মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০ আশ্বিন ১৪২৪, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

গ্যাস বিস্ফোরণ

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৬

বৃহস্পতিবার বনানীর ছয়তলার একটি বাড়িতে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। আগুন লাগে ছয়তলায়। সেটা ছড়িয়ে পড়ে তিনতলা পর্যন্ত। আতঙ্কিত বাসিন্দারা ভয়ে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরার একটি ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণে বাবা-মা ও তাদের দুই সন্তানের মৃত্যু ঘটে। এসব দুর্ঘটনা ভয়াবহ এবং প্রাণনাশসহ বহুবিধ ক্ষতির কারণ হয়। গ্যাস সরবরাহ সংস্থা এসব দায়ভাগ থেকে নিজেদের এড়াতে পারে না। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িও এ সর্বনাশা বিপর্যয়ের জন্য দায়ী বলে কেউ কেউ মনে করছেন। বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনা তিতাস গ্যাস সংস্থার ওপর দায় বর্তায় বলে অভিযোগ করেছেন নগর পিতা আনিসুল হক। এদিকে গ্যাস কর্তৃপক্ষ পুরো ব্যাপারটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তিনদিন ধরে ভবনটির গ্যাস লাইন দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি সে প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। ভবনের মালিকপক্ষের বক্তব্য, শ্রমিক যোগাড় করতে পারলে কর্তৃপক্ষ পাইপটি মেরামতের আশ্বাস দেয়। বিস্ফোরণের দিনও তিন দফায় ভবনের পক্ষ থেকে গ্যাসলিকের অভিযোগ করা হয়। সঠিক সময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত বলে অনেকে মনে করছেন।

গ্যাস আমাদের দেশে একটি প্রয়োজনীয় সম্পদ। এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়ভাগ আমাদের প্রত্যেকের। কর্তৃপক্ষকে পাইপ লাইন দেয়ার ব্যাপারে যেমন সাবধান হতে হবে, তেমনি রাস্তা খোঁড়াখুুঁড়ির সময়ও অত্যন্ত সতর্ক থানা আবশ্যক, যাতে পাইপের কোন ক্ষতি না হয়। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কোন দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য আগেই সতর্কতা যেমন জরুরী, তেমনি ঘটে গেলে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে।

বনানী, গুলশান ও উত্তরার গ্রাহকরা গ্যাস পায় তিতাস সংস্থা থেকে। গ্যাস দুর্ঘটনার দায়ভাগও নিতে হয় সংস্থাটিকে। দুর্ঘটনার কারণ যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতাধীন করলে বিস্ফোরণের মাত্রা কমে আসতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তার ওপর নগর কর্তৃপক্ষের রাস্তা খননের সময় গ্যাস সংস্থার একটি পর্যবেক্ষণ টিম থাকা আবশ্যক বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ, একটু অসাবধানতায় রাস্তা খোঁড়ার সময় পাইপ লাইনের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আবাসিক ভবনসমূহে গ্যাস লাইনে লিকেজ চিহ্নিত করা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা অত্যন্ত জরুরী। এতে যেমন গ্যাস সংস্থা, গ্রাহকবৃন্দ এবং নগর কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরের প্রয়োজন, তেমনি আবাসিক ভবনসমূহের মালিকদের সচেতন দৃষ্টি দেয়া অন্যতম দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক জনগণের মধ্যে এ সচেতনতা বাড়াতে না পারলে দুর্ঘটনা বাড়বে বৈ কমবে না। দুর্ঘটনার কারণগুলোও জরুরীভিত্তিতে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। যাতে এর প্রতিকারের পথ সহজ হয় এবং অপূরণীয় ক্ষতি থেকে গ্রাহকরা রক্ষা পেতে পারে।

প্রকাশিত : ২৩ মার্চ ২০১৬

২৩/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: