২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ


আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো, অসাম্প্রদায়িক, সর্ববৃহৎ ও বাঙালীর জাতীয় মুক্তি বা স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল। ভারত বিভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দু’বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরনো ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজগার্ডেনে অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হককে (টাঙ্গাইলের শামসুল হক নামে পরিচিত) সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অন্যতম যুগ্ম-সম্পাদক এবং পুরনো ঢাকার ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে এর প্রতিষ্ঠা। প্রতিষ্ঠাকালে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। ‘আওয়ামী’ শব্দের অর্থ জনগণ।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিগত ৬৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ কিভাবে বাঙালীর শাশ্বত সংশ্লেষণাত্মক সংস্কৃতির (ঝুহপৎবঃরংঃরপ ঈঁষঃঁৎব) ধারাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সমাজ-রাজনীতির প্রগতিশীল রূপান্তরে অবদান রেখে চলেছে সংক্ষিপ্ত আকারে এ নিবন্ধে সে সম্বন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে। মূল বক্তব্যে যাওয়ার পূর্বে ‘সাম্প্রদায়িকতা’, ‘জঙ্গীবাদ’ ও ‘সন্ত্রাস’ - এ তিনটি বিষয় সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দেয়া আবশ্যক।

প্রতিদ্বন্দ্বী এক পক্ষের প্রতি অপর পক্ষের সম্প্রদায়গত সঙ্কীর্ণ ও বিদ্বেষী চেতনা থেকে সাম্প্রদায়িকতার উদ্ভব। সে চেতনা ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, ভাষা, লিঙ্গ, অঞ্চল, জাতি ইত্যাদি ভিত্তিক হতে পারে। তবে এসবের মধ্যে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতা সবচেয়ে প্রাচীন ও তীব্র।

চরম অসহিষ্ণু, বিদ্বেষপূর্ণ এবং অন্ধ মতাদর্শিক বিশ্বাস ও অঙ্গীকার থেকে জঙ্গীবাদের সৃষ্টি। সর্বশক্তি নিয়োগ বা সশস্ত্র পন্থায় প্রতিদ্বন্দ্বী মতাদর্শ ও বিশ্বাসের মূলোৎপাটন করে স্বীয় মতাদর্শ ও বিশ্বাস চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে এর উদ্দেশ্য। তাই জঙ্গীবাদ হচ্ছে লক্ষ্য অর্জনে ধ্বংসাত্মক কর্মপন্থা। কর্মপন্থার পাশাপাশি একই সঙ্গে এটি চরম উগ্র মতাদর্শিকতার রূপও পরিগ্রহ করে থাকে।

যে কোন সহিংস কর্মকা- মাত্রই সন্ত্রাস। এটি হচ্ছে কর্ম-আচরণগত দিক। তবে জঙ্গীবাদের মতো এর স্থায়িত্ব অধিককাল নয়। মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসা যাক। সূচনা থেকেই আওয়ামী লীগ সমাজ-রাজনীতি-রাষ্ট্রিক বাস্তবতার আলোকে অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ও বাস্তবধর্মী নীতিমালা বা জবধষ চড়ষরঃরপ অঢ়ঢ়ৎড়পয অনুসরণ করে আসছে। আওয়ামী লীগ ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রথম বিরোধী দল। ঐ সময় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিরোধী দল গঠন করা ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। দ্বিজাতিতত্ত্বের আবরণে দেশে ধর্মীয় উন্মদনা বা উগ্রবাদ তখন পর্যন্ত ছিল প্রবল। তবে পাকিস্তান আন্দোলনের পেছনে বাঙালীদের চেতনামূলে যত না ছিল ধর্ম তার চেয়ে অধিক ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ-শোষণ থেকে মুক্তির আকাক্সক্ষা। যে কারণে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বাঙালীরা নতুন অপশক্তি ও তাদের শাসন-শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছিল। যা হোক, পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক আওয়ামী লীগকে আখ্যায়িত করা হয় ‘কমিউনিস্ট’, ‘ভারতের চর’, ‘যুক্ত বাংলার সমর্থক’, ‘পাকিস্তান ও ইসলামের শত্রু’ হিসেবে। দলের ওপর নেমে আসে ক্ষমতাসীনদের চরম নির্যাতন ও নিপীড়ন। এমনই এক কঠিন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে সেদিন দলের প্রতিষ্ঠাতাগণ আওয়ামী লীগের নামের সঙ্গে ‘মুসলিম’ শব্দটি যুক্ত করেছিলেন পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনীতির ঢাল হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর কথায় : আমি মনে করেছিলাম, পাকিস্তান হয়ে গেছে, সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের দরকার নাই। একটা অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হবে, যার একটা সুষ্ঠু ম্যানিফেস্টো থাকবে। ভাবলাম, সময় এখনও আসে নাই, তাই যারা বাইরে আছেন [বঙ্গবন্ধু তখন নিরাপত্তা আইনে বন্দী] তারা চিন্তা-ভাবনা করেই করেছেন।

১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর পুরনো ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ (সংক্ষেপে আওয়ামী লীগ) রাখার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯৫২ সাল থেকে তিনি এ পদে আসীন) এ মর্মে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এর ফলে ধর্ম-নির্বিশেষে সবার জন্য দলের দ্বার উন্মোচিত হয়। এ প্রসঙ্গে কাউন্সিল অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু তাঁর সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে বলেন :

আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে এ কথা ঘোষণা করতে পারি যে, দেশের সকল ধর্মের, সকল বর্ণের এবং সকল ভাষাভাষী মানুষকে একটি গণপ্রতিষ্ঠানে সমবেত করা প্রয়োজন। বস্তুত, আওয়ামী লীগ দলকে সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য অবারিত করার মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের প্রগতিশীল ভূমিকাকে অক্ষুণœ রাখতে সক্ষম হব।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ১৪-১৬ নবেম্বর ঢাকার মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অধিবেশনেও আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম পরিবর্তনের ব্যাপারে কথা উঠেছিল। কিন্তু নেতৃবৃন্দ মনে করেন তখনও সঠিক সময় হয়নি। প্রতিষ্ঠাকালে দলের নামের সঙ্গে ‘মুসলিম’ শব্দ যুক্ত থাকলেও চেতনা ও বিশ্বাসে শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ ছিল অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের অনুসারী। বিভাগ-পূর্ব ভারতের বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের সোহরাওয়ার্দী-আবুল হাশিম সমর্থক প্রগতিশীল অংশের সমন্বয়ে এর প্রতিষ্ঠা।

’৪৮ ও ’৫২-র ভাষা-আন্দোলন দ্রুত পাকিস্তানের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দেয়। উগ্র ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার স্থলে ভাষা-ভূখ-ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগিয়ে তোলার এক সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়, যার পথ ধরে বাঙালী জাতিসত্তার বিকাশ ঘটে। আর সেই ভাষা-আন্দোলন ও অসাম্প্রদায়িক জাতীয় চেতনার ভিত্তিভূমি রচনায় ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত ছাত্রলীগ এবং ভাষা-আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্বে (১৯৫২) ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগ মুখ্য ভূমিকা পালন করে। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন ভাষা-আন্দোলনের প্রথম কারাবন্দীদের অন্যতম (১১ মার্চ ১৯৪৮)। ভাষা-আন্দোলন ও ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের কাছে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের চরম ভরাডুবি-পরবর্তী অনুকূল পরিস্থিতির প্রথম সুযোগেই দলের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে (১৯৫৫) আওয়ামী মুসলিম লীগের নাম পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ রাখা হয়, যা পূর্বেই উল্লিখিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ‘পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার’ (ঝবঢ়ধৎধঃব ঊষবপঃড়ৎধঃবং) স্থলে ‘যৌথ নির্বাচন ব্যবস্থা’য় (ঔড়রহঃ ঊষবপঃড়ৎধঃব) বিশ্বাসী ছিল। একদল মুসলিম নেতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৯ সালের ভারত শাসন আইনে ব্রিটিশ শাসক কর্তৃক ভারতে ধর্মভিত্তিক ‘পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা’র স্বীকৃতি পরবর্তীকালে হিন্দু-মুসলিম ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক ধারায় ভারতের রাজনীতির মেরুকরণ ঘটায়, যা ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগে বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলে প-িতগণ মনে করেন। ধর্ম-নির্বিশেষে একক জাতিসত্তা সৃষ্টিতে যৌথ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক মিথস্ক্রিয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী দ্বিজাতিতত্ত্বের দোহাই দিয়ে বরাবর এর বিরোধিতা করে আসছিল। ১৯৫৪ সালের নির্বাচন ‘পৃথক নির্বাচন’ ব্যবস্থাধীনেই হয়। ১৯৫৬ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তখন আইন পরিষদে ‘যুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা’র পক্ষে আইন পাস হয়। এ ব্যবস্থা প্রবর্তনের পক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর ক্ষুরধার যুক্তি ছিল খুবই প্রণিধানযোগ্য, এক মূল্যবান দলিল। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ ঘোষণা করা হলে এর তীব্র বিরোধিতা করে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান শাসনতান্ত্রিক পরিষদে তাঁর ভাষণে বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু মুসলমানদের জন্য সৃষ্টি হয়নি।’ এর পূর্বে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধুসহ আরও ১০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে ১৫ মে তা সম্প্রসারিত করা হয়। ঠিক একই দিন প্রায় একই সময়ে ঢাকার অদূরে আদমজী পাটকলে বাঙালী-অবাঙালী শ্রমিকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা হয়। শপথ গ্রহণের পরপরই ঐ দাঙ্গা রোধে বঙ্গবন্ধু (তিনি তখন কো-অপারেটিভ ও এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রী) দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পরিস্থিতি সামাল দেন।

গত শতাব্দীর ষাটের দশকে আইয়ুব খানের শাসন আমলে শাসকগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলা ভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতির ওপর নতুন করে আক্রমণ শুরু হয়। আইয়ুব খান বাঙালী মুসলমানদের হিন্দুদের দ্বারা প্রভাবান্বিত নিচু জাতের বলে মনে করতেন। বাঙালীর ভাষা-সংস্কৃতি তার কাছে ছিল হিন্দুয়ানি ভাষা ও সংস্কৃতির নামান্তর। তাই রোমান হরফে বাংলা লেখা, বাংলা ভাষা-সাহিত্যে উর্দু ও আরবি শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে এসবের সংস্কার এবং তথাকথিত ইসলামীকরণের অপচেষ্টা করা হয়। বাঙালীর জাতীয় প্রেরণার উৎস কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘হিন্দু’ হিসেবে চিহ্নিত করে রেডিও-টেলিভিশনে তাঁর সঙ্গীত ও কবিতার প্রচার নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং পশ্চিম বাংলা (ভারত) থেকে বই ও চলচ্চিত্র আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ছাত্র ও বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ আইয়ুব সরকারের এসব ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ১৯৬১ সালে ঢাকাসহ পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে বিপুল উৎসাহে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়। একই বছর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পালিত হয় বাংলা নববর্ষÑ পহেলা বৈশাখ। এসব আয়োজনের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছিলেন অন্যতম। ১৯৬৪ সালে পাকিস্তানের বাইরের একটি কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে হিন্দু ও মুসলমান, পরে বাঙালী ও বিহারিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা শুরু হলে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আওয়ামী লীগ ঐ দাঙ্গা রোধে দেশের সর্বত্র ‘দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করে এবং ‘পূর্ব পাকিস্তান রুখিয়া দাঁড়াও’ শিরোনামে লাখ লাখ প্রচারপত্র নিয়ে জনগণের সম্মুখে হাজির হয়।

বস্তুত ’৪৮ ও ’৫২-র ভাষা-আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮ থেকে আইয়ুবের সামরিক ও সেনা শাসনবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন, ’৬২-র শিক্ষা-আন্দোলন, ’৬৬-র ঐতিহাসিক ৬-দফা আন্দোলন, ’৬৯-এ আগরতলা মামলাবিরোধী ৬-দফা ও ১১-দফা ভিত্তিক গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচন ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানী শাসনপর্বে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাঙালী জনমনে অসাম্প্রদায়িক জাতীয় চেতনার স্ফুরণ ঘটে। ‘জয় বাংলা’ সেøাগান হচ্ছে এ চেতনার বহিঃপ্রকাশ, আর আওয়ামী লীগ পরিণত হয় বাঙালীর জাতীয় মুক্তির প্লাটফর্মে। অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শের প্রতি বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের দৃঢ় অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেও প্রকাশিত। ভাষণের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু বলেন :

মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে... এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালী-ননবাঙালী যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের উপরে...।

স্মর্তব্য, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রচার দফতর একটি পোস্টার প্রকাশ করেছিল, যার ভাষা ছিল এরূপ : ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীস্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালী।’

বাঙালীর জাতীয় মুক্তির আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভের পূর্বক্ষণে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সম্পূর্ণ জঙ্গীবাদী রূপ পরিগ্রহ করে নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর সশস্ত্র আক্রমণ পরিচালনার মাধ্যমে গণহত্যায় মেতে উঠলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ঐ জঙ্গী রাষ্ট্রশক্তিকে সফলভাবে মোকাবেলা ও পরাস্ত করে আমরা লাভ করি আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা।

স্বাধীনতা-উত্তর বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক ১৯৭২ সালে রচিত বাংলাদেশের সংবিধানে অসাম্প্রদায়িকতা বা সেক্যুলারিজমের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির মধ্যে এটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ধর্মের নামে যাতে কেউ জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়, সে লক্ষ্যে সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদে সাম্প্রদায়িক দল বা সংগঠন গঠন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। স্বাধীনতা-উত্তর উগ্র বামপন্থী এবং স্বনামে-বেনামে ডানপন্থী মহল বিশেষের চরম ভারতবিরোধিতার নামে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সর্বত্র ছড়ানো, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা এবং থানা-পুলিশ ফাঁড়ি লুটসহ চরম নাশকতামূলক কর্মকা-জনিত পরিস্থিতিতে ১৯৭৩ সালে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘ত্রি-দলীয় ঐক্যজোট’ গঠন করে বঙ্গবন্ধু এর মোকাবেলায় উদ্যোগী হন।

মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত ও প্রতিক্রিয়াশীল দেশী-বিদেশী শক্তির ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর সেনা-আমলা নিয়ন্ত্রিত, সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল পাকিস্তানী ভাবধারায় বাংলাদেশের পুনঃপ্রত্যাবর্তন ঘটে। বাংলাদেশের নাম অপরিবর্তিত থাকলেও কার্যত সেটি পরিণত হয় ‘মিনি পাকিস্তানে’। ভাবাদর্শগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্র রূপ নেয় সন্ত্রাসী চরিত্রে। মোশতাক, জেনারেল জিয়া ও এরশাদের শাসন আমলে (১৯৭৫-১৯৯০) কিভাবে ভোটদানসহ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি অপসারণ, সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল-সংগঠন গঠনের অধিকার সংবিধানে স্বীকৃত ও ইসলাম ‘রাষ্ট্রধর্মে’ পরিণত হয়, তা দেশবাসী সকলেরই স্মরণে থাকার কথা। তথাকথিত প্রগতিশীল ও অতিবিপ্লবীদের অনেকে যে মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দিয়ে ক্ষমতাসীন সামরিক-বেসামরিক প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলাতে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত কিংবা অনেকে যখন সেনা-গোয়েন্দা সৃষ্ট হঠাৎ গজিয়ে ওঠা দলে লীন হয়ে যান, সে মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সেক্যুলার-ডেমোক্রেটিক শক্তির একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। এ কারণে আওয়ামী লীগের ওপর নেমে আসে শাসকগোষ্ঠীর চরম নির্যাতন-নিপীড়ন।

১৯৮০ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধর্মচেতনাভিত্তিক আফগান তালেবানী শক্তির উত্থান, ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বে জঙ্গী সংগঠন আল-কায়েদার সৃষ্টি, ২০০১ সালে আল কায়েদার সন্ত্রাসী আক্রমণে আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধ্বংস বা ৯/১১-এর সৃষ্টি এবং বিশ্বব্যাপী ধর্ম ইসলামের নামে সৃষ্ট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক যুদ্ধ ঘোষণা (ডধৎ ড়হ ঞবৎৎড়ৎ) বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে বিভিন্ন মুসলিম প্রধান দেশে জঙ্গীবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটায়। ইরাক-সিরিয়া জুড়ে আইএসের (ইসলামিক স্টেট) উত্থান এক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন।

জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও নানা দিক দিয়ে অন্যদের থেকে এদেশ স্বতন্ত্র। এতদ্্সত্ত্বেও উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রভাব থেকে এদেশ নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেনি। তবে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ‘গণতন্ত্র’ ও ‘জাতীয়তাবাদী রাজনীতি’র নামে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন প্রথম বিএনপি সরকার (১৯৯১-১৯৯৬) এবং ২০০১ সালের নির্বাচন-উত্তর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) ইসলামভিত্তিক জঙ্গী-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় মদদ ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। ফলে দেশজুড়ে জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি), জাগ্রত মুসলিম জনতা, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, হরকত-উল-জিহাদ, হিজবুত তাহরীর, আল-জিহাদ বাংলাদেশ, আল্লাহর দল ব্রিগেড ইত্যাদি নামে অসংখ্য জঙ্গীগোষ্ঠী ও এদের নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ২১ বছর পর তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পরপর এসব জঙ্গী-সন্ত্রাসী চক্র ঐ সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক হিংস্র ছোবল মারতে থাকে। যশোরে উদীচী সম্মেলনে (১৯৯১), খুলনার আহমাদিয়া মসজিদে (১৯৯৯), পল্টনে সিপিবির জনসভায় (২০০১), রমনার পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানে (২০০১), মকসুদপুরের নানিয়াচর খ্রীস্টান চার্চে (২০০১), নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে (২০০১), ময়মনসিংহে সিনেমা হলের অভ্যন্তরে (২০০২), বিচারকের বাড়িতে, জজের কোয়ার্টার্সে, আদালত প্রাঙ্গণে, আইনজীবী সমিতি ও ডিসির অফিসে বোমা হামলা (২০০৫), ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলায় একযোগে পাঁচ শতাধিক বোমা বিস্ফোরণ (২০০৫), শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোটালীপাড়ায় তাঁর জনসভাস্থলে (২০০০) ৭০ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা, একই উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তাঁর শান্তির পক্ষে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা (২১ আগস্ট ২০০৪), সম্প্রতি ইতালি ও জাপানের দুই নাগরিক যথাক্রমে সিজার তাবেল্লা ও হোসি কোনিও (২০১৫), মন্দিরের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়ের হত্যা (২০১৬), অসাম্প্রদায়িক, মুক্তমনা ছাত্র-তরুণদের অত্যন্ত নৃশংসভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হাত-পায়ের রগ বা গলা কেটে হত্যা ইত্যাদির মাধ্যমে কিভাবে এই জঙ্গী-সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতির রাজত্ব (জবরমহ ড়ভ ঞবৎৎড়ৎ) কায়েম করতে উদ্যত হয়, সে সম্বন্ধে দেশবাসী সকলেই অবগত আছেন। স্মর্তব্য যে, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত ইউরিয়া ফার্টিলাইজার জেটিতে ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের এক বিশাল চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশবিরোধী দেশী-বিদেশী চক্রের হাতে বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার সময় থেকে ৬ বছর বিদেশের মাটিতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হয়ে অবশেষে অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে এক চরম বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। একদিকে সেনা নিয়ন্ত্রণ থেকে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অপরদিকে সাম্প্রদায়িক জঙ্গী-সন্ত্রাসী শক্তির উত্থান রোধে শুরু হয় তাঁর নিরন্তর সংগ্রাম, যা তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে চলছে। আন্দোলন-সংগ্রামের এ ধারায় ’৯০-এর ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদের পতন ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিজয় ও সরকার গঠন ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুগান্তকারী ঘটনা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভাবাদর্শের পুনঃপ্রত্যাবর্তন ঘটার (Restoration of the Ideals of War of Liberation) ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে বিগত ৪০ বছর, বিশেষ করে সেনাশাসন, বিএনপি এবং পরবর্তীকালে জামায়াত-বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতিতে ধর্মের ব্যাপক ব্যবহার/অপব্যবহার ঘটেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নানা বৈশ্বিক উপাদান। পরিবর্তনের এ বিষয়টি শেখ হাসিনার মতো এত স্পষ্টভাবে আর কেউ উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে হয় না। তাই ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ সংবিধানে রয়ে গেলেও শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকারের আমলে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (জুন ২০১১) ’৭২-এর সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চার রাষ্ট্রীয় নীতি পুনঃস্থাপিত হয়। সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতা সম্বন্ধে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা ও ধারণার আলোকে সংবিধান সংশোধনীতে সকল ধর্মবিশ্বাসের প্রতি সমান গুরুত্বারোপ করা হয়। জনগণের ধর্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে তাদের মধ্যে কেউ যাতে সাম্প্রদায়িক বিভেদ-বিদ্বেষ ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

এখানে পৌঁছাতে শেখ হাসিনাকে অনেক চ্যালেঞ্জ ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। নানা ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক মামলা মোকাবেলা করতে হয়েছে। একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন, কারাগারে থেকেছেন। প্রহসনমূলক বিচারের সম্মুখীন হয়েছেন। রাজনীতি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর কিংবা দেশের বাইরে নির্বাসনে পাঠানোর অপচেষ্টা হয়েছে। ২৩-২৪ বার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা, যাতে নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান, কয়েকশ’ লোক আহত এবং অনেকে পঙ্গু হন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ঘাতকদের মূল লক্ষ্য ছিলেন শেখ হাসিনা। তবে অলৌকিকভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

জীবনের শতভাগ ঝুঁকি নিয়ে হলেও শেখ হাসিনাকে উগ্র জঙ্গী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক সন্ত্রাসকে সফলভাবে মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক সন্ত্রাসের শিকার হন খুলনা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম (২০০৩), নাটোরের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজউদ্দিন আহমেদ (২০০৩), শ্রমিক নেতা ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার (২০০৪), আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া (২০০৫)-সহ দেশজুড়ে কয়েক হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। শেখ হাসিনা উভয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে শুধুমাত্র মোকাবেলা করছেন তা নয়, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী (যারা ১৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছিল) তাদের এবং প্রধানত বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী, পাকহানাদার বাহিনীর দোসর, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অনেককে ঘৃণ্য অপরাধের দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে এবং অনেক ক্ষেত্রে বিচারের সর্বোচ্চ রায় মৃত্যুদ- কার্যকর করতেও ইতোমধ্যে সমর্থ হয়েছেন। একমাত্র শেখ হাসিনার দৃঢ় অবস্থান ও অঙ্গীকার এবং দেশবাসীর সমর্থনের কারণেই এদের বিচার সম্ভব হচ্ছে।

চলবে...

লেখক : ভিসি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়