১৬ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তাসকিন-সানি নিষিদ্ধ!


খবরটা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য বজ্রঘাততুল্য। অবৈধ বোলিং এ্যাকশনের জন্য তাসকিন-সানি ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশ দলের পক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আর কোন খেলায় অংশ নিতে পারছেন না। অতঃপর তাসকিনের বিকল্প হিসেবে অফ স্পিনার ও ব্যাটসম্যান শুভাগত হোম চৌধুরী এবং সানির বিকল্প হিসেবে বাঁহাতি স্পিনার সাকলাইন সজীবকে নেয়া হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ধর্মশালায় বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের ম্যাচ থেকে। এ দিন এ দু’জনের বোলিং এ্যাকশন ‘সন্দেহজনক’ বলে রায় দেন ম্যাচের কর্মকর্তারা। অতঃপর আইসিসির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আরাফাত সানি ১২ মার্চ এবং তাসনিক আহমেদ ১৪ মার্চ শ্রী রামাচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরিতে বায়োমেট্রিকস পদ্ধতিতে বোলিং এ্যাকশনের পরীক্ষা দেন। কার ঠিক কোন ডেলিভারিতে হাত কতটা বাঁকছে, সেটা আইসিসি প্রকাশ না করে বলেছে, ‘আরাফাতের বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে যে, তার অধিকাংশ ডেলিভারি আইসিসির সহনশীলতা মাত্রা ১৫ ডিগ্রী অতিক্রম করছে। অন্যদিকে তাসকিনের সব ডেলিভারি বৈধ নয়।’

বাঁহাতি অফ স্পিনার আরাফাত সানির পরীক্ষার ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে মেনে নেয়া হলেও তাসকিনের ব্যাপারে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। পরীক্ষায় তাসকিনকে ৩ মিনিটের মধ্যে ৯টি বল বাউন্সার করতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে ৩টি ‘অবৈধ’ এ্যাকশন। অথচ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাসকিন কোন বাউন্সার দেননি। তাই পরীক্ষাগারে তাকে এই বল করতে বলা ঠিক হয়নি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ একটি বাউন্সার করা যায়। তাই তাসকিনের পরীক্ষা বাস্তবানুগ হয়নি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তাসকিন অবিচারের শিকার। এই পরীক্ষা পদ্ধতি ও রায় ত্রুটিপূর্ণ। সুতরাং আইসিসির সমীপে আপীল হতেই পারে। বিসিবিও তার পাশে আছে।

তবু অন্তত এই মুহূর্তে তাসকিনের অনুপস্থিতি যে বাংলাদেশ দলের জন্য এক বিরাট ধাক্কা, সেটা স্বীকার্য। ঢাকায় সদ্যসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের সফল আয়োজনের পর এবং রানার্স আপ হওয়ায় সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অনেকটা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল। ইতোমধ্যেই তারা বিভিন্ন ধরনের ক্রিকেটে শক্তিধর বলে বিবেচিত প্রায় সব দেশের জাতীয় দলকেই পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার অজুহাত তুলে অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ভ্রমণে আপত্তি জানিয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, আইসিসি অনেকটা বিশ্ব ফুটবল সংস্থা ফিফার মতো হাতেগোনা দুই-তিনটি দেশের অঙ্গুলি হেলনে পরিচালিত হচ্ছে। যে কারণে আইসিসির কিছু কর্মকা-ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ইতোপূর্বে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাসকিন-সানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিষিদ্ধ হলেও দেশীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলতে পারবেন সংশোধনের জন্য। প্রয়োজনে বিদেশী বিশেষজ্ঞের সহায়তা ও পরামর্শও নেয়া যেতে পারে। আইসিসিরও উচিত হবে সৎ ও নিরপেক্ষ থাকা। রিভিউ বিবেচনা করা। টাইগারদের প্রতি আহ্বান, আহত ব্যাঘ্র ভয়ঙ্কর। সুতরাং সর্বশক্তি নিয়ে কেরালায় প্রতিপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার এখনই সঠিক সময়।