শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ধর্মীয় পাঠ ছাড়া কোন শিক্ষা পূর্ণাঙ্গতা পায় না। প্রত্যেকের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা প্রয়োজন। মন-মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। তাই সবার ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকা-কে আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩ জেলায় এর কার্যালয় এবং জনশক্তিকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

কোরআনের প্রকৃত শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য আলেম-ওলামাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোরআন পড়ে মানুষ সত্যিকার ধর্মে কি বলে সেটা শিখবে, জঙ্গী-সন্ত্রাসের পথ পরিহার করবে এবং ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। যার যার ধর্ম সে পালন করবে। মানুষকে সেভাবে গড়ে তুলতে আলেম সমাজ কাজ করবেন। আমরা নিজেদের ধর্ম যেমন পালন করি, আমাদের দেশে অন্যান্য ধর্মের যারা আছে, তাদেরও আমরা সম্মান করি। তারা তাদের ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করুক। তাদের যদি সেই সুযোগ যথাযথভাবে না দেই, আজকে বিভিন্ন দেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী সংখ্যায় কম, তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে?

ইসলাম ধর্মের নামে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদী কর্মকা- বন্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে আলেম সমাজের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সব সৃষ্টিই আল্লাহর। তাঁর সৃষ্টির ওপর আমাদের হাত দেয়ার দরকার নেই। ইসলামের সঙ্গে জঙ্গীবাদকে জড়ানোর প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, ‘ইতালিতে একটি অনুষ্ঠানে একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ইসলামিস্ট টেররিস্ট। এটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে প্রচ- মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। আমার যখন বক্তৃতার সুযোগ এলো, তখন আমি সোজা বললাম, যারা টেররিস্ট বা সন্ত্রাসী বা জঙ্গী- ওই জঙ্গীবাদ সন্ত্রাস ওটাই তাদের ধর্ম। আমার ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, পবিত্র ধর্ম।’

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: