২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বছরে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ থেকে বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশেরও বেশি অর্থ পাচার হয় বলে দাবি করেছেন বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান। তবে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, বছরে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশের সমান।

রবিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা: বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সংলাপে এই দুই অর্থনীতিবিদ এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসি) এ সংলাপের আয়োজন করে। ড. জাহিদ হোসেন তার বক্তৃতার সময় বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশের সমান। এর পরেই মোস্তাফিজুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের জন্য চিন্তার বিষয়-অর্থ পাচার হয়ে যাওয়া। এ বিষয়ে শেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৯০০ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। যা জিডিপির ৬ শতাংশেরও বেশি। তবে বিশিষ্ট এই বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে আর বিস্তারিত আলোচনা করেননি।

মোস্তাফিজুর রহমানের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর মোটা অঙ্কের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। গত অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে ৯০০ কোটি ডলার বা ৭২ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ হিসেবে) বিদেশে পাচার হয়েছে। যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশের সমান।

সংলাপে বক্তারা জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০৩০) টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের পথে অর্থ জোগান দেয়াই বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. জাহিদ হোসেন। তোফায়েল আহমদে বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রসার ঘটছে। সেই ধারাবাহিকতায় আফ্রিকায় শুল্কমুক্ত বাজার পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, রিজার্ভ আছে ২৮ বিলিয়ন, কৃষি খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ, সার্ভিস খাতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২৬ শতাংশ; পাশাপাশি রফতানি আয়ও বাড়ছে। বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। বাংলাদেশ মিরাকলের (অলৌকিক) মতো বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছে। জিএসপি সুবিধা না পাওয়ার সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দেখেছি বেসরকারী খাতে ৭ শতাংশ এবং সরকারী খাতে ১৩ শতাংশ ট্রেড ইউনিয়ন আছে। অথচ তারা বাংলাদেশে শতভাগ ট্রেড ইউনিয়ন চায়। আমি অনেক পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেছি। শ্রমিকেরা নিজের মুখে বলেছে ১০ হাজার টাকা বেতন পাই। আমাদের কর্মপরিবেশও ভাল। তবুও জিএসপি সুবিধা না পাওয়া দুঃখজনক। দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভাল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি গ্রামের মানুষ। গ্রামে রাস্তাঘাট ও কালভার্টও ছিল না। এখন অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। গ্রামগুলো নগরে পরিণত হয়েছে। মাতৃমৃত্যু হার ও গড় আয়ুতে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে। দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি।

অর্থনীতিবিদ মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দক্ষতা আমাদের বড় সমস্যা। প্রাতিষ্ঠানিক অদক্ষতার কারণে বাংলাদেশে ২ হাজার কোটি ডলার বৈদেশিক সাহায্য অব্যবহৃত রয়েছ। আর এ অর্থ আমরা ব্যবহারই করতে পারিনি। তিনি বলেন, বিনিয়োগ, অবকাঠামো সমস্যা নিয়ে অনেকে কথা বলছেন। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হলো দুর্নীতি। এ বিষয়টি কেউ বলছেন না। মূল প্রবন্ধে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেইন বলেন, সকল দেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) অর্জন করতে হলে প্রতিবছর বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রয়োজন ৫ থেকে ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এক্ষেত্রে ৫ ট্রিলিয়ন বিনিয়োগ হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ করতে হবে ১০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। আর বৈশিক বিনিয়োগ ৭ ট্রিলিয়ন হলে বাংলাদেশের বিনিয়োগ করতে হবে ১৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ আছে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ৫ ট্রিলিয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ঘাটতি রয়েছে ৫ হাজার কোটি ডলার এবং ৭ ট্রিলিয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ঘাটতি আছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা ড. মির্জা আজিজুল ইসলাম ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, ড. মুস্তফা কে মুজেরি, এমসিসিআইয়ের সভাপতি নাসিম মঞ্জুর, প্রাক্তন সভাপতি রোকেয়া আফজাল রহমান, ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বিটিএমএর সভাপতি তপন চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি এ কে আজাদ ও মীর নাসির হোসেন এবং ইউএনডিপি-বাংলাদেশের উপ-পরিচালক নিক ব্রেসফরড।