১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ম্যাজিস্ট্রেট ও তিন পুলিশসহ ৭ জনের সাক্ষ্য প্রদান


নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ, ২১ মার্চ ॥ নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট ও তিন পুলিশসহ সাতজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে একটানা দুপুর ২টা পর্যন্ত এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২৮ মার্চ তারিখ ধার্য করে। এর আগে র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও নূর হোসেনের আইনজীবীরা সাক্ষী ও বাদীকে জেরা করতে আবারও সময়ের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে।

সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামিকে হাজির করা হয়। সকাল সোয়া ১০টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও নূর হোসেনের আইনজীবীরা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে আদালতে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিন সাক্ষ্য দেন। এই মামলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মহিউদ্দিনের আদালতে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লে. কমান্ডার এমএম রানা, ল্যান্স নায়েক হীরা মিয়া, পুণেন্দ বালা ও নূর হোসেনের দুই সহযোগী মোর্তুজা জামান চার্চিল ও রহম আলী দোষ স্বীকার করে এবং হত্যাকান্ডের বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ১৬৪ ধারায় তার আদালতে শহীদুল ইসলাম ও রাবেয়া বেগম এবং এসআই পলাশ গোলদার সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন।

আদালতে আরও সাক্ষ্য দেনÑ চন্দন সরকারের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী এসআই বেলায়েত হোসেন, লাশ বহনকারী কনস্টেবল রমজান আলী, ইব্রাহিমের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী এসআই মিজানুর রহমান, সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার আবুল কালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম ও ফখরুল ইসলাম। এ সময় আদালতে সাক্ষীদের সাবেক র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ হোসেনসহ ৩৩ আসামির আইনজীবীরা জেরা করেন। সকাল সোয়া ১০টা থেকে একটানা দুপুর ২টা পর্যন্ত আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ২৮ মার্চ দুটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করে ২৩ আসামিকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয়া হয়।

পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাত খুনের দুটি মামলায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট, তিনজন পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিনজন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এ সময় ৩৫ আসামির মধ্যে ৩৩ আসামির আইনজীবী সাক্ষীদের জেরা করেছেন। আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অগামী ২৮ মার্চ পরবর্তী তারিখ ধার্য করে। আদালতে সাক্ষীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন- তাদের কিভাবে অপহরণ করা হয়েছে, হত্যার পর লাশ কিভাবে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

এদিকে, মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, আসামির কাঠগড়ায় থাকা প্রধান আসামী নূর হোসেন সাক্ষীদের চোখ রাঙাচ্ছেন ও ভয় দেখাচ্ছেন, যাতে সাক্ষ্য না দেয়। আমি প্রতিবাদ করার পরও পিপি সাহেব কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আসলে পিপি চাচ্ছেন না আলোচিত এই মামলায় আসামিদের বিচার হোক, শাস্তি হোক। তিনি পিপির বিরুদ্ধে আসামিদের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে এই পিপিকে পরিবর্তন করে যোগ্য পিপিকে মামলাটি পরিচালনা করার দায়িত্ব দেয়ার দাবি জানান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ অস্বীকার করে পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সৎ ও নিষ্ঠা নিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি। সকল ভয়ভীতি ও লোভ-লালসার উর্ধে এবং অনেকে আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, আপনার পিপি থাকবে না। আমি তাদের বলেছি, আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাব। প্রয়োজন হলে আমি আজও পিপির পদ থেকে চলে যেতে রাজি আছি।

র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর ( বাধ্যতামূলক অব) আরিফ হোসেনের পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া জানান, আদালতে আজ ১০ জন সাক্ষীকে জেরা করা হয়েছে। তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও নূর হোসেনের পক্ষে মামলার বাদী ও সাক্ষীকে জেরার করার জন্য সময়ের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করে। আমরা অন্ধকারে আছি, আলোর পথ খুঁজছি। আগামী দিনে মামলার কী ফলাফল তা আদালতের আদেশের অপেক্ষায়।

আদালতে সাক্ষ্য দেয়া শেষে বেরিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের দুই সাক্ষী আবুল কালাম আজাদ ও জাহাঙ্গীর আলম টিপু সাংবাদিকদের বলেন, আজ যে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য স্বাক্ষী হিসেবে আমাদের ডাকা হয়েছে সে কথা আগে থেকে আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের বলা হয়েছিল আদালতে উপস্থিত থাকার জন্য।

সাত খুনের মামলার কার্যক্রম চলাকালে সোমবার পুরো সময় আদালতকক্ষের বাইরে বারান্দায় অবস্থান করেন নূর হোসেনের দুই ভাই নূর সালাম ও নুরুউদ্দিন। এছাড়া নূর হোসেনের লোকজনকে আদালত প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু সিরাজুল ইসলাম লিটন, সহযোগী যুবলীগ নেতা মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, স্বপনের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণের তিন দিন পর লাশ উদ্ধার করা হয়। প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার চার সহযোগী হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় ওই আইনজীবীর জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একটিসহ ফতুল্লা মডেল থানায় মোট দুটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর তদন্তের পর তদন্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ ম-ল ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: