২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ আমার মাকে রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে ধর্ষণ করেছে মাওলানা সাখাওয়াত


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যশোরের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১২তম সাক্ষী (নাম প্রকাশ করা হলো না) তার জবানবন্দীতে বলেছেন, আসামি সাখাওয়াত আমার মাকে রাজাকার ক্যাম্পে তিন দিন আটক রেখে ধর্ষণ করেছে। পরে আমার নানীর চাচা চিংড়া রাজাকার ক্যাম্পে গিয়ে দেন দরবার করে মাকে ছাড়িয়ে আনে। জবানবন্দী শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাক্ষীর জন্য আজ সোমবার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রবিবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় প্রসিকিউটশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর রিজিয়া সুলতানা চমন। আর আসামি পক্ষে ছিলেন সাত্তার পালোয়ান ও আব্দুস শুকুর।

সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৩৬ বছর। আমার ঠিকানা গ্রাম-

রেজাকাটি, থানা- কেশবপুর, জেলা- যশোর। আমি কেশবপুর পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টার হিসেবে কর্মরত আছি। আমি ২০০৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এম এ পাস করেছি। আমি ১৯৯৬ সালে কেশবপুর থানার মহাদেবপুর আরবি এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। ওই সময় আমার সহপাঠিরা বিভিন্ন সময় আমাকে বলত যে, তোর মাকে রাজাকাররা ১৯৭১ সালে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তুই সেটা জানিস কিনা? এই কথা শুনে আমি কষ্ট পেতাম। ১৯৯৮ সালে কেশবপুর ডিগ্রী কলেজ থেকে আমার মা সম্পর্কে আমার স্কুলের সহপাঠিদের বলা কথার বিষয়ে চানতে চাই। প্রথমে আমার বাপ কিছু বলতে চাননি। কিন্তু আমার পীড়াপীড়ির কারণে আমার বাবা তখন আমাকে বলেন যে, ১৯৭১ সালের ২৭ আশ্বিন রাজাকার মোঃ ইব্রাহীম হোসেন ওরফে ঘুংগুর ইব্রাহিম, আসামি আব্দুল আজিজ সরদার, পিতা মৃত আহমেদ সরদার ও আসামি মোঃ আব্দুল আজিজ সরদার, পিতা মৃত আহমেদ সরদার ও আসামি মোঃ আব্দুল আজিজ সরদার, পিতা মৃত ফুল মিয়া সরদারসহ কয়েকজন রাজাকার আমার মা আশুরা খাতুনকে তার বাবার বাড়ি বড়া গ্রাম থেকে ধরে চিংড়া রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। আমার বাবা আমাকে আরও জানায় যে, আমার মাকে চিংড়া রাজাকার ক্যাম্পে তিন দিন আটক রেখে আসামি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন তাকে ধর্ষণ করে। আমার বাবা আমাকে আরও জানায় যে, আমার মাকে তিন দিন রাজাকার ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন করার পর আমার নানীর চাচা শরীয়তুল্লাহ শেখ (বর্তমানে মৃত), রফি উদ্দিন সরদার (বর্তমানে মৃত) ও জোনাব আলী সরদার (বর্তমানে মৃত) চিংড়া রাজাকার ক্যাম্পে গিয়ে দেন দরবার করে আমার মাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। আমার বাবা ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি আমার মা আশুরা খাতুনকে বিয়ে করেছিলেন।

১৯৭২ সালে যশোরের জেলা প্রশাসক আমার মাকে ওয়ার এ্যাফেকটেড ওমেন হিসেবে যশোর অনাথ শিশু সদন ও দুস্থ মহিলা পুনর্বাসন কেন্দ্রে মেট্রন-কাম-নার্স হিসেবে নিয়োগ প্রদান করলে আমার মা ওই বছর ১ নবেম্বর উক্ত পদে যোগদান করেন। আমার মা পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। আমার মায়ের নির্যাতনের বিচার চাই।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: