১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মুহিত, গুণসহ ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কবি নির্মলেন্দু গুণ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসহ দেশের ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করার নয় দিনের মাথায় কবি নির্মলেন্দু গুণকেও স্বাধীনতা পদক দেয়ার সিদ্ধান্ত জানালো সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৪ মার্চ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে ১৫ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত করবেন। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, নির্মলেন্দু গুণকেও এবার স্বাধীনতা পদক দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগে ১৪ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে নির্মলেন্দু গুণকেও পদক দেয়া হবে। সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমার এই দাবিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন বলে সম্ভব হয়েছে। উনি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে এটা হয়েছে। এজন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ৭ মার্চ এবারের স্বাধীনতা পদকের জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পাটের জিন নক্সা উন্মোচনকারী প্রয়াত বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম, রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ ১৪ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নাম ঘোষণা করে।

ওই তালিকায় নাম না আসায় ১০ মার্চ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। সত্তরের উত্তাল সময়ে যার কবিতা মুক্তির আকাক্সক্ষা ছড়িয়েছিল।

‘আমাকে স্বাধীনতা পদক দিন’ শিরোনামে ওই পোস্টে তিনি লেখেন, আমার একদা সহপাঠিনী, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার দৃষ্টে আমি প্রথম কিছুকাল অবাক হয়েছিলাম- কিন্তু আজকাল খুবই বিরক্ত বোধ করছি। অসম্মানিত বোধ করছি। ক্ষুব্ধ বোধ করছি।

গুণের ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি সরকারের নজরে আসে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন। সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কবি নির্মলেন্দু গুণকে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

পরে জাতীয় পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চলতি বছরের স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীতদের তালিকায় গুণের নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠালে শেখ হাসিনা তা অনুমোদন করেন।

কবি নির্মলেন্দু গুণের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনেক কবিতাই বাংলার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে চর্চিত। বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলন যখন তুঙ্গে, সে সময় তার লেখা ‘হুলিয়া’ দারুণ জনপ্রিয় হয়।

ওই কবিতায় ‘আইয়ুব খান এখন কোথায়? শেখ মুজিব কি ভুল করছেন?’ প্রশ্নের মধ্য দিয়ে বাঙালীর স্বাধীনতার আকাক্সক্ষাকেই ফুটিয়ে তোলেন কবি।

পরে ‘শেখ মুজিব ১৯৭১’, ‘সেই রাত্রির কল্পকাহিনী’, ‘স্বাধীনতা- এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’, ‘আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি’ প্রভৃতি শিরোনামে বাঙালীর স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ককে নিয়ে কবিতা লিখেছেন গুণ।