মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৬ আগস্ট ২০১৭, ১ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

তৃণমূলে ভোট শুরু ॥ প্রথম দফায় নির্বাচন হচ্ছে ৭২১ ইউপিতে

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৬
তৃণমূলে ভোট শুরু ॥ প্রথম দফায় নির্বাচন হচ্ছে ৭২১ ইউপিতে
  • প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩৬ হাজার ৪৫৬ প্রার্থী
  • বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ২৮৭
  • কয়েকটিতে আদালতের স্থগিতাদেশ

শাহীন রহমান ॥ প্রথম দফায় ৭২১ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে আজ মঙ্গলবার। কমিশন জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। তা বিরতি ছাড়াই চলবে ৪টা পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। ব্যালট পেপারসহ ভোটের সরঞ্জাম প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইসি জানিয়েছে আগামীকাল বুধবার টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১১ ইউপির নির্বাচন হবে। এছাড়া টেকনাফের দুটি ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে ২৭ মার্চে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে আজ ৭২১ ইউপি নির্বাচনের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত সোমবার বেশ কয়েকটি ইউপি নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে এসব ইউপি প্রস্তুতি নেয়া হলেও ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে না।

ইসির হিসাব অনুযায়ী ৭২১ ইউপিতে চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যপদে মোট ৩৬ হাজার ৪৫৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ৩৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ হাজার ৮৪৭ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭৫৭৫ প্রার্থী জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য অংশ নিয়েছেন। তবে প্রথম দফায় সব মিলিয়ে ২৮৭ প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৭৯ জন এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫৪ জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ইসি জানিয়েছে, এসব পদে নির্বাচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইপিতে এসব পদে আর কোন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে না। তবে যেসব পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়নি সেসব পদে যথারীতি ভোটগ্রহণ করা হবে।

কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী প্রথম দফায় ইসির নিবন্ধিত ১৪টি রাজনৈতিক দল ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব দলের প্রার্র্থীরা দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এর বাইরের যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের জন্য ইসির বরাদ্দকৃত প্রতীক দেয়া হয়েছে। শুধু চেয়ারম্যান পদে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর বাইরে সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে আগের মতো নির্দলীয় হচ্ছে। প্রথম দফায় রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থী রয়েছে ১ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা ৭৩৩ জন। অপর দিকে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে ৬১৩ জন। জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির প্রার্থীর সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১২৭ জন। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ২৪৬ জন। তবে ১৪টি রাজনৈতিক দল ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের লড়াই হবে মূলত আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের সঙ্গে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। তবে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিলেও ৬ ভাগের এক ভাগ ইউপিতে তাদের প্রার্থী দিতে পেরেছে মাত্র। এর বাইরে আর কোন ইউপিতে তাদের প্রার্থী নেই। এছাড়া বিগত পৌরসভার নির্বাচন ও তার আগের উপজেলা নির্বাচনেও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ভোটের লড়াই ছিল না বললেই চলে।

আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ছাড়াও এ নির্বাচনে ১৪ রাজনৈতিক দলের মধ্যে মশাল প্রতীকে জাসদের ২৯ জন, কুলা প্রতীকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের ৪ জন, হাতুড়ি প্রতীকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ২৩ জন, বাইসাইকেল প্রতীকে জাতীয় পার্টি জেপির ১৭ জন, টেলিভিশন প্রতীকে বিএনএফ’র ৪ জন, ফুলের মালা প্রতীকে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের ১ জন, খেজুর গাছ প্রতীকে জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশের ১ জন, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২২৭ জন, কুঁড়েঘর প্রতীকে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ৩ জন ও অন্যান্য ১জনসহ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রথম দফায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি ৭৫২ ইউপিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তবে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা আদালতের নিষেজ্ঞা ও মেয়াদ সম্পন্ন না হওয়ায় ইতেমধ্যে ১৮ ইউপির নির্বাচন স্থগিত করেছেন নির্বাচন কমিশন। এর বাইরে সোমবারও বেশ কয়েকটি ইউপি নির্বাচন আদালতের আদেশে স্থগিত করা হয়েছে। প্রথম দফায় প্রার্থীরা গত ২২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে সব মিলিয়ে ৩৯ হাজার ৪৩০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। গত ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি বাছাই ও ২ মার্চ প্রত্যাহার শেষে ৩৬ হাজার ৪৫৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

প্রথম দফায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার ৭৪১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি বাছাই করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৬৯ জন। অপরদিকে মহিলা ভোটার রয়েছে ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৯৪ জন। ভোটারদের ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে ৭ হাজার ৮৭টি। এর মধ্যে অস্থায়ী কেন্দ্র রয়েছে ৭১টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৩৬টি। অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ২ হাজার ৭৬৫টি। কমিশন জানিয়েছে, প্রতিভোট কেন্দ্রের জন্য একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে ভোট কক্ষে ভোটগ্রহণ কর্মর্কতা দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিকেন্দ্রে একজন করে সাত হাজার ৮৭ জন প্রিসাইডিং অফিসার, প্রতি ভোটকক্ষে একজন করে ৩৮ হাজার ৩৬ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার এবং প্রতি ভোটকক্ষে দুইজন করে ৭৬ হাজার ৭২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা থাকবেন প্রায় এক লাখ ২১ হাজার ২শ’ জন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি। প্রতি ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ২০ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে আইনশঙ্খলা বাহিনী। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, ভোটার সীলমোহরসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম সব ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন শুধু ইসির অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া কোন যান্ত্রিক যান চলাচল করতে পারবে না। ভোটগ্রহণ সম্পন্ন এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার প্রচারণা, মিছিল মিটিং, পথসভা করাও যাবে না। ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ নির্বাচনী অনিয়ম রোধ এবং তাৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থার জন্য নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে প্রথম দফায় ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা যেন কারও পক্ষে কাজ না করে সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ভোটে কোন অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওসি ও কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা দায়ী থাকবেন বলে হুঁশিয়ার করেন।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্ভয়ে ভোট দিন। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে প্রার্থী, সমর্থক এবং সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতাও কামনা করেন। নির্বাচনে কেউ অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিরোধ করার নির্দেশ দেন। বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) অনেক বড় পরিসরের নির্বাচন। সে অনুযায়ী কর্মকর্তা নেই। অন্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সহায়তা নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে ইসির। অথচ তাদের ওপর ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের মতো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে তাদের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও মন্তব্য করেন, নির্বাচন অর্থকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। নির্বাচনে সহিংসতা চরিত্রগত। এই চিত্র আগে থেকেই বহন করে চলেছি। তাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে। নির্বাচনে হানাহানি, মারামারি দুঃখজনক। সবাই নিজেদের যোগ্য প্রার্থী মনে করেন। যার শক্তি বেশি তিনি নিজেকে তত বেশি যোগ্য মনে করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের ব্যালটসহ যাবতীয় মালামাল পৌঁছানো হয়েছে। প্র্রতিটি ভোটার যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন সেজন্য পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনাসরের বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ভোটারের নিরাপত্তার জন্য প্রতি কেন্দ্রে ২০ জন ফোর্স নিয়োজিত করা হয়েছে। র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবেও থাকবে। তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য একজন করে বিচারিক ও চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন উল্লেখ করেন।

প্রকাশিত : ২২ মার্চ ২০১৬

২২/০৩/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



শীর্ষ সংবাদ: