২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নৌকা ডোবাতে এককাট্টা


স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ও শোভনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত ওই দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের অনুসারীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নৌকার প্রার্থীকে হারানোর জন্য তারা বিএনপি-জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে এককাট্টা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার ৮ নম্বর শরাফপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় মওলানা ভাসানী মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নূর উদ্দিন আল মাসুদ। তিনি ওই ইউনিয়নের তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। অপরদিকে ৭নং শোভনা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সরদার আব্দুল গণি ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। সরাফপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শেখ রবিউল ইসলামের প্রতীক ‘চশমা’। শোভনাতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য। তার প্রতীক ‘মোটরসাইকেল’। সরাফপুরে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ রবিউল ইসলাম বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা নিয়ে নৌকা প্রার্থীকে হারানোর জন্য নানা অপপ্রচার ও নৌকা সমর্থিত সাধারণ ভোটারদের হুমকি-ধমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শোভনাতেও নৌকা প্রার্থীর বিরুদ্ধে একই ধরনের অপতৎপরতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপ্রার্থী অধ্যক্ষ নূর উদ্দীন আল মাসুদ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত হয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ রবিউল ইসলাম জামায়াত-বিএনপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা প্রকাশ্যে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বরিশালে গোপন

বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল থেকে জানান, দলীয় প্রতীক পেয়ে প্রার্থী ও তার সমর্থকরা প্রচারে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকলেও দলের কতিপয় নেতা শেষ সময়ে নৌকা ডোবাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে দলের সুবিধাভোগী ও পদ-পদবী দখলকারী ওই সব নেতা বিএনপির প্রার্থীকে নিয়ে একাধিক গোপন বৈঠক করেছে। এছাড়া নৌকা ডোবাতে নিজ দলের সুবিধাভোগী নেতারা অতিগোপনে কমিটি গঠন করেছে। রবিবার সকালে এ তথ্য চাউর হওয়ায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আ’লীগের হাইকমান্ড থেকে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিজ নিজ এলাকার নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হলেও নির্বাচনী গণসংযোগ কিংবা প্রচারের শেষ সময়ে দেখা মিলছে না ওই ইউনিয়নের আ’লীগের সভাপতি, সম্পাদকসহ অন্যান্য পদ-পদবীধারী নেতাদের। সূত্রে আরও জানা গেছে, দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করতে গত কয়েকদিন থেকে রাতের আঁধারে বিএনপিদলীয় প্রার্থীকে নিয়ে ইউনিয়নের মাহিলাড়া, বেজহার, শরিফাবাদ গ্রামে একাধিক গোপন বৈঠক করেছে ইউনিয়ন আ’লীগের কতিপয় নেতা। এজন্য ইউনিয়ন আ’লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক করে কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেÑ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আলমগীর হোসেন কবিরাজ, সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন সরদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম সিকদার গং।

রবিবার সকালে বিষয়টি পুরো ইউনিয়নে চাউর হওয়ায় নৌকা সমর্থক তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সূত্রমতে, মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানপ্রার্থী সৈকত গুহ পিকলুকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়।

বাউফলে দলের

একটি পক্ষ

নিজস্ব সংবাদদাতা বাউফল থেকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি ঘটাতে আওয়ামী লীগের মধ্যে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও পর্দার অন্তরালে থেকে এক সরকারী আমলা কলকাঠি নাড়ছেন। তাদের উদ্দেশ্য বিএনপি নেতা কাম শিল্পপতিকে বাউফলের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করা। তৃর্ণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মতামত নিয়ে বাউফলের ১১ ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব প্রার্থীকে প্রত্যয়ন করেন। কিন্তু দলের মধ্যে ওই পক্ষটি দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী কোন কোন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান দু’বার বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও বর্তমানে তিনি দলের সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (প্রস্তাবিত) ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। এই দুই নেতাকে পর্দার অন্তরালে প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক আমলা।