২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

খালেদা জিয়ার চারপাশে যারা রয়েছেন তারা বেঈমান!


শরীফুল ইসলাম ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চারপাশে যারা রয়েছেন তারা বেঈমান! জাতীয় কাউন্সিলের কর্ম অধিবেশনে খালেদা জিয়ার সামনেই এমন অভিযোগ উত্থাপন করেছেন এক কাউন্সিলর। বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের কাউন্সিলররা। কেউ কেউ বিগত দিনের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়া ও তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার জন্য সিনিয়র নেতাদের দায়ী করেন। এ ছাড়া কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত না করায় হতাশা ব্যক্ত করেন কেউ কেউ। কর্মঅধিবেশন শেষে খালেদা জিয়াকে সুবিধাজনক সময়ে নতুন কমিটি গঠনের পূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়।

বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুস অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার চারপাশে বেঈমান। এই বেঈমানদের কারণে তিনি রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। খালেদা জিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ম্যাডাম এই বেঈমানদের আপনার পাশে আর জায়গা দেবেন না। তিনি সংস্কারপন্থী নেতাদের কাছ থেকে খালেদা জিয়াকে সাবধান থাকতে বলেন। ঠাকুরগাঁও জেলা সাধারণ সম্পাদক তৈমুর রহমান কাউন্সিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিব নির্বাচিত না করায় হতাশা ব্যক্ত করেন।

কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তাদের বিচার করতে হবে। নেত্রী, যারা ১৫ দিনের মধ্যে সরকার পতন ঘটনোর কথা আপনাকে বুঝিয়েছিল আন্দোলনের পর তারা মাঠে তো ছিলই না। এমনকি তাদের মোবাইলও বন্ধ ছিল। তাদের বিচার করতে হবে।

কাউন্সিলররা খালেদা জিয়ার কাছে আরও অভিযোগ করেন, অতীতে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে আর এখন যারা কমিটির নামে বাণিজ্য করেন এমন সুবিধাবাদী কাউকে আমরা নতুন নেতৃত্বে চাই না। তারা বলেন, শুধু বিএনপির মহাসচিব চাই না, তাকে অভিভাবক হিসেবে চাই। কেন্দ্রে বসে কেবল নির্দেশ পাঠালে হবে না, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন কমিটিতে কোন বেঈমান, মীরজাফর চাই না। কেউ কেউ কাউন্সিলে গুম হওয়া নেতা ইলিয়াস আলীর নাম উচ্চারণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তারা আন্দোলনে ব্যর্থতার কারণগুলো সাংগঠনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা উচিত ছিল বলে দাবি করেন। তারা মহাসচিব পদেও নির্বাচন দাবি করেন।

নরসিংদী জেলা সভাপতি খায়রুল কবির খোকন অভিযোগ করেন। মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসির কর্মসূচীতে রাজধানীর নেতাকর্মীরা রাজপথে ছিলেন না। অনেক নেতা মোবাইল বন্ধ করে রেখেছিলেন। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী ঢাকায় এসে নেতাদের পায়নি। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে তৃণমূলের কমিটি চাপিয়ে দিলে হবে না। পকেট কমিটি করা যাবে না। কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূলে সম্মেলনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কালিয়াকৈরের বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবির খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, কমিটির নামে যে বাণিজ্য চলে, সেটি বন্ধ করেন। আর নির্বাহী কমিটিকে নিয়ে কার্যকর মিটিং না হলে সে কমিটির মূল্য নেই। এ কমিটির নাম লিমিটেড কোম্পানি হলেই ভাল।

টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বিএনপি নেতা খান মনিরুল বলেন, আমাদের নেতাদের মধ্যে একদল টিভিতে চেহারা দেখাতে ব্যস্ত। আরেক দল মুখোশধারী, বড় পদে আসীন। ঢাকায় এসে তাদের ফোন বন্ধ পাই, বাসায় গিয়েও দেখা পাই না। আরেক দল এখন আন্দোলনের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে পদের জন্য তদ্বির করছেন। এদেরকে নয়, তৃণমূল থেকে নেতা নিন।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত দশটা পর্যন্ত কর্মঅধিবেশন চলে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের কর্মঅধিবেশনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খালেদা জিয়া চেয়ারপার্সন, তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। এ দুটি পদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বে থাকা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার তাদের নাম ঘোষণা করলে কাউন্সিলররা একযোগে পাস পাস বলে সম্মতি দেন। এ ছাড়া দলের গঠনতন্ত্রের বেশ কটি ধারা সংশোধনের অনুমোদন নেয়া হয়। সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে এক নেতা একাধিক পদে না থাকা, ভাইস চেয়ারম্যান ১৭ জনের জায়গায় ৩৭ জন করা, দলের, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ১৫ থেকে বাড়ানো, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতি বিভাগে ১জন করে, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রতি বিভাগে ২ জন করে, ১০ভাগ পদ নারীর জন্য, মাসিক চাঁদা ৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০টাকা, ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক তৈরি ও দলের মিডিয়া উইং রাখা। এ ছাড়া রয়েছে ২৭টি বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি। আর খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করবেন।

রাতে খালেদা জিয়ার সমাপনী বক্তব্যের আগে এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দলের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা উল্লেখ থাকলেও আমরা এ দায়িত্ব চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে দিতে চাই। এ বিষয়ে তিনি কাউন্সিলরদের মতামত জানতে চাইলে কাউন্সিলররা খালেদা জিয়াকে দায়িত্ব দেয়ার ব্যাপারে কণ্ঠভোটে সম্মতি জানান।

এর আগে সমাপনী বক্তব্যে খালেদা বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা হ্যাকিং হয়নি, চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা চুরির বিষয়টি গবর্নর ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই জানতেন। প্রধানমন্ত্রী ছেলেকে বাঁচাতে গবর্নরকে বলির পাঁঠা বানিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে দেশে একটি নির্বাচন হবে।