১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বসন্ত বিকেলে নাট্যশালায় পুতুলনাট্য প্রদর্শনী


বসন্ত বিকেলে নাট্যশালায় পুতুলনাট্য প্রদর্শনী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার বারান্দায় বৃত্ত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে দর্শকবৃন্দ। সবার চোখ নিবিষ্ট হয়ে আছে ছোট ছোট পুতুলের ওপর। লতা-পাতায় ঘেরা ছোট্ট অস্থায়ী মঞ্চে যেন লাফিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। রকমারি পোশাকে আবৃত পুতুলগুলো বলছে নানা কথা। হাত-পা নেড়ে আওড়াচ্ছে সংলাপ। সেসব সংলাপে আছে ছোটদের জন্য নানা ধরনের উপদেশ ও শিক্ষামূলক বার্তা। কেউ বলছে, আমরা সদা সত্য কথা বলব, অপরের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করব। অপর পুতুলের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে, আমরা শাক-সবজি ও ছোট মাছ খাই। সব শেষে একঝাঁক পাপেট নেচে নেচে গেয়ে উঠল কবিগুরুর গান- আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে ...। এই গানের মাধ্যমে পরিবেশনাটি শেষ হতেই ঝরে পড়ে চারপাশ থেকে পুতুলদের ঘিরে থাকা দর্শনার্থীদের করতালি। জলপুতুল পাপেট দলের পরিবেশনায় সোমবার বসন্ত বিকেলে এভাবেই পুতুলের রাজ্য হয়ে ওঠে নাট্যশালার মুক্ত আঙিনা। এদিন পুতুল নাট্য দিবস উপলক্ষে এ বর্ণিল অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ।

পুতুল নাট্য দিবসের তিন পর্বের আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয় বেলা সাড়ে তিনটায়। প্রথম পর্বে নাট্যশালা ও এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে জলপুতুল পাপেট দলের পরিচালনায় সাধারণ, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকেলে উন্মুক্ত পাপেট প্রদর্শনী শেষে সন্ধ্যায় একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান।

২০১৬ সালের পুুতুল নাট্য সম্মাননা প্রদান করা হয় কুষ্টিয়ার পুতুলনাট্য শিল্পী আব্দুল কুদ্দুসকে। আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের থিয়েটার এ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রশীদ হারুন। পুতুলনাট্য বিষয়ক অভিজ্ঞতার বয়ান দেন জরিনা বেগম, খেলু মিয়া ও বলরাম রাজবংশী।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পুতুলনাট্যের ঐতিহ্য হাজার বছরের। তাই এদেশে পুতুল নাটকের চর্চা হচ্ছে অনেকদিন আগ থেকেই। তবে এই শিল্পধারাটি টিকে থাকলেও চর্চা ও প্রসার আরও বাড়ানো উচিত। পুতুল নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পেশাদারিত্বেরও তাগিদ রয়েছে। সেই তাগিদ থেকে তাদের দক্ষতাও বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলেই আবার ফিরে আসবে পুতুলনাট্যের সুদিন।

আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশনায় পুনরায় পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য। এ পরিবেশনার মধ্যে ছিল মুনীর চৌধুরীর ‘কুপোকাত’, রস+আলো’র অনুপ্রেরণায় ‘জনৈক গরুর সাক্ষাতকার’, জসীম উদদীন ও উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর ‘টুনটুনি ও নাককাটা রাজা’।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: