২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ন্যাটো নিয়ে সন্দিহান ট্রাম্প


মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর ও এশিয়াতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সন্দেহ ব্যক্ত করেছেন। তিনি সোমবার রাতে ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার সম্পাদকীয় বোর্ডের সঙ্গে কথা বলছিলেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

ট্রাম্প তার একদিনের ওয়াশিংটন সফরকালে বিশ্বের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি নির্দ্বিধায় সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ন্যাটোর তৎপরতা আগামী বছরগুলোতে কমানোর দরকার হতে পারে। তার এ মন্তব্য ওয়াশিংটনের প্রায় সাত দশকের ঐকমত্য লঙ্ঘন করল। তিনি এশিয়ায় বিশাল মার্কিন সামরিক উপস্থিতির যথার্থতা নিয়েও সন্দেহ ব্যক্ত করেন।

তিনি সোমবার রাতে আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক এ্যাফেয়ার্স কমিটির সামনে এক লিখিত ভাষণ দেন। তখন তিনি ইসরাইলের পাশে দাঁড়ানো এবং ফিলিস্তিনীদের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় কঠোর নীতি অবলম্বনের প্রতিশ্রুতি দিলে ব্যাপক হর্ষধ্বনি পড়ে।

ট্রাম্প যাতে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন না পান, এস্টাবলিশমেন্টের সেই চেষ্টা রোধ করাও তার মার্কিন রাজধানীতে ঝটিকা সফরের অন্যতম কারণ বলে মনে হয়। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে বৈঠকে ধনাঢ্য মোগল এ কথাও স্পষ্ট করে দেন যে, তিনি কৃতজ্ঞতাবশত গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি (জিওপি) বা রিপাবলিকান পার্টির দীর্ঘদিনের গোঁড়া বিশ্বাসকে মেনে নেবেন না। ঘণ্টা খানেকের আলোচনায় ট্রাম্প তার পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক পাঁচ উপদেষ্টার নাম প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বের বিষয়াদিতে ধীর-স্থিরে পথ চলা সমর্থন করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যত্র অসন্তোষ চলা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অভ্যন্তরীণ দিকে তাকাতে হবে এবং দেশের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্পদকে কাজে লাগাতে হবে।

সম্পাদকীয় বোর্ডের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, কখন আপনারা বলবেন, এই আমাদের নিজেদের যতœ নিতে হবে? তিনি বলেন, আমি জানি, বাইরেও পৃথিবী আছে আর আমি সেটি খুবই বিবেচনায় নেব। কিন্তু একই সময়ে আমাদের দেশ, এর বড় বড় অংশ, বিশেষ করে অন্তর্র্বর্তী শহরগুলো খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, ন্যাটোতে মার্কিন ভূমিকা আগামী বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করার প্রয়োজন হতে পারে। এ মন্তব্য করে তিনি ওয়াশিংটনের প্রায় সাত দশকের ঐকমত্যকেই লঙ্ঘন করলেন। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আর এর ব্যয় বহন করতে পারছি না। পরে তিনি বলেন, ন্যাটোর জন্য আমাদের সমৃদ্ধি হারাতে হচ্ছে, হ্যাঁ, আমরা ন্যাটোর সাহায্যে ইউরোপকে রক্ষা করছি, কিন্তু আমরা সেজন্য খুবই বেশি খরচ করছি। এ প্রথমবার ট্রাম্প তাকে পররাষ্ট্র বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং তার নীতি নির্ধারণে সহায়তা করছেন এমন একটি টিমের পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন লে. জে. কিথ কেলোগ, কার্টার পেজ, জর্জ পাপাডোপোলাস, ওয়ালিদ ফারেস ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জোসেফ স্মিটজ। তাদের সবাই পররাষ্ট্র মহলে অপেক্ষাকৃত স্বল্প পরিচিত এবং কারও কারও সঙ্গে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সম্পর্ক ছিল। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ পি. শুলজকে এক মডেল কূটনীতিক বলে প্রশংসা করেন। ইউক্রেনের রুশ আগ্রাসন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার মিত্ররা কোন কিছুই করছে না। ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেন এমনই একটি দেশ, যা ন্যাটোর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের কম প্রভাবিত করে।

কিন্তু আমরা সম্ভাব্য সব কিছুই করছি। তারা কিছুই করছে না। আর আমি বলি, জার্মানি কেন ইউক্রেন নিয়ে ন্যাটোর সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? আমরাই কেন সব সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধ চালাব? ট্রাম্প এশিয়ায় বিশাল মার্কিন সামরিক বিনিয়োগের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সেখানে এক কার্যকর শান্তিরক্ষী বাহিনীর ভূমিকা পালনে এখনও সমর্থ কিনা, তিনি তা নিয়ে বিস্ময় ব্যক্ত করেন।