২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

দিতির মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোক


দিতির মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোক

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতির মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং চলচ্চিত্রসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষরা। শোক জানিয়েছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি চিত্রনায়ক শাকিব খান, সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান, পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার এবং দিতির সহ অভিনয় শিল্পীরা। শোক জানিয়ে তারা বলেছেন দিতির মতো অভিনেত্রীর মৃত্যুতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তার মতো প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে খুব কমই আছে। দেশবরেণ্য এই চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর মস্তিষ্কে ক্যান্সারজনিত কারণে চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস এ্যান্ড ট্রামাটোলজিতে (এমআইওটি) ভর্তি হয়েছিলেন দিতি। প্রথম দফার চিকিৎসা শেষে ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। কিন্তু কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। অবস্থা অপরিবর্তিত থাকার কারণে গত বছরের ৩ নবেম্বর দ্বিতীয় দফায় তাকে চেন্নাই নেয়া হয়।

১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন দিতি। ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু এটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল আজমল হুদা মিঠু পরিচালিত ‘আমিই ওস্তাদ’। জীবদ্দশায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন দিতি। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ চলচ্চিত্রে আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ছোট পর্দায়ও দিতি ছিলেন নিয়মিত। অনেক একক নাটক, টেলিফিল্ম ও ধারাবাহিক নাটকে দেখা গেছে তাকে। এ ছাড়া রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছেন। গায়িকা হিসেবেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন দিতি। বেরিয়েছে তার একক এ্যালবামও। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রয়াত সোহেল চৌধুরীকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের ঘরে দুই সন্তান দিপ্ত চৌধুরী ও লামিয়া চৌধুরী। সোহেল চৌধুরী প্রয়াত হোন অনেক আগেই। সন্তানদের রেখে অবশেষে চলে গেলেন দিতিও। রবিবার বিকেল ৪-০৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আশির দশকের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা। দিতির মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের চীফ কমিউনিকেশন্স এ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট শাগুফতা আনোয়ার। দিতি কিছুদিন ধরে এখানে কোমায় ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে গতকাল গুলশানের আজাদ মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে তার লাশ হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ সকাল ১০-১২ পর্যন্ত তার লাশ তার গুলশানের বাসায় রাখা হবে। এরপর নিয়ে যাওয়া হবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: