২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সতর্ক আশাবাদ চে পুত্রের ॥ ওবামার কিউবা সফর


কিউবান বিপ্লবের অন্যতম বিখ্যাত নেতা আর্নেস্তো ‘চে’ গুয়েভারার পুত্র কামিলো গুয়েভারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কিউবা সফর নিয়ে মন্তব্য করেছেন হয়ত আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিবাচক দিক দিয়ে প্রভাবিত করতে পারি। তবে তিনি প্রেসিডেন্টের সফরকে তার বিপ্লবী পিতার ঐতিহ্য রক্ষার সুযোগের পাশাপাশি ঐতিহ্যের প্রতি হুমকি হিসেবেও দেখছেন।

চে গুয়েভারার পুত্র তার সমসাময়িক ওবামার রবিবার সূচিত হাভানা সফরকে সতর্ক আশাবাদের সঙ্গে দেখছেন। ওবামা এখন বিশ্বের পুঁজিবাদী শক্তির নেতা।

১৯৬০-এর দশকের প্রথম দিকে ওবামার জন্মের এক বছরের মধ্যে কামিলোর গুয়েভারার জন্ম হয়। তখন কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্র ঠা-া লড়াইকালীন অন্যতম বিপজ্জনক ও স্থায়ী সংঘাত শুরু করছিল। পাঁচ বছর পর বলিভিয়াতে চে গুয়েভারার মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়।

আর আরও শান্তিপূর্ণ কিন্তু কম আনন্দদায়ক কামিলো গুয়েভারা সময়ে পিতা চের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে আত্মনিবেদিত। গুয়েভারা তার পিতার কেবল বিখ্যাত ছবিই নয়, কথাবার্তাও বিশ্বজুড়ে স্মরণ করা হোকÑ এটিই নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু এ দ্বীপদেশের অনেকেরই মতো গুয়েভারা ওবামার আগমনকে এক সুযোগের মতোই ঐ ঐতিহ্যের প্রতি হুমকি হিসেবেও দেখছেন। গুয়েভারা গার্ডিয়ানকে বলেন, এটি এখন ঐতিহাসিক ও খুবই গুরুত্বপূর্ণ সফর। এ প্রথম কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক স্বাধীন কিউবা সফর করছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এক সাম্রাজ্য। টেবিল ঠিক করে আপনাকে কোন ভোজপর্বে আমন্ত্রণ জানানো তাকে স্বভাব নয়। ইতিহাসে দেখা যায়, যতবারই তারা কোন টেবিল সাজায়, ততবারই আপনাকে মেনে নিতে হবে যে, আপনাকে বিষ প্রয়োগ করা হতে পারে বা পিঠে ছুরি মারা হতে পারে। তবুও দেখা যাক। বাইরের জগতের কাছে ওবামার সফর এক ছোট দেশের সঙ্গে শান্তিস্থাপনা, নতুন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টাস্বরূপ। এ দেশটি এক শতকেরও বেশি সময় ধরে এর পরাশক্তি প্রতিবেশীকে প্রতিহত করে এসেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রেসিডেন্টের অন্যতম বড় সফরসঙ্গী দল। ওবামার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও চার কেবিনেট মন্ত্রী, প্রায় ৪০ সিনেটর, কংগ্রেস সদস্য এবং কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী নেতা ও বিশিষ্ট কিউবান আমেরিকান রয়েছেন। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট, লজিস্টিক স্পেশিয়ালিস্ট, সাংবাদিক ও টাম্প বে রেস বেজবল টিমসহ অফিসিয়াল মার্কিন টিম ১২০০টি রুম পূর্ণ করবে। বিশাল সফরসঙ্গী বহন কোন আকস্মিক ঘটনা নয়।

এ সফরের লক্ষ্য হলো চিত্তাকর্ষক হওয়া। ওবামা তার দেশবাসীর মধ্যে এক শান্তিস্থাপক হিসেবে ভাবমূর্তি অর্জন করতে চান। আর স্বাগতিক কিউবানদের মধ্যে তিনি ঘনিষ্ঠতর সম্পর্ক থেকে কতখানি সুফল পাওয়া যায় তা দেখতে চান।

গুয়েভারা মনে করেন, এ সমঝোতা নিয়ে তার পিতার মিশ্র অনুভূতিই থাকত। তিনি বলেন, আপনারা দেখতে পান, তিনি সাম্রাজ্য থেকে আসা কোন কিছুকেই বিশ্বাস করতেন না। তিনি তার পিতার ব্যাপক লেখার প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। তিনি বলেন, ‘কিন্তু তিনি বুঝতেন যে, বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার গুরুত্ব রয়েছে, ভাল ও মন্দ থেকে শেখার দরকার রয়েছে এবং তিনি উপলব্ধি করতেন যে, আমরা বাইরের কাছেও আমাদের তুলে ধরতে পারি, হয়ত আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ইতিবাচক পথে প্রভাবিতও করতে পারি।

গুয়েভারা প্রেসিডেন্ট অভিপ্রায় নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমি ওবামাকে ব্যক্তিগতভাবে জানি না। তিনি বুদ্ধিমান ও মানুষের বড় বড় সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল বলে মনে হয়, কিন্তু তিনি কোন বিপ্লবের মাধ্যমে নয়, কোন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন।

তিনি কর্পোরেট আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট ছিলেন। গায়ের রং এক জিনিস আর আদর্শের রং ভিন্ন জিনিস। তথাপি তিনি মনে করেন, ওবামা খুবই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সহায়তা করেছেন। ওবামা দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার পরও সেই পরিবর্তন কিছু মাত্রায় টিকে থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র কিউবা সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছেÑ এটিই বাস্তবতা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন, অবস্থা অতীতের তুলনায় আর খারাপ হতে পারে না। Ñগার্ডিয়ান