১৯ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পাবনায় বঙ্গবন্ধুর দেয়া জমি ৪১ বছরেও পায়নি চার শ’ ভূমিহীন


নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ২১ মার্চ ॥ সদর উপজেলার চরসাদিপুরের ৪শ’ ভূমিহীন পরিবার দীর্ঘ ৪১ বছরেও স্থায়ী বন্দোবস্তকৃত খাস জমির দখল পায়নি। দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরসাদিপুরে ৪শ’ ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য পরিবারপ্রতি আড়াই একর খাসজমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেন এবং তিনটি গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেন। ১৯৭৪ সালে তার সরকার চিটা নক্সা তৈরি করে প্রত্যেক ভূমিহীন পরিবারকে আড়াই একর করে জমির দলিল সম্পাদন এবং হস্তান্তর করেন। এরপর তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী আনুষ্ঠানিকভাবে তিনটি গুচ্ছগ্রাম উদ্বোধন করেন। কিন্তু ৭৫ পরবর্তী কোন সরকারই ভূমিহীনদের দখল বুঝে দেয়নি। এলাকার প্রভাবশালীরা বস্তোবস্তকৃত জমির দলিল বাতিলের জন্য পাবনা জজকোর্ট, ভূমি মন্ত্রণালয় ও হাইকোর্টে মামলা করে হেরে যায়। এরপর থেকে ওই প্রভাবশালীরা মৌজার আরও তিন হাজার বিঘা খাস জমি দখল করে ইটভাঁটির ব্যবসা ও মাটি কেটে বিক্রি করছে। ভূমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি জবর দখলের জন্য বারবার হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটায়। এমনকি ওই গ্রামের উজির দেওয়ানকে প্রকাশ্যে হত্যা পর্যন্ত করা হয়। এলাকার ভূমিহীন ময়েজ উদ্দিন, তামসের শেখ ও আসমত শেখ জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর সরকার আমাদের নামে দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে যে খাস জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত দেন। কিন্তু পরবর্তী সরকার ভূমিহীনদের খাসজমির দখল বুঝে দেয়নি। তিনটি গুচ্ছগ্রাম বাস্তবায়নের জন্য টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রভাবশালীরা নিজেদের পকেট ভারি করেছে। ভূমিহীনদের উচ্ছেদের জন্য হামলা, মারপিট, হত্যাসহ এ পর্যন্ত ৭৫টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে ভূমিদস্যুরা। তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারও নেই। ভূমিহীনরা আরও জানায়, যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে সেই সরকারের দলীয় প্রভাবে বছরের পর বছর তাদের ওপর নির্যাতন চলছে।