২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অসাধু রফতানিকারক


বরফ মুড়ে চিংড়ির ওজন বাড়িয়ে বিদেশে রফতানির অভিযোগ পাওয়া গেছে খুলনা থেকে। নিয়ম অনুযায়ী শুধু চিংড়ির ওজনের ওপর সরকার থেকে নগদ অর্থ সহায়তা পাওয়ার কথা থাকলেও বেশি অর্থ লাভের আশায় বরফসহ চিংড়ির ওজন দেখিয়েছে তিন রফতানিকারক। নিয়মের বাইরে এই সহায়তা দেয়ায় সরকারকে গত তিন বছরে রাজস্ব ক্ষতি গুনতে হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। মাছের নিট ওজনের পরিবর্তে বরফাচ্ছাদিত ওজনের ওপর বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ সহায়তা দেয়া ও জালিয়াতির ঘটনায় অডিট আপত্তির নিরিখে সরকারী হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিষয়টি তুলে ধরেছে এক প্রতিবেদনে। তবে অডিট আপত্তি উত্থাপনের প্রেক্ষিতে সংক্ষুব্ধ তিনটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

বাংলাদেশের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর অসাধুতার কোন সীমা-পরিসীমা নেই। দুর্নীতি-অনিয়মের পাশাপাশি তাদের অতি মুনাফার প্রবণতাও লক্ষণীয়। তদুপরি রয়েছে ওজনে কারচুপি, ভেজাল মেশানো, ফরমালিন জাতীয় ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সর্বোপরি ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং ইত্যাদি। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ক্রেতাসাধারণকে, তা যে দেশী-বিদেশী, যেই হোক না কেন, ঠকানোর জন্য তারা নিত্যনতুন পথ অবলম্বন করেন। ইতোপূর্বে চিংড়িতে ওজন বাড়ানোর জন্য পেরেক ও সীসা ঢোকানো, জেলি বা সাগু সিরিঞ্জের মাধ্যমে ঢোকানোর খবর পাওয়া গেছে। নির্দিষ্ট মাপ বা সাইজের ব্যাপারে ছোট-বড় মিশিয়ে দেয়ার বিষয়টি তো ডালভাত। তদুপরি রফতানিযোগ্য অধিকাংশ চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও আদৌ ভাল নয়, আন্তর্জাতিক মানসম্মত তো নয়ই। এ ব্যাপারে সর্বাধিক চিংড়ি আমদানিকারক গোষ্ঠী ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি বা অন্য কোন হিমায়িত খাদ্যপণ্য নেয়া দফায় দফায় বন্ধ করে দেয়। পরে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে বহু দেনদরবার ও চেষ্টা-তদবির করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা গেলেও দেখা যাচ্ছে যে, রফতানিকারকদের অসাধুতা তথা দুর্নীতি কমছে না কিছুতেই। এক্ষেত্রে সর্বশেষ সংযোজন বুঝি হিমায়িত চিংড়িতে নির্দিষ্ট সীমারেখার অতিরিক্ত বরফাচ্ছাদিত করে ওজন বাড়িয়ে সরকারী অর্থ সহায়তা আদায়। অন্যদিকে বিদেশী গ্রাহকদের সঙ্গে ওজনে কারচুপির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা। অবশ্য, রফতানিকারকরা একটি যুক্তি দেখান এই বলে যে, চিংড়ি একটি পচনশীল পণ্য। ফলে এর গুণগত মান অক্ষুণœ রাখার স্বার্থে গ্লেজিং বা পাতলা বরফের আস্তরণ দিতে হয়। তাই বলে মাত্রাতিরিক্ত? ওজনে কারচুপি ও নয়-ছয় দেখিয়ে অতিরিক্ত প্রণোদনা আদায়?

আসলে দেশের অধিকাংশ শিল্প কলকারখানা ও প্রক্রিয়াজাত ইউনিটগুলোতে মান নিয়ন্ত্রণের বালাই নেই বললেই চলে। অথচ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যেই মান নিয়ন্ত্রণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইএসও সনদ মানা বাধ্যতামূলক। খাদ্য ও ওষুধ জাতীয় পণ্যে এর নির্দেশনা আরও কঠোরভাবে পালন করা হয়। ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশ প্রায় স্বনির্ভর এবং বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে রফতানি হয় এ দেশের ওষুধ। কিছু দিন আগে ওষুধের গুণগতমান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। অচিরেই যে হিমায়িত চিংড়ি মাছ-মাংস, শাক-সবজি অথবা অন্য কোন পণ্য রফতানি নিয়ে গুণগতমানের প্রশ্ন উঠবে না, কে জানে? আর তাই সময় থাকতেই রফতানিকারকদের সতর্কতা অবলম্বন ও সাবধান হওয়া জরুরী। দুর্নীতি ও অসাধুতা কোন ব্যবসার অঙ্গ হতে পারে না।