২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হামজা ব্রিগেডের ব্যারিস্টার শাকিলাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রামের বাঁশখালির সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি পাহাড় থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় জঙ্গী সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের বিরুদ্ধে আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও দুই আইনজীবীসহ মোট ২৮ জনকে। এর মধ্যে তিন আইনজীবীকে অভিযুক্ত করা হয় অর্থ যোগানদাতা হিসেবে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে রবিবার আদালতে এ চার্জশীট জমা দেয়া হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার সঙ্গে আরও যে দুই আইনজীবী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছেন তারা হলেন সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন ও জজকোর্টের আইনজীবী মাহফুজ চৌধুরী বাপন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন লাভের পর চার্জশীটটি আদালতে পাঠানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালির লটমনি পাহাড়ে সন্ধান মেলে জঙ্গী আস্তানা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের। পোল্ট্রি ও গরুর খামারের আড়ালে সেখানে পরিচালিত হয়ে আসছিল জঙ্গীদের প্রশিক্ষণ। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণের সরঞ্জাম। এ ঘটনায় বাঁশখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। মামলাটি তদন্তের দায়িত্বও দেয়া হয় র‌্যাবকে। তদন্ত করতে গিয়ে সন্ধান মেলে হালিশহর গোল্ডেন আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে আরও একটি আস্তানার। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম। র‌্যাবের তদন্তে বেরিয়ে আসে অর্থ যোগানদাতা হিসেবে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ তিন আইনজীবীর নাম। ঢাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

চট্টগ্রাম ভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডকে এ তিন আইনজীবী অর্থায়ন করেছেন বলে স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে। সংগঠনটির সংগৃহীত ১ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে তিন আইনজীবীর মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে শাকিলা দুদফায় ২৫ লাখ ও ২৭ লাখ করে মোট ৫২ লাখ টাকা, হাসানুজ্জামান লিটন ৩১ লাখ টাকা এবং মাহফুজ চৌধুরী বাপন ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে তথ্য মেলে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা এবং অপর দুই আইনজীবীসহ মোট ২৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে সাক্ষী করা হয়েছে ১০২ জনকে। আসামিদের মধ্যে ব্যারিস্টার শাকিলাসহ ১১ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক।