২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গ্রুপ ভিত্তিক পণ্য পাচার মিয়ানমারে


স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির টহল ও কড়াকড়ি আরোপ দেখে চোরাচালানিরা পণ্য পাচারে গ্রুপ বেঁধেছে। প্রতিদিন নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বণ করে চলছে তারা। টেকনাফের হ্নীলা ওয়াব্রাং সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে গ্রুপ ভিত্তিক চোরাচালানিরা সার-ডিজেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় মাল পাচার করছে মিয়ানমারে। বিনিময়ে সে দেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে ইয়াবার চালান। টহলরত বিজিবি জওয়ানদের পাহারায় চিহ্নিত লোক নিয়োজিত রেখে ৩২জনের একটি সিন্ডিকেট চোরাচালানি ব্যবসায় প্রত্যেহ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। তারা গ্রুপ ভিত্তিক ৮জন করে বিভক্ত হয়ে মিয়ানমার থেকে নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ে আসছে দেশে। গ্রুপটির প্রধান হচ্ছে বদি আলম নামে এক চোরাচালানি। চোরাই ব্যবসার খাতিরে চার গ্রুপে ৮জন করে বিভক্ত করা হলেও লাভ-ক্ষতির হিসাবের বেলায় সকলে এককাট্টা। ওয়াব্রাং ঘাট দিয়ে ওই বদি আলম গ্রুপের সদস্যরা প্রতিরাতে কয়েক লাখ টাকার মাল মিয়ানমারে পাচার করে চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রাত জেগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাহারা দেয়া গ্রুপটি ভোর থেকে ঘুমাবে দুপুর পর্যন্ত। সকাল থেকে অপর গ্রুপ মিয়ানমার থেকে সেদেশের চোরাচালানিদের চাহিদা মত মাল কিনে রাখে। আরেকটি গ্রুপের সদস্যরা মালগুলো দিনের বেলায় স্বাভাবিকভাবে নিয়ে রাখছে নির্ধারিত স্থানে। গ্রুপের বাছাইকৃত সদস্যরা টাকা সংগ্রহ এবং আদান প্রদান করে থাকে বলে জানা গেছে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদি আলম গ্রুপের প্রধান বদি আলম মুঠোফোনে কার কী দায়িত্ব জানিয়ে দেয় সকল সদস্যকে। এভাবে প্রতিরাতে ওয়াব্রাং ঘাট দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাচ্ছে সার, ডিজেল, ময়দা, চিনি, পেঁয়াজ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। অপরদিকে মিয়ানমার থেকে দেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে, ইয়াবা, সিগারেট, শুকনো সুপারি ও ক্যালসিয়াম-কপিসহ বিভিন্ন পণ্যাদি। সূত্র মতে, ওসব চোরাচালানি রাতের বেলায় জেলের ভান করে নাফনদীতে বিচরণ করে বেড়ায়। সঙ্গে থাকে নৌকা ও মাছ ধরার উপকরণ। প্রতিজনের হাতে অবশ্যই থাকে একেকটি মুঠোফোন। বিজিবির টহলদলের গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে নিয়োজিত থাকে তাদের চিহ্নিত লোকজন। ওই সদস্যদের গ্রীণ সিগন্যাল পেলে শুরু হয় পণ্য পাচার কার্যক্রম। স্থানীয় জনসাধারণ ওয়াব্রাং পয়েন্টে বিজিবির টহল জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: